SCORE

সর্বশেষ

শেষটা কি রাঙাতে পারবে বাংলাদেশ?

বাকি আর মাত্র একটি ম্যাচ। ফিরছেন তামিম, স্কোয়াড অপরিবর্তিত। আগের ম্যাচেই বোলারদের ব্যর্থতায় ম্যাচ হারতে হয়েছে। সেই ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ আর ৫ম ম্যাচে জয়, তারপর থেকেই জয়ের দেখা নেই। তাও, যেই শ্রীলঙ্কা কিছুদিন আগেও পাত্তা পেতোনা তাদের বিপক্ষেই। তাদের মাঠেই গত বছর সব ফরম্যাটের সিরিজ ড্র করেছিলো টাইগাররা। কিন্তু, এবার কি এমন হলো যে, জয় পাওয়াই দুষ্কর হয়ে উঠেছে? প্রশ্ন অনেক, তবে অন্তত একটি জয় দরকার শেষটা রাঙিয়ে দিতে। হারতে হারতে অসুখী এক পরিবারে সুখ ফিরিয়ে আনতে একটা জয়ের বিকল্প নেই।

রেকর্ড গড়ে জয় পেলো বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু, এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৩ রানের বিশাল জয়। এরপর আবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯১ রানের জয়। নতুন বছরে কি দারুণ শুরু! কিন্তু, তারপর থেকেই খেই হারানোর শুরু বাংলাদেশের। যেই শ্রীলঙ্কাকে বিশাল পরাজয় উপহার দিয়ে হাওয়ায় উড়ছিলো বাংলাদেশ, তারাই পরের দুই ম্যাচে (ফাইনালসহ) রীতিমত উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ জিতে নিলো। ১-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজও গেল এরপর। শেষ ভরসা টি-টোয়েন্টি, সেও হাতছাড়া হওয়ার পথে। প্রথম ম্যাচেই বিশাল রান করেও লজ্জাজনক পরাজয়। একঝাক তরুণকে অভিষিক্ত করে চমক দেখানো বাংলাদেশ দল নিজেই চমকে গেছে অমন পরাজয়ে।

Also Read - সিলেট ম্যাচের টসে বিশেষ কয়েন

নিজেদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা স্কোর (৫ উইকেটে ১৯৩ রান) গড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বোলারদের বাজে লাইন লেন্থে বোলিং সব ডুবিয়েছে। লঙ্কানরাও বেশ হেসেখেলে বিশাল টার্গেট জয় করেছে ২০ বল হাতে রেখে। মিরপুরের উইকেট বোলারদের জন্য সামান্যই ছিল। স্পোর্টিং উইকেটের নামে আসলে ব্যাটিং বান্ধব উইকেট ছিল সেদিন। লঙ্কান বোলারদের উপরও রান ঝড় বইয়ে দিয়েছেন সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদুল্লাহ। যদিও বাকি ব্যাটসম্যানদের অবস্থা ছিল সঙ্গিন। অভিষিক্ত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে জাকির হাসান ৯ বলে করেছিলেন ১০ রান। আফিফ হোসেন ২ বলে ০ রানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আউট হয়েছেন। আরেক অভিষিক্ত আরিফুল ১ বলে ১ রানে অপরাজিত ছিলেন। সাব্বির রহমান যে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন তা সেই ম্যাচে আবারো স্পষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টে তাকে দলে রাখার পক্ষে যে যুক্তি দেখিয়েছিলেন নির্বাচকরা, এখন নিশ্চয়ই তা নিয়ে আফসোস হবে তাদের। কিংবা কে জানে…।

অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের হাত ধরে ভাল স্কোর এলেও, বোলারদের অবস্থা ছিল আরও সঙ্গিন। যা একটু সফল অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল। ২৫ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট। বোলারদের মধ্যে নাজমুল ছাড়া বাকিদের বোলিং ছিল রীতিমত লজ্জাজনক। তরুণ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারছেন না। মিডিয়াম পেসার সাইফ ২ ওভারে দিয়েছিলেন ৩৩ রান। রুবেল হোসেন কিংবা মুস্তাফিজের মতো অভিজ্ঞদের বোলিং বড্ড অচেনা মনে হয়েছে। তাদের রান দেওয়ার হারও ওভারপ্রতি ১০ এর বেশি। ফলে দায়টা বোলারদের উপরই বর্তায়। কিন্তু, আসলেই কি তাই? নতুনদের উপর বেশি প্রত্যাশা থাকবেনা সেটাই স্বাভাবিক। দলে ঢুকেই জাদু দেখাবেন এমন আশা করা বৃথা। যদিও কদাচিৎ নতুনরা এসেই ইতিহাসে নাম লেখিয়ে ফেলেন। তবে সেসব অপ্রত্যাশিত ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও দেখল সর্প-নৃত্য!

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রায় ১২ বছরের অভিজ্ঞতা টাইগারদের। এই এক যুগে কি আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের? না, হয়নি। বরং, দলের যে মনোবল তাতে সব ফরম্যাটের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন সংশয় জাগে। জয়ের জন্য যে তৃষ্ণা তাই যেন উধাও এই দল থেকে। সেই টিম স্পিরিট এখন অদৃশ্য। সাকিব-তামিম ছাড়া এই দলটি কেমন যেন ছন্নছাড়া। সাকিবের ইনজুরিতে বিশাল শক্তিক্ষয় হয়েছে সন্দেহ নেই, সব ফরম্যাটেই তিনি মূল ভরসা দলের। তামিম দলের মূল ব্যাটিং স্তম্ভ। কিন্তু তাদের পক্ষে সব ম্যাচ খেলা সম্ভব নয়। তাছাড়া ইনজুরিতে পড়া ক্রিকেটে স্বাভাবিক ঘটনা। এই দুজন ব্যতীত দলের আর কেউ ম্যাচ উইনার হয়ে উঠতে পারছেন না। মুশফিক তার ছোট কাঁধে বিশাল চাপ বহন করছেন অনেকদিন। মাহমুদউল্লাহ মাঝে মাঝে জ্বলে উঠছেন। কিন্তু বাকিরা আসা-যাওয়ার মাঝেই আছেন। বোলারদের অবস্থা আরও খারাপ। রুবেলের সেই গতি আর লেন্থ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, মুস্তাফিজের সেই রঙ্গিন শুরুর ঝলক মিলিয়ে গেছে। ফলে এই দলের কাছে প্রত্যাশার জায়গাটাও এখন অনেক সংকীর্ণ হয়ে গেছে।

অনেকেই বলেন মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিক অবসর বা ইনজুরিতে পড়লে তাদের বিকল্প কই? আসলেই তো, আমাদের সাইড ব্যাঞ্চের অবস্থা খুবই নাজুক। নতুন খেলোয়াড় উঠে আসার পাইপলাইন কি আদৌ সমৃদ্ধ? তা যে নয়, তাতো দিবালোকের মতোই স্পষ্ট। সাকিব-তামিমের ইনজুরির কারণে স্কোয়াড মিলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নির্বাচকেরা। তার ফল দলে নতুনদের ছড়াছড়ি। ফল কি হলো তাতো দেখাই যাচ্ছে। একটা সোনালী প্রজন্মের এমন প্রায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ কেউই আশা করেনা। নতুনদের বাদ দিন, যারা গত কয়েকবছর দলে আছেন, যেমন সাব্বির, সৌম্য, লিটন, মিঠুন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেকদের মতো তরুণদের মাঝে কি আরেক তামিম-সাকিব আমরা খুঁজে পেয়েছি? তাহলে এই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনা তো হবেই।

যাই হোক, নেতিবাচক কথা বাদ দিয়ে এবার পরের ম্যাচ নিয়ে আশার কথা বলা যাক। দেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ফিরছেন আগামী ম্যাচে। সুসংবাদ বটে। ওপেনিংয়ে সৌম্য সরকার আগের ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন। ফর্মে আছেন মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ। ফলে ব্যাটিং নিয়ে তেমন ভাবনা নেই। কিন্তু বোলিং নিয় ভাবনার অবকাশ আছেই। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বোলারদের লাইনে থাকতে বলেছেন। প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ভাল লাইন আর লেন্থ বজায় রাখা খুবই জরুরী সেটা তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। সিলেটে হয়তো ভাগ্য খুলতে পারে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা আবু জায়েদ রাহীর। নাজমুল থাকছেন পরের ম্যাচেও এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তবে ব্যাটিং নিয়ে ভাবার তেমন কোন সুযোগ নেই। তবে সাব্বির যে কবে ফর্মে ফিরবেন তা এক রহস্য।

তবে সবচেয়ে বড় জরুরী বিষয় টিম স্পিরিট। সেই দক্ষিণ আফ্রিকায় সব ফরম্যাটেই ধবল-ধোলাইয়ের পর থেকেই দলের ভিতরে সেই দুর্দান্ত টিম স্পিরিটের অনুপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। দলের মধ্যে জয়ের সেই ক্ষুধা, ক্রিকেটারদের শরিরী ভাষা কিছুই আগের সাথে মিলছে না। শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ আমাদের সাবেক প্রধান কোচ। তিনি নিজেই বলেছেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই সফলতা পেয়েছেন তিনি। কিন্তু, বাংলাদেশওতো তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা। তা হয়নি, উল্টো টানা হারের ধাক্কায় বেসামাল বাংলাদেশ দল। দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনতো রীতিমত হতাশ হয়ে নিজের কাজটা আর চালিয়ে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

ভাবনার বাইরে মিরপুরের উইকেট!

আসলে মূল কোচবিহীন বাংলাদেশের মূল সমস্যা পরিকল্পনায়। এই দলকে ভাল একটা পরিকল্পনা তৈরি করে দিতে প্রয়োজন প্রধান কোচ, যা বিসিবি এখনো খুঁজে পায়নি। দলের এহেন পরিস্থিতে সবাইকে একসূত্রে গাঁথা খুবই জরুরী। তামিমের মতো সিনিয়র ক্রিকেটার দলে ফেরায় কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে। মূলত দলকে একসূত্রে গাঁথতে আর তরুণদের মাঝে ভয়ডরহীন ক্রিকেটের টোটকা একমাত্র সিনিয়র ক্রিকেটারদের পক্ষেই দেওয়া সম্ভব। আগের ম্যাচেই দেখা গেছে সিনিয়র ক্রিকেটারদের উপরই দায়িত্ব বর্তায়। কিন্তু, নতুনদের কাছ থেকেও কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট বের করতে না পারলে আরও একবার সিরিজ হারের লজ্জা থেকে বাঁচার উপায় দেখি না।

রোববার শেষ ম্যাচটি জিতে এই সিরিজ হারের লজ্জা থেকে নিশ্চয়ই বাঁচতে চাইবে বাংলাদেশ। আর সেজন্য বাঘের মতোই জয়ের ক্ষুধা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সিংহের বিপক্ষে বাঘের লড়াই, এমন উজ্জীবিত লড়াই দেখতে চাইবে ক্রিকেটভক্তরা। একটা জয় অনেক কিছুর শেষ টানতে পারে, অনেক কষ্ট বা ভার লাঘব করে দিতে পারে। টাইগারদেরও নিশ্চয়ই একই উপলব্ধি। সিলেটে প্রথমবার খেলবে টাইগাররা, শ্রীলঙ্কাও। ফলে দুই দলের কাছেই মাঠ নতুনের মতোই। যদিও, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানেই থাকবে, কেননা বিপিএলে এই মাঠেই অনেক ম্যাচ খেলেছে এই দলটির প্রায় সবাই। এখন প্রতীক্ষা সবার একসাথে জ্বলে উঠার, শেষটা রাঙাতে। পারবে তো টাইগাররা?

– মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক

 


আরও পড়ুনঃ টেস্ট ভেন্যুর মর্যাদা পেতে যাচ্ছে সিলেট

 

Related Articles

নতুন সূচিতে ‘এ’ দলের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ

বৃষ্টিতে পন্ড ‘এ’ দলের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি

পাকিস্তানকেই এগিয়ে রাখছেন আকরাম

‘এ’ দলের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বৃষ্টির বাধা

জুনিয়রদের দিকে তাকিয়ে নির্বাচকরা