শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলের ফিল্ডিংয়ে হতাশ ফিল্ডিং কোচ

বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসল
বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসল

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টাইগারদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কাজ শুরুর আগে দলের ফিল্ডিংয়ে অবস্থা বাজে ছিল, প্রথম মিশনেও খুব একটা ভালো করতে পারেননি। তবে বছরের শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দারুণ সাফল্যে তাঁর শিখিয়ে দেওয়া ফিল্ডিংমন্ত্রও বেশ কাজে দিয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের ফিল্ডিং পারফরমেন্স দেখে হতাশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসল।

Advertisment

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে সোমবার নেলসনে অনুশীলন করে বাংলাদেশ দল। অনুশীলনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ হতাশা প্রকাশ করেন হ্যালসল,’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে আমি খুবই হতাশ। অধিনায়কও বলেছে, ফিল্ডিং ব্যর্থতার কারণেই হেরে গেছে বাংলাদেশ। সুযোগ সৃষ্টি করেও আমরা তা কাজে লাগাতে পারিনি।’ তবে বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি বলছেন, ‘আমার মনে হয়, কোনো কোনো ম্যাচে আসলে এমনটা হয়েই যায়। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো- একটি সুযোগ মিসের পর ফিল্ডাররা পরের সুযোগটির জন্য কতটা সজাগ থাকে।’

সোমবারের অনুশীলনে ব্যাটিং বোলিংয়ের চেয়ে ফিল্ডিংয়েই বেশী মনোযোগ ছিল মাশরাফি বাহিনীর। প্রচেষ্টা আর ইচ্ছার মিশ্রণের সফল প্রতিফলন ঘটিয়ে শিষ্যদের কাছ থেকে ভালো ম্যাচ আশা করছেন হ্যালসল, ‘পরের ম্যাচের জন্য আমাদের খেলোয়াড়রা প্রস্তুত। সবাই ভালো করতে চায়। পরের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, সবাই নিজেদের সেরাটা দেবে।’

শুরু থেকেই টসজয়ী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাজে ফিল্ডিং খেলোয়াড়দের মনোযোগের ঘাটতি সৃষ্টি করেছিল বলে মনে করেন এই কোচ, ‘প্রথম ম্যাচে সুযোগ মিসের পর খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা কিছুটা হলেও বাজে হয়ে গিয়েছিল। বিশ্বকাপ অনেক বড় মঞ্চ, এখানে অনেক কিছুই করার তবে হ্যালসল আশাবাদী কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া ব্যাপারেও, ‘শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে আমরা দারুণ একটি অবস্থানে চলে যেতে পারতাম। বর্তমান পর্যায়ে আমাদের জন্য ৩ ম্যাচের ২টিতে জয় পেতে হবে। আশা করি, আমরা তা পারব এবং কোয়ার্টার ফাইনালে খেলব। দলের সবাই নিজেদের উজাড় করে দিতে মুখিয়ে আছে।’

প্রতিপক্ষের ইনিংসে শুরুতেই ব্রেক থ্রু ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করেন হ্যালসল। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালের শেষ পর্যায়ে ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা ও সাহস দেন এই অস্ট্রেলিয়ান, ‘আমরা দলকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করেছি। সবাইকে বুঝিয়েছি, মাঠে যখন তোমরা খেলবে, ভাববে তোমরাই বাংলাদেশ; মাঠে একসঙ্গে ১১ জন বাংলাদেশী খেলছ। পাশাপাশি এটাও মনে রাখবে, যারা তোমাদের দেখছে তারা কিন্তু বাংলাদেশকেই দেখছে।’