শেষ ওভারের লড়াইয়ে জিতে সমতা ফেরাল উইন্ডিজ

ম্যাচ ছিল হাতের মুঠোয়। শেষ দুই ওভারে এসে খেই হারিয়ে ফেলায় মুঠোয় থাকা ম্যাচ বেরিয়ে গেল। তীরে এসে ডুবল তরী। এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিতের সুবর্ণ সুযোগ হারালো বাংলাদেশ

২৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক। শুরু থেকেই বিস্ফোরক ব্যাটিং করেন এনামুল। দ্বিতীয় ওভারে তার দুই বিশাল ছক্কা ও এক চারের সুবাদে রান হয় ২০।  ৯ বল টিকলেও ২৩ রান করেন তিনি। তৃতীয় ওভারে ৩৬ রানের মাথায় ডাউন দ্যা উইকেটে এসে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বোল্ড হন।

Advertisment
বিশুর-শিকার-হন-তামিম
৮৫ বলে ৫৪ রান করে বিশুর শিকার হন তামিম। ছবি- উইন্ডিজ ক্রিকেট

 

তামিম ইকবালকে নিয়ে হাল ধরেন সাকিব আল হাসান। দুজনই শুরুতে খেলতে থাকেন আগ্রাসী হয়ে। পঞ্চম ওভারেই দলীয় অর্ধশতক পূর্ণ হয় বাংলাদেশের।

তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৯৭ রানের জুটি। প্রথম দশ ওভারে ৭৯ রান সংগ্রহ করলেও ধীরে ধীরে রানের গতি কমে আসে বাংলাদেশের। স্পিন আক্রমণ এনে বাংলাদেশকে চেপে ধরে উইন্ডিজরা। প্রথম দশ ওভারে ৭৯ রান আসলেও পরের ১৫ ওভারে রান হয়েছে মাত্র ৫০। স্পিনাররা লাগাম ধরেন বাংলাদেশের রানের চাকার।

সাকিব-তামিমের জুটি ভাঙেন দেবেন্দ্র বিশু। এই লেগির প্রথম ওভারেই তাকে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিং হন তামিম। ৪২ তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। ৮৫ বলে করেন ৫৪ রান, মারেন ৬ টি চার। সাকিবকে ফেরান অ্যাশলে নার্স। দলীয় ১৪৫ রানের মাথায় নার্সের বলে পলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। ৫ চারে করেন ৭২ বলে ৫৬।

এরপর দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম।  নার্স-বিশু তাদেরকেও ভালোই ভোগান। তবে ক্রিজে থিতু হওয়ার পর খোলস থেকে বের হয়ে আসেন দুজন। রানের গতি বাড়িয়ে কমিয়ে আনেন আস্কিং রান রেট।

৮৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিক ও রিয়াদ। তাদের জুটিতে জয়ের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। রিয়াদ রান আউট হলে এ জুটি ভাঙে। মুশফিক ক্রিজ থেকে বের হতে পারেননি। রানের জন্য দৌড়ে এসে রান আউট হন রিয়াদ। ২ ছক্কায় ৫১ বলে ৩৯ রান করে ফিরে যান রিয়াদ।

এরপর ২৯ বলে ৪০ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। সাব্বিরকে নিয়ে ভালোই খেলছিলেন মুশফিক। ৪৮ তম ওভারে দুই চার মেরে ১২ বলে ১৪ রানের সহজ সমীকরণে নিয়ে আসেন মুশফিক। ৪৯ তম ওভারের প্রথম পাঁচ বলে রান আসে ছয়। শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সাব্বির ফিরে গেলে চাপে পরে যায় বাংলাদেশ।

শেষ ওভারে  দরকার ছিল ৮ রান। প্রথম বলে ফুলটস বলকে ছক্কা মারতে গিয়ে  আউট হন মুশফিক। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন টানা দুই বলে কোনো রান না নিতে পারলে বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ বের হয়ে যেতে থাকে। পরের দুই বলে তিন রান নেন মোসাদ্দেক। শেষ বলে  দরকার ছিল পাঁচ রান। মাশরাফি বিন মুর্তাজা এক রান নিলে তিন রানের জয় পায় উইন্ডিজরা।

এর আগে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তাজা। শুরু থেকেই মাশরাফি-মিরাজ আটকে রাখেন দুই ওপেনার ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে।

সপ্তম ওভারে ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মাশরাফি। প্রথম ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও লুইসকে সাজঘরে ফেরান মাশরাফি। মাশরাফির বলে লুইসের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে প্যাডে আঘাত হানলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ১২ রান করেন লুইস।

সাই হোপ আর গেইল দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ২৬ রানের জুটি। দলীয় ৫৫ রানের মাথায় গেইলকে ফেরান  মিরাজ। মিরাজের বলে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন গেইল। ৩ চার ও ১ ছয়ের সাহায্যে করেন ৩৮ বলে ২৯। হোপ থিতু হলেও বড় স্কোর গড়তে পারেননি। ৪৩ বলে ২৫ রান করে সাকিবের বলে ক্যাচ দেন সাব্বিরকে।

নিজের প্রথম ওভারেই দলকে উইকেট এনে দেন পেসার রুবেল হোসেন। রুবেলের বলে জেসন মোহামেদ ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিমকে।। ১২ রান করে তিনি বিদায় নিলে ১০৩ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে।

বড় জুটি গড়তে না দিয়ে  উইন্ডিজদের ব্যাকফুটে নিয়ে যায় বাংলাদেশের বোলাররা। সেখান থেকে স্বাগতিকরা ঘুরে দাঁড়ায় শিমরন হেটমেয়ার আর রোভম্যান পাওয়েলের জুটিতে ভর করে। দুজন মিলে দারুণভাবে সামলান বাংলাদেশের বোলারদের। সচল রাখেন রানের চাকা। রুবেলের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৪৪ রান করে বোল্ড হন পাওয়েল। ভাঙে ১০৩ রানের জুটি।  আবার খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। চার উইকেটে ২০৫ রান থেকে ২৪২ রানের মাথায় নবম উইকেট শিকার করে বাংলাদেশ।

পাওয়েলের উইকেটে পাওয়া ওভারেই হেটমেয়ারের ক্যাচ ফসকে যায় সাকিবের হাত থেকে,  হয় ছক্কা। ব্যাটিংয়ে এসে চড়াও হতে চাইলেও পারেননি উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার (৭)। সাকিবের বলে ছক্কা হাঁকানোর পরের বলে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে  স্টাম্পিং হন তিনি। এরপর নার্স মুস্তাফিজের বলে ও পল রুবেলের বলে সাজঘরে ফিরেন।

এক প্রান্ত আগলে রাখা হেটমেয়ার ৪৮ তম ওভারে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক হাঁকান। ঐ ওভারে বিশুকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ।

শতকের পর বিধ্বংসী হয়ে উঠা হেটমেয়ার রুবেলের করা ৪৯ তম ওভারের প্রথম দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকান।  খরুচে ঐ ওভারে ২২ রান সংগ্রহ করে উইন্ডিজরা।

শেষ ওভারে মুস্তাফিজের বলেও ছক্কা হাঁকান হেটমেয়ার। ৩ চার ও ৭ ছক্কায় ৯৩ বলে ১২৫ রান করে হেটমেয়ার রান আউট হলে উইন্ডিজদের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
উইন্ডিজ ২৭১/১০, ৪৯.৩ ওভার
হেটমেয়ার ১২৫, পাওয়েল ৪৪, গেইল ২৯
রবুএল ৩/৬১, মুস্তাফিজ ২/৪৪, সাকিব ২/৪৫

বাংলাদেশ ২৬৮/৬, ৫০ ওভার
মুশফিক ৬৮, সাকিব ৫৬, তামিম ৫৪
নার্স ১/৩৪, বিশু ১/৩৯, পল ১/৪৩