Scores

সব সংস্করণেই টাইগারদের প্রয়োজন ‘ক্রিকেটচর্চা’

অনেক আশা নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া বিলেতগামী মাশরাফিবাহিনী দল ফিরলো একরকম হতাশা নিয়েই। বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে দল এটিই- এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আবার পারফরম্যান্সেও যে তার ছিটেফোঁটা নেই। আর তাই প্রাপ্তি খোঁজাটাও হয়ে যায় ‘দায়’!

সব সংস্করণেই টাইগারদের প্রয়োজন 'ক্রিকেটচর্চা' -

বড় বড় আসরে প্রতিবারই আশা নিয়ে যায় বাংলাদেশ দল। খুবই যে খারাপ খেলে ফিরে এমনও নয়। তাহলে সমস্যা কোথায়? টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার প্রায় দুই দশকের কাছাকাছি এসেও ছোট ছোট মুহূর্তের সুযোগ লুফে নিতে শিখিনি এখনো। নিউজিল্যান্ড আজ ভাগ্যের জোরে হোক আর যাইহোক, তারা ছোট ছোট মুহূর্তে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছে এবং ফাইনালেই চলে গিয়েছে। আমরা কী করেছি? ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি!

Also Read - দ্বিতীয় দিন শেষে ৩৮৬ রানে এগিয়ে মুমিনুলরা


এই ধরুন নিউজিল্যান্ড ম্যাচে উইলিয়ামসনের রান আউট মিস, বা ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যাচ মিস অথবা ভারতের হিটম্যান রোহিত শর্মার ক্যাচ মিস! চার বছর পর এতো বড় আসর আসে। এর জন্য পরিশ্রমও কম হয় না। তাহলে এতো মিস কেন?

পুরো টুর্নামেন্টের দিকে যদি দৃষ্টি দেওয়া যায়, দেখা যাচ্ছে- বাংলাদেশকে একা টেনেছেন দুইজন। ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান ও বোলার সাকিব। সাথে সঙ্গ দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। চার বছর পর এতো আশা এতো প্রস্তুতি মাত্র এই কয়জন পারফর্ম করার জন্য? পুরো দল থেকে একটি টোটাল টিম পারফরম্যান্স হল না কেন?

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত পুরো টুর্নামেন্টে টিম এফোর্টে টিকে টেবিলের শীর্ষ থেকে শেষ করেছে। যেদিন হয়নি সেদিনই কাল হলো, নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্নই শেষ! বলছি না ১৫ জনেরই ভালো করতে হবে। কিন্তু অন্যরা কি সুযোগের সঠিক ব্যবহার করবে না? শ্রীলঙ্কার অভিষকা ফের্নান্দো সেঞ্চুরি করেছে। ‘রিমেম্বার দ্যা নেইম’; কার্লোস ব্রাথওয়েট আবারও মনে করে দিয়েছেন কেন তার নাম মনে রাখাটা জরুরী।

সব সংস্করণেই টাইগারদের প্রয়োজন 'ক্রিকেটচর্চা' -

আমাদের হয়ে কি কেউই তা করতে পারলেন না? লিটন দাস ঝড়ো ৯৪* করে সাকিবের সাথে ম্যাচ শেষ করে আসেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। কিন্তু সৌম্যরা কয় ম্যাচ ভালো করেছেন? সাব্বির-রুবেলই বা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগাতে পারলেন না কেন? কম অভিজ্ঞ নন তো তারাও।

তামিম ইকবাল- অধিনায়ক মাশরাফির পর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হতাশা। দুজনেরই ফিটনেসে দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো। বিশ্ব আসরকে সামনে রেখে এগুলো নিয়ে আরও সিরিয়াস হবেন তারা এই আশাই তো করেছিল সবাই। বিশ্বকাপের মাঝের চার বছর ভালো করে ফাইনাল পরীক্ষায় খারাপ করলে কী লাভটাই বা হলো?

যেই শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ স্কোয়াড দেখেই সবাই তাদের জয়ের সংখ্যা শূন্যের খাতায় ফেলে দিয়েছিল তারাই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্বাগতিকদের একরকম বিপদেই ফেলে দিয়েছিল। পাকিস্তানও ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টুর্নামেন্ট শুরুই করে পাকিস্তানকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে।

আমরা হারালাম কাদের? সবই নিচের সারির দলের সাথে। যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমরা চিনি এবার যেন দক্ষিণ আফ্রিকার বেশে অন্য দলকেই দেখলাম! গত চার বছর ধরে টাইগাররা যা খেলেছে তাতে শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে দু-একটি জয় আশা করতেই বা দোষ কী? আগের মতো তো আর বলেকয়ে হারার মতো দলও না বাংলাদেশ।

২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৯ – এই চার বিশ্বকাপেই প্রাপ্তি তিনটি করে জয়। এবার অষ্টম হয়ে শেষ করা ফলকে প্রাপ্তি বলতে গেলে আটবার ভাবা লাগবে।

পরের বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে ভারতে। আর ভারতে যদি নাও হয় আয়োজকের অন্যতম দাবিদার বাংলাদেশ। অর্থাৎ এশিয়ার মাটিতেই বিশ্বকাপ হচ্ছে। সেবার হয়তো অন্য সব বিশ্বকাপ থেকে অনেক বেশিই প্রত্যাশা থাকবে। সে জন্য এখন থেকেই দীর্ঘ-মেয়াদী পরিকল্পনা দরকার। নয় কী?

 

সব সংস্করণেই টাইগারদের প্রয়োজন 'ক্রিকেটচর্চা' -

বিশ্বকাপ শেষ না হতেই কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বোর্ডের। নেই কোর্টনি ওয়ালশ, নেই হেড কোচ স্টিভ রোডস। সেই সাথে খেলোয়াড়দের ফিটনেসে জোর দেওয়াটাও আবশ্যক। তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে খেলা হলে ব্যাকআপ প্লেয়ারদের সুযোগ করে দেওয়ার অভ্যাসটা শুরু করতে হবে। তারা যেন প্রস্তুত থাকে।

বিশ্বকাপের এই ফলাফলের থেকেও বড় বিপদসংকেত হলো আফগানিস্তান ‘এ’ দলের কাছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের নাস্তানাবুদ হওয়া। এদিকে ভারতের মিনি রঞ্জি ট্রফিতে খেলছে বিসিবি একাদশ। ‘এ’ দল বা বিসিবি একাদশ হোক, টেস্ট ক্রিকেটকে মাথায় রেখে চারদিনের ক্রিকেট নিয়মিত খেলানোর নিয়ম করা অতি জরুরী। তাহলে বছরের ছয় মাস বসে থেকে হুট করে টেস্ট খেলতে হবে না মুমিনুলদের। এই দিকেও নজরটা দিতে হবে।

আর আধুনিক যুগের সাথে পাল্লা দিতে সে ধরণের ক্রিকেটটাই চর্চা করতে হবে টাইগারদের, এবং তা সব সংস্করণেই! তা না হলে কে জানে ‘২৩ সালেও হতাশা নিয়ে ফিরে কি না দল…

প্রথমবারের মত বিডিক্রিকটাইম নিয়ে এলো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন। বাংলাদেশ এবং সকল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বল বাই বল লাইভ স্কোর, এবং সাম্প্রতিক নিউজ সহ সবকিছু এক মুহূর্তেই পাবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অনলাইন পোর্টাল BDCricTime এর অ্যাপে। অ্যাপটি ডাউনলোড করতে গুগল প্লে-স্টোর থেকে সার্চ করুন BDCricTime অথবা ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

ইএসপিএন ক্রিকইনফো অ্যাওয়ার্ডে মনোনিত সাকিবের ইনিংস

বিশ্বকাপ ফাইনালে ধৈর্যশীলতা দেখানোর পুরস্কার জিতল কিউইরা

‘আমি সর্বদা বলি, সমর্থকরা আমাদের দ্বাদশ খেলোয়াড়’

আইসিসিকে নিশামের খোঁচা

সুপার ওভারের নিয়মে পরিবর্তন আনল আইসিসি