উড়লেন তামিম, উড়লো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স

0
1508

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ আসরের শিরোপা জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তামিম ইকবালের দুর্দান্ত শতকের ইনিংসে ভর করে শুক্রবারের ফাইনাল ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১৭ রানে হারায় দলটি।

Advertisment

বিপিএলের ইতিহাসে এটি দলটির দ্বিতীয় শিরোপা। এর আগে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে তৃতীয় আসরের শিরোপা জিতেছিল দলটি। এবারের শ্রেষ্ঠত্বের নেতৃত্বে ছিলেন স্টিভ স্মিথ ও ইমরুল কায়েস।

টস জিতে এদিন প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা ডায়নামাইটসের বোলারদের সামনে কোণঠাসা হয়ে পড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তবে ধীরে ধীরে সেই চাপ কাটিয়ে ওঠেন ওপেনার ও আইকন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। আরেক ওপেনার এভিন লুইসকে হারানোর পর ক্রিজে আসা এনামুল হক বিজয় ২৪ রান করলেও তাকে মোকাবেলা করতে হয় ৩০টি ডেলিভারি। যদিও তামিমের যোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠে দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দেওয়ার পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল তারও।

তবে বিজয়ের বিদায়ের পরপরই শামসুর রহমান শুভও বিদায় নেন। কিন্তু দলকে পথ হারাতে দেয়নি তামিমের ব্যাটিং। তার মারকুটে ব্যাটিং এদিন বিনোদন দিয়েছে নিখাদ ক্রিকেটপ্রেমিদের। ঢাকা ডায়নামাইটসের বোলাররা এই বাঁহাতি অপেনারের সামনে ছিলেন অসহায়। মাত্র ৫০ বলেই তামিম পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। তার পাশে এদিন ইমরুল কায়েস ছিলেন ছায়া হয়ে। গ্যালারির দর্শকদের মত তিনিও অবশ্য উপভোগ করেছেন সতীর্থের ব্যাটিং।

নির্ধারিত ২০ ওভার পর্যন্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে আর কোনো উইকেট হারাতে হয়নি। ৩ উইকেট হারিয়ে কুমিল্লার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৯ রান, যাতে তামিমের একারই ১৪১! ১৪১ রানের দানবীয় এই ইনিংস খেলতে তামিমকে মোকাবেলা করতে হয়েছে মাত্র ৬১ বল। ৫০ বলে হাঁকানো শতকটি যেকোনো বাংলাদেশির দ্রুততম শতক, যার মাধ্যমে ভেঙেছেন নিজের রেকর্ডই।

তার এই ব্যাটিংয়ে ষষ্ঠ বিপিএল প্রথমবারের মত বাংলাদেশি ক্রিকেটারের শতক দেখেছে, যথারীতি বিপিএলের ফাইনালও। কয়েকটি রেকর্ড গড়া তামিম ঢাকার বোলারদের হাঁকিয়েছেন ১০টি চার। ছক্কার সংখ্যা চারের চেয়েও বেশি- ১১টি! তামিমের সঙ্গী ইমরুল ২১ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

ঢাকা ডায়নামাইটসের পক্ষে একটি করে উইকেট শিকার করেন সাকিব আল হাসান ও রুবেল হোসেন। জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই সাজঘরে ফেরেন সুনীল নারাইন। তবে দলের বিপর্যয় ঘটতে দেননি উপুল থারাঙ্গা ও রনি তালুকদার। দ্বিতীয় উইকেটে ১০২ রান যোগ করে দুজনে দলকে দিচ্ছিলেন জয়ের আভাস।

তবে থারাঙ্গার বিদায়ের পরই ঘটে ছন্দপতন। ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সহায়তায় ২৭ বলে ৪৮ রান করা থারাঙ্গা বিদায় নেওয়ার পর মাত্র ৩ রান করে ফেরেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। অর্ধ-শতক হাঁকালেও সাজঘরে ফেরেন রনি তালুকদারও। ৩৮ বলে ৬টি চার ও ৪তি ছক্কার সাহায্যে আউট হওয়ার আগে রনি করেন ৬৬ রান। তার বিদায়ের পর আন্দ্রে রাসেল ও কাইরন পোলার্ডকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখালে ম্যাচে ফেরে কুমিল্লা।

শেষদিকে নুরুল হাসান সোহান ও মাহমুদুল হাসান চেষ্টা করলেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ঢাকা ডায়নামাইটসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮২ রান। ফলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স পায় ১৭ রানের জয়, যা দলটিকে এনে দেয় শিরোপার ছোঁয়া।

 

ঢাকার পক্ষে রনি ও থারাঙ্গা ছাড়া কারও রানই ২০ এর ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। কুমিল্লার পক্ষে ওয়াহাব রিয়াজ একাই শিকার করেন তিনটি উইকেট। এছাড়া থিসারা পেরেরা দুটি ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একটি উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

টস: ঢাকা ডায়নামাইটস

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১৯৯/৩ (২০ ওভার)

তামিম ইকবাল ১৪১*, এনামুল হক বিজয় ২৪

সাকিব আল হাসান ৪৫/১, রুবেল হোসেন ৪৮/১

ঢাকা ডায়নামাইটস ১৮২/৯ (২০ ওভার)

রনি তালুকদার ৬৬, উপুল থারাঙ্গা ৪৮,

নুরুল হাসান ১৮ ওয়াহাব রিয়াজ ২৮/৩, থিসারা পেরেরা ৩৫/২

ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১৭ রানে জয়ী।