শ্রীলঙ্কার জয়ে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার অবনমন

লাহিরু থিরিমান্নেকে আউট করে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের উল্লাস। যদিও ম্যাচে মাত্র একবারই এমন উল্লাসের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

Advertisment

নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের আগে পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩য়, শ্রীলঙ্কার ৪র্থ। মাঠের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গেছে বাংলাদেশ, আর তাতে ওলটপালট হয়ে গেছে ‘এ’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিল।

৯২ রানের বড় হারে পয়েন্ট বাংলাদেশ নির্ধারিতের চেয়ে বেশী হারায়নি, ২ পয়েন্টই খুইয়েছে, তবে রানরেট কমে গেছে বেশ খানিকটা। অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর যে রানরেট ছিল +২.১০০, সেটি এখন কমে হয়েছে +০.১৩০। এক জয়েই পয়েন্ট টেবিলে লাফ দিয়ে ৪র্থ থেকে ২য় স্থানে উঠে গেছে লঙ্কানরা, স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ঠেলে দিয়েছে ৩য় স্থানে। আর এক ধাপ অবনমিত হয়ে বাংলাদেশ এখন আছে তালিকার ৪ নাম্বারে।

‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের (লাল চিহ্নিত) অবস্থান- সূত্রঃ ক্রিকইনফো
‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের (লাল চিহ্নিত) অবস্থান- সূত্রঃ ক্রিকইনফো

যদিও শ্রীলঙ্কার রানরেট বাংলাদেশ থেকে কম। এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারটা ছিল বড় ব্যবধানের, এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততেও ঘাম ছুটোতে হয়েছে। ২য় স্থানে থাকলেও রানরেট এখন ০.০৪৭। অবশ্য অস্ট্রেলিয়া সুযোগ পাচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে পিছনে ফেলার। গ্রুপের অন্য সব দলের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা অস্ট্রেলিয়া নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে (৪ মার্চ) জিতলেই আবারও উঠে যাবে পয়েন্ট টেবিলের ২য় স্থানে। সেক্ষেত্রে আবারও ৩য় স্থানে নেমে যাবে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের অবস্থান থাকবে অপরিবর্তিতই।

কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সুবর্ণ সুযোগ ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি। এই ম্যাচ জিতলে শেষ আটে জায়গা করাটা অনেকটাই সহজ হয়ে যেত। অবশ্য সামনের ম্যাচগুলোতে শক্তিমত্তার দিক দিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল স্কটল্যান্ডের পাশাপাশি উড়তে থাকা নিউজিল্যান্ড বা ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ডের যেকোনো একদলকে হারালেও অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। তবে কিছু ‘যদি-কিন্তু’ আছে এখানেও, এক্ষেত্রে ইংল্যান্ডকে জয়বঞ্চিত থাকতে হবে নুন্যতম একটি ম্যাচে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারটা আরেকটু কম ব্যবধানে হলে রানরেট বাড়তি থাকত, এতে সামনের ম্যাচগুলোতে কোচ-খেলোয়াড়দের চাপ থাকত কম। অবশ্য সমান ম্যাচ খেলে (অস্ট্রেলিয়া ছাড়া) চারটি ধনাত্মক রানরেটের অধিকারী দলের মধ্যে ৪র্থ হয়ে থাকাটাও কম তৃপ্তিদায়ক নয়। কোয়ার্টার ফাইনালের পথে বাংলাদেশের মূল প্রতিপক্ষ এই মুহূর্তে -১.৪১৫। সবচেয়ে চমক জাগানিয়া খবর- শ্বাসরুদ্ধকর ঐতিহাসিক ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ১ উইকেটের জয় ইংল্যান্ডকে ঠেলে দিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের ৬ষ্ঠ স্থানে! ইংল্যান্ডের পিছনে এখন শুধুই কোনো ম্যাচ না জেতা স্কটল্যান্ড।

বাজে ফিল্ডিং আর অপরিকল্পিত ব্যাটিং প্রদর্শনী না হলে আজকের ম্যাচেও জয়ী দলের নাম থাকত বাংলাদেশ। মাশরাফি ২য় মেয়াদে অধিনায়ক হওয়ার পর টানা ৬টি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচটি হিসেব করলে অপরাজিত ছিল টানা ৭ ম্যাচে। প্রথম হারের মুখ দেখে টানা সাফল্যে ছেদ পড়লো মাশরাফির নেতৃত্বাধীন দলের।

কখনও কখনও নিজের সাফল্যের পাশাপাশি অপরের ব্যর্থতারও প্রয়োজন পড়ে। গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দৃষ্টিকটু হার বাংলাদেশকে ছিটকে দিয়েছিল গ্রুপপর্ব থেকেই। এবার প্রতিশোধের ব্যাপারটা তো আছেই, কোয়ার্টার ফাইনাল সহজ করতে ইংল্যান্ড যত ম্যাচ হারবে ততই লাভ বাংলাদেশের। আপাতত সে কামনাই সবার, বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালের আশা যে এখনও বেশ প্রবল…