Scores

শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে সিলেটকে জেতালেন খালেদ

জাতীয় ক্রিকেট লিগে রজাশাহীতে টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ঢাকা মেট্রোকে তিন রানে হারিয়েছে সিলেট বিভাগ। ম্যাচের চতুর্থ দিনে খেলা ছিল ঢাকা মেট্রোর অনুকূলেই। তবে আগুন ঝড়ানো বোলিং করেছেন খালেদ আহমেদ। পাঁচ উইকেট শিকার করে সিলেট বিভাগকে এনে দিয়েছেন তিন রানের রোমাঞ্চকর জয়। 

শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে সিলেটকে জেতালেন খালেদ
দুই ইনিংসেই ১৪ রান করে আউট হয়েছেন আশরাফুল। হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ হাতছাড়া করেছে তার দল।

১ উইকেটে ২৮ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে ঢাকা মেট্রো। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ১৬৯ রান। ক্রিজে ছিলেন শামসুর রহমান ও সাদমান ইসলাম। দিনের শুরুটা বেশ শক্ত হাতেই করেন শামসুর রহমান ও সাদমান ইসলাম। দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। তাদের ৬০ রানের জুটি ভাঙেন খালেদ আহমেদ। দলীয় ৭৭ রানের মাথায় খালেদ আহমেদের বলে শামসুর রহমান ক্যাচ দেন রাজিন সালেহর হাতে। ৪ চারে ৫৮ বলে ২৯ রান করে সাজঘরে ফিরেন শামসুর রহমান।

এরপর  মার্শাল আইয়ুবকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি খালেদ আহমেদ। ৯১ রানের মাথায় অধিনায়ক মার্শাল ফিরে যান শাহানুরের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ৮ রান করেন তিনি। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও মোহাম্মদ আশরাফুল ব্যর্থ হন বড় স্কোর গড়তে।  ১৪ রান করে বোল্ড হন ইবাদত হোসেনের বলে। আশরাফুলের বিদায়ের পরের ওভারে মেহরাব হোসেন জুনিয়রকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন খালেদ। ১১৯ রানে পাঁচ উইকেট ফেলে দিয়ে সিলেট বিভাগকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন খালেদ-ইবাদত।

Also Read - কোহলিকে মুশফিকের 'স্যার' উপাধি


এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ষষ্ঠ উইকেটে তিনি হাল ধরেন জাবিদ হোসেনকে সাথে নিয়ে। ৫৯ রানের জুটি গড়েন জাবিদ ও সাদমান। তাদের জুটিতে ম্যাচ অনেকটাই ঢাকা মেট্রোর দিকে হেলে পড়ে। ১৭৮ রানের মাথায় এ জুটি ভাঙেন এনামুল হক জুনিয়র। ৭৮ রান করে এনামুল জুনিয়রের বলে বোল্ড হন সাদমান। তার ইনিংসে ছিল ১০ চার।

১৮৫ রানের মাথায় কাজী অনিককে শাহানুর ফিরিয়ে দিলে ম্যাচ জমে উঠে। এরপর রানের খাতা খোলার আগেই আসিফ হোসেনকে ফিরিয়ে দেন খালেদ আহমেদ। জেগে উঠে সিলেট বিভাগের সম্ভাবনা। দুই উইকেটে তখন ঢাকা মেট্রোর প্রয়োজন  নয় রান। পরের ওভারে শহিদুল ইসলামকে ফেরান এনামুল হক জুনিয়র। এক উইকেটে তখন আট রান প্রয়োজন ঢাকা মেট্রোর। ঐ ওভারে বাই থেকে তিন রান পায় ঢাকা মেট্রো।

পরের ওভারে আরাফাত সানিকে এলবিডব্লিউ করে সিলেট বিভাগকে তিন রানের জয় এনে দেন খালেদ আহমেদ। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও খালেদ আহমেদ পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। শেষ পাঁচ উইকেটে মাত্র ১৫ রান করে হাতের মুঠোতে থাকা ম্যাচ হাতছাড়া করে ঢাকা মেট্রো।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ইনিংসে সিলেট বিভাগ করেছিল ৩১২ রান। ৬০ রান করেছিলেন শানাজ আহমেদ। এছাড়া অর্ধশতক হাঁকান শানাজ আহমেদ এবং শাহানুর রহমান। দুইটি করে উইকেট নেন কাজী অনিক, আসিফ হোসেন, আরাফাত সানি এবং মোহাম্মদ আশরাফুল

জবাব দিতে নেমে ৩০০ রান করে ঢাকা মেট্রো। ৭৪ রান করে মার্শাল আইয়ুব। এছাড়া ৬৩ রানের ইনিংস আসে শামসুর রহমানের ব্যাট থেকে। পাঁচ উইকেট শিকার করেন খালেদ আহমেদ। ১২ রানের লিড পাওয়া সিলেট বিভাগ দ্বিতীয় ইনিংসে করে ১৮৪ রান। সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন এনামুল হক জুনিয়র। পাঁচ উইকেট শিকার করেন কাজী অনিক। তিন উইকেট নেন শহীদুল ইসলাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ সিলেট বিভাগ ৩১২/১০, প্রথম ইনিংস (৯৮ ওভার)
শানাজ ৬০, শাহানুর ৫৪, জাকির ৫০
আসিফ ২/৪৩, অনিক ২/৬১, আরাফাত ২/৬৩

ঢাকা মেট্রো ৩০০/১০, প্রথম ইনিংস (৮৭ ওভার)
মার্শাল ৭৪, শামসুর ৬৩, জাবিদ ৪৩
খালেদ ৫/৮৫, শাহানুর ২/৪৪, ইবাদত ১/২৩

সিলেট বিভাগ ১৮৪/১০, দ্বিতীয় ইনিংস (৬৩.২ ওভার)
এনামুল জুনিয়র ৩৬, শামসুর ২৭, জাকির ২৬
অনিক ৫/৫৭, শহিদুল ৩/২৯, আশরাফুল ১/২৯

ঢাকা মেট্রো ১৯৩/১০, দ্বিতীয় ইনিংস (৪৮.২ ওভার) লক্ষ্যঃ ১৯৭ রান
সাদমান ৭৮, শামসুর ২৯, জাবিদ ২৮
খালেদ ৫/৫৪, এনামুল জুনিয়র ২/৮,  ইবাদত ২/৪৭


আরো পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ব্রাভোর বিদায়


 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

‘যুদ্ধ’ জয়ের পর বল হাতে নিলেন মোশাররফ রুবেল

বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এনসিএলে অংশগ্রহণ!

সম্ভাবনা তৈরী করেও পারলেন না এনামুল

জাতীয় ক্রিকেট লিগে ব্যাটে-বলের সেরা পাঁচ

রানার্স আপ হলো রংপুর বিভাগ