SCORE

শ্রীলঙ্কাই জিতল ত্রিদেশীয় সিরিজ

ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা শেষমেশ উঠল শ্রীলঙ্কার হাতেই, যারা আসরের প্রথম দুই ম্যাচের পর ছিল সবচেয়ে ব্যাকফুটে থাকা দল। ‘হোম অব ক্রিকেট’ খ্যাত মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ৭৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে দলটি।

'ফাইনালের আগে এটি সতর্কবার্তা'

২২২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে এদিন দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেনি সিরিজের প্রথম দিন ম্যাচে দাপট দেখানো বাংলাদেশ। জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৪২ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস, ফলে লঙ্কানরা পায় ৭৯ রানের জয়।

Also Read - প্রায় ২ সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে সাকিবকে!

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা হয়নি প্রত্যাশা অনুযায়ী। দলীয় ৮ রানেই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে দানুশকা গুনাথিলাকা। এরপর বাংলাদেশি বোলারদের মনে কিছুটা ত্রাসের যোগান দিলেন কুশাল মেন্ডিস, ৯ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। তবে দলীয় ৪২ রানের মাথায় তিনিও ফিরেন সাজঘরে, টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে মাহমুদউল্লাহ্‌ রিয়াদের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে।

ততক্ষণে ধীরে ধীরে ব্যাট চালাতে থাকা উপুল থারাঙ্গা ম্যাচের মেজাজ বুঝে এগোতে থাকলেন দেখে-শুনে। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন নিরোশান ডিকওয়েলা। তৃতীয় উইকেটে দুজনে ৭১ রান যোগ করার পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে সাব্বির রহমানের তালুতে বন্দী হয়ে ৫৭ বলে ৪২ রান করা ডিকওয়েলা প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। অধিনায়ক দীনেশ চান্দিমালের সাথে ৪৫ রানের পার্টনারশিপ গড়ার পর উইকেট হারান ৯৯ বলে ৫৬ রানের ধীর ইনিংস খেলা থারাঙ্গা। তাকে সাজঘরে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের ৫০তম উইকেটের দেখা পান মুস্তাফিজুর রহমান।

৪ উইকেট হারানোর পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দুইশ রানের গণ্ডি পেরোনোর আগেই আরও দুটি উইকেট হারায় দলটি। ৭৪ বলে ৪৫ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলা অধিনায়ক চান্দিমালের বিদায়ের পর শ্লথ হয়ে যায় লঙ্কানদের রানের গতিও। শেষদিকে কোনো ব্যাটসম্যান মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। আর এতে বড় অবদান রুবেল হোসেনের। তার ক্ষুরধার বোলিংয়েই শ্রীলঙ্কা হারিয়েছে চারটি উইকেট। এছাড়া দুটি উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজ। মিরাজ ও সাইফউদ্দিনের মতো একটি উইকেট শিকার করেন মাশরাফিও।

নির্ধারিত ৫০ ওভার ব্যাট করলেই ইনিংসের শেষ বলে ১০ম উইকেট হারানোয় অলআউটের তকমা লাগে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের গায়ে। আর পুরো ইনিংসে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২১ রান।

শ্রীলঙ্কার ২২১ রানের ছোট স্কোরের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশেরও। ফর্মে থাকা ওপেনার তামিম ইকবাল দলীয় ১১ ও ব্যক্তিগত ৩ রানের (১৮ বল) মাথায় ফিরে গেলে চাপ ভর করে স্বাগতিক দলের উপর। তাকে আকিলা ধনঞ্জায়ার ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরে ফেরান দুশমন্থ চামিরা। এনামুল হক বিজয়ের পরিবর্তে একাদশে আসা মোহাম্মদ মিঠুনও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ২৭ বলে ১০ রান করে পেরেরার থ্রোতে রানআউট হন তিনি। দ্রুত ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ৩য় উইকেট হারিয়ে বসে দলীয় ২২ রানে, চামিরার দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাব্বির রহমান আসেলা গুনারত্নের হাতে ক্যাচ তুলে দিলে।

চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশকে আলোর পথ দেখান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ্‌ রিয়াদ। দুজনের ৭৮ রানের জুটিতে ভর করে বাংলাদেশ যখন ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন শ্রীলঙ্কার পক্ষে কার্যকরী আঘাতটা আনেন ধনঞ্জয়া। উপুল থারাঙ্গার ক্যাচে পরিণত করে ৪০ বলে ২২ রান করা মুশফিককে তিনি দেখান প্যাভিলিয়নের পথ। দলীয় ৯০ রানে ধনঞ্জয়াই ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজকে (৫)। একশ রান পেরোনোর আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে রীতিমতো ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

তবে এরপরও চেষ্টা চালিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ্‌। ষষ্ঠ উইকেটে সাইফউদ্দিনকে নিয়ে তিনি স্কোর-বোর্ডে যোগ করেন ৩৭ রান। সাইফউদ্দিন একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন, আর মাহমুদউল্লাহ্‌ সচল রাখছিলেন রানের চাকা। কিন্তু দুজনের ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে দলীয় ১২৭ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন সাইফউদ্দিন। এর পরপরই সাজঘরে ফেরেন মাশরাফি ও রুবেল। মুস্তাফিজকে অপরাজিত রেখে ৯২ বলে ৭৬ রান করা মাহমুদউল্লাহ্‌ মাদুশাঙ্কার বলে আউট হয়ে গেলে ম্যাচ শেষ হয় ওখানেই। ইনজুরি আক্রান্ত সাকিব ব্যাট হাতে না নামায় শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৪২ রানে।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে শেহান মাদুশাঙ্কা তিনটি এবং দুশমান্থ চামিরা ও আকিলা ধনঞ্জয়া দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা ২২১/১০ (৫০ ওভার)

বাংলাদেশ ১৪২/৯ (৪১.১ ওভার)

ফল- শ্রীলঙ্কা ৭৯ রানে জয়ী।

আরও পড়ুনঃ আইপিএলে মুস্তাফিজের দাম ২ কোটি ২০ লাখ

Related Articles

ত্রিদেশীয় সিরিজের আফসোস এখনও পোড়ায় মাশরাফিকে

টি-টোয়েন্টিতে ফিরতে চান সাকিব

‘মুশফিক প্রিয় ক্রিকেটার, রুবেল ভালো বন্ধু’

দায়টা কি শুধুই গামিনীর?

মাশরাফিকে জরিমানা