সবাই জান প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছে বলেই জিতেছিঃ মাশরাফি

২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-আফগানিস্তান প্রথম একদিনের ম্যাচে হারার মুখ থেকে ফিরে টাইগাররা জিতেছে মাত্র ৭ রানে। আর এমন জয়ে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

14454031_10206906009479683_1162740726_o

Advertisment

সোমবার জাগো নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ নিয়ে কথা বলেন মাশরাফি। অনেক প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ম্যাচে টাইগাররা শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে। আর এই জয়কে বড় দলের সাথে জয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই জয় সত্যিই আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ধরনের জয় অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠিত শক্তির বিপক্ষে জয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়।”

এর আগে অনেক ম্যাচে জয়ের কাছাকাছি গেলেও অভিজ্ঞতার কাছে বড় দলগুলোর কাছে হার মানতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এখন চিত্র বদলে গেছে। উন্নতির গ্রাফটি উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, “দেখুন, দু’বছর আগেও কিন্তু আমরা এমন ধরনের পরিস্থিতিতে ম্যাচ হেরে যেতাম। পরিস্থিতি যখন দেখতাম অনুকূলে নেই, তখন অনেকটা নিরাশই হয়ে লড়াই থেকে ছিটকে যেতাম; কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। দীর্ঘদিন জিততে জিততে আমাদের মধ্যে জয়ের যে বাসনা তৈরি হয়েছে তারই প্রতিফলন এটা। শেষ পর্যন্তও আমরা হাল ছেড়ে দিইনি। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করেছি। জয়ের যে অভিজ্ঞতা আমাদের অর্জিত হয়েছে, দীর্ঘদিন খেলার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সে কারণেই আমরা এমন পরিস্থিতিতে এই জয়টি পেয়েছি।”

আফগানদের ৪৬ রানে দুই উইকেটের পতন ঘটলেও এরপর রহমত শাহ ও শাহিদি মিলে ১৪৪ রানের পার্টনারশিপ করে ম্যাচ বাংলাদেশের কাছ থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে ম্যাচ জেতার ব্যাপারে পুরোপুরি বিশ্বাস না থাকলেও মাশরাফি জানতেন ম্যাচ অনেক প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ হবে। তাই নিজের পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছিলেন। ৪৭ তম ওভারে সাকিবের বলেই ম্যাচ অনেকটা পাল্টে যায়। এপ্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, “এটা ঠিক রহমত শাহ আর হাসমতউল্লাহ শাহিদি জুটি জমে গিয়েছিল। আমরা খানিক ব্যাকফুটেই চলে গিয়েছিলাম। তবে বিশ্বাস করেন, জিতবো, মনে এমন বিশ্বাস পুরোপুরি না থাকলেও আমার একটা ধারনা ছিল, যে খেলায় ফাইট হবে। ম্যাচ শেষ দিকে ক্লোজ হবে। তাই আমি সাকিবের ১ ওভার রেখে দিয়েছিলাম। এর পিছনে কারণ একটাই। তাকে এমন সময় ব্যবহার করাবো যখন হয় ম্যাচ আমাদের দিকে ঝুঁকেবে। না হয় আফগানদের হাতে চলে যাবে। তা ভেবে ৪৭ নম্বর ওভারে সাকিবের হাতে বল তুলে দেয়া। তখন তাদের ২৪ বলে প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। সাকিব অসাধারণ বোলিং করে মাত্র ১ রান দেয়ায় আফগানদের ওভার পিছু রান তোলার টার্গেট বেড়ে যায়। আর আমরাও বাড়তি সাহস পাই। উদ্যম বেড়ে যায়।”

অনেক প্রত্যাশা থাকলেও অপেক্ষাকৃত দুর্বল আফগানদের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের জন্য দীর্ঘ বিরতির কথা বলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক, ” বিচলিতও হবারও কিছু নেই। কেন আমরা নিজেদের সামর্থের সেরাটা উপহার দিতে পারিনি, কিংবা সেরার ধারের কাছ দিয়েই যাওয়া সম্ভব হয়নি, তা আমার ভালই জানা। এর পিছনে কারণ একটাই, দীর্ঘ দিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামা। যত অনুশীলনই হোক না কেন, অনেক দিন পর ম্যাচ খেলতে নামলে এমনই হয়। আপনি যখন নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকবেন, তখন এমন হবে না। বেশ লম্বা সময় পর খেললে খাপছাড়া লাগে। আমাদের সবাইকেও কেমন যেন খাপছাড়া খাপছাড়া লাগছিল। সাধারণত নিয়মিত খেলার ভিতর থাকলে চার্জড আপ লাগে। অনেক কিছু করার তাগিদ থাকে ভিতরে। নিজ থেকে বাড়তি কিছু করার ইচ্ছে জাগে। কিন্তু অনেক দিন পর খেলতে নামলে তা থাকে না। আফগান্তিানের সাথে প্রথম দিন আমাদের ভিতর অনেক কিছুই আসেনি।”

এদিকে মাশরাফি মনে করেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারে নি দল, “সত্যি বলতে কি আমরা নিজেদের সামর্থের অর্ধেকও খেলতে পারিনি। ব্যাটিংটা তবু সামর্থের ৫০ ভাগ হয়েছে। কিন্তু বোলিং আর ফিল্ডিংয়ের মান ছিল সামর্থের ৫০ ভাগেরও কম।’

হারার সম্ভাবনা তৈরী হলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতায় পুরো দলের কৃতিত্ব দেন মাশরাফি, “শেষ পর্যন্ত আমরা জিতেছি এর কৃতিত্ব পুরো দলের। সবাই জান প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছে বলেই শেষ পর্যন্ত ফল আমাদের অনুকুলে এসেছে।” 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামীকাল (২৮ সেপ্টেম্বর)। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে।