Scores

সমস্যা ওয়ালশে নয়, সমস্যা সিস্টেমে!

দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকে পেসারদের জন্য স্বর্গ ভাবা হয়। কিন্তু সেই উইকেটে টাইগার পেসারদের দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে। টেস্ট সিরিজে হতাশাজনক বোলিংয়ের পর একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রায় ৪৩ ওভার বোলিং করে একটি উইকেটেরও পতন ঘটাতে পারেন নি মাশরাফি-রুবেলরা। পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে হতাশ ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। অনেকেই দুষছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ গ্রেট কোর্টনি ওয়ালশকে। এদিকে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের কোচ সারোয়ার ইমরান জানিয়েছেন সমস্যা ওয়ালশে নয়, সমস্যা সিস্টেমে।  [আরো পড়ুনঃ স্টোকস ইস্যুতে ইংল্যান্ডকে স্মিথের খোঁচা]

টাইগারদের বাজে বোলিংয়ের দোষ ওয়ালশকে দিতে নারাজ ইমরান। তিনি বলেন, “পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টের দূর্বলতা, ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতার কারণ খুঁজে বের করতে হলে অনেকগুলো প্রাসঙ্গিক ও আনুসাঙ্গিক বিষয় আগে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। তা না করে কোর্টনি ওয়ালশের দোষ খোঁজা কিংবা কোচিং মেথডের দূর্বলতার কথা ভাবলে চলবে না। মনে রাখতে হবে, এখন যে পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টকে দূর্বল ও কমজোরি মনে হচ্ছে- সেটা একটা দীর্ঘ মেয়াদি কার্যক্রমের নেতিবাচক প্রভাব।” 

Also Read - মুস্তাফিজের ইনজুরিতে আবার যাচ্ছেন শফিউল


প্রধাণ সমস্যা হিসেবে ইমরানের দৃষ্টিতে এসেছে পেসারদের ইনজুরি পরবর্তী কার্যক্রম। তিনি বলেন, “খুব ভাল মত খেয়াল করুন, দেখবেন- গত এক থেকে দেড় বছরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস ডিপার্টমেন্টে একটা বাজে প্র্যাকটিস গড়ে উঠেছে। তাহলো, বেশিরভাগ সময় দেখা যাচ্ছে কেউ একজন ইনজুরির শিকার হয়েছে, রিহ্যাব করছে- সেখান থেকে সুস্থ হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত না খেলে দীর্ঘ সময় অনুশীলন না করে আবার দলে ফিরে আসছে। প্রায় প্রত্যেক বোলার এভাবেই ইনজুরি থেকে উঠে কিংবা রিহ্যাব করতে করতে দলে এসে ঢুকছে।” 

অনেকেই দাবী করছেন ওয়ালশের সাথে ভাষাগত ঝামেলার কারণে এই গ্রেটের কথা পেসাররা ধরতে পারছেন না। তবে এতে একমত নন সারোয়ার ইমরান, “বোলারদের ইংরেজি ভাল জানার এবং ওয়ালশের কথা খুব ভাল বোঝার দরকার নেই। পেস বোলাররা বোবা বোলিং কোচের ভাষাও বুঝবে। কারণ, তিনি বল হাতে নিয়ে গ্রিপ দেখাবেন। সেলাইয়ের কোন জায়গায় ধরলে কি হবে? কখন কোন লাইন ও লেন্থে বল করতে হবে? এসব কথাই বলেন কোচ। তা যে ভাষাতেই বলুন না কেন, বোলাররা ঠিক বুঝে ফেলে।” 

ঘরোয়া লিগেই হচ্ছে সর্বনাশটা। ঘরোয়া লিগে পেসারদের একদম চাহিদা নেই। ফলাফল বাইরের দেশে ভুগতে হচ্ছে টাইগার পেসারদের। এমনটিই মনে করেন ইমরান, “আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটে বিশেষ করে ঢাকা লিগে খেলছি একজন পেসার নিয়ে। এমনকি জাতীয় লিগ বা বিসিএলে চার দিনের ম্যাচেও দুই পেসার নিয়ে নেমে যাচ্ছি। তারা একদিনে গড়পড়তা ১০ ওভারও বল করে না। বা করার সুযোগ পায় না। এমনকি আমরা ঘরে মাঠে টেস্ট আর ওয়ানডে খেলতে নামছি এক বা দুজন মাত্র পেসার নিয়ে। এতে করে পেসার নির্ভরতা যাচ্ছে কমে।” 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

‘মাশরাফি একজন ফাইটার’

ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্র ওয়ালশের কাছে

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ