সমৃদ্ধ পাইপলাইন ও এইচপির সাফল্যে মহাখুশি নান্নু

জাতীয় দলের মত হাই পারফরম্যান্স ইউনিট বা এইচপি ইউনিটও সাজান নির্বাচকরা। কোচদের হাতে পরিপূর্ণতা লাভ করে সেই হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের ক্রিকেটাররা উঠে আসেন জাতীয় দলে। সম্প্রতি এইচপির বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার জাতীয় দলে আলো ছড়িয়েছেন। এই সাফল্যে বেজায় খুশি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। 

Advertisment

আফিফ হোসেন ধ্রুব, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, শেখ মেহেদী হাসানের মত ক্রিকেটাররা ধীরে ধীরে সীমিত ওভারের দলে নিজেদের জায়গা পোক্ত করছেন। তারা তিনজনই উঠে এসেছেন এইচপি থেকে। টেস্টে আশার আলো দেখাচ্ছেন সাইফ হাসান, সাদমান ইসলামের মত ক্রিকেটাররা। ভালো করে খুঁজলে এইচপি থেকে উঠে আসা জাতীয় দলের ক্রিকেটারের তালিকা হবে অনেক লম্বা। বিগত কয়েক বছরে জাতীয় দলকে এইচপি দিয়েছে দু’হাত ভরে।

নান্নু জানালেন, এইচপিতে থাকতেই ক্রিকেটারদের বাতলে দেওয়া হয় তাদের পথ। কে লাল বলে খেলবেন, কে খেলবেন সীমিত ওভারে, কার ভূমিকা হবে বোলারের; নাকি ব্যাটসম্যানের, নাকি হবেন অলরাউন্ডার- সবকিছুই ঠিক করা হয় এইচপিতে থাকাকালেই। টিপে টিপে তাদের গড়ন দেন কোচরা, সেই অনুযায়ীই তারা খেলেন, অতঃপর উঠে আসেন শীর্ষ মঞ্চে, জাতীয় দলে।

বাংলাদেশের এইচপি ইউনিটকে পেশাদার ও কার্যকরী করে তোলার পেছনে বড় অবদান সাবেক অস্ট্রেলীয় কোচ সাইমন হেলমটের। তার সময় থেকেই এইচপি দলে ক্রিকেটারদের পথ বাতলে দেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়ে নান্নু বলেন, ‘এইচপির কোচদের সাথে সবসময় আলোচনা হয় কাকে কোন ফরম্যাটে রাখা যায় এ নিয়ে। সাইমন হেলমট এইচপির কোচ থাকার সময়ে এটা শুরু হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রেখেছি।’

আফিফ-সোহানের পরিণত ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ রিয়াদ

‘বিপ্লবকে এইচপিতে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিয়েছিলাম। ওকে নেটে দেখেছিলাম। এরপর হেলমটকে বলে লেগ স্পিনার হিসেবে উত্থান ঘটানো হয়। আফগানিস্তানের সাথে প্রথম সুযোগ দেওয়া হয়। সেই থেকে ওর পথচলা শুরু। এভাবেই আমরা খেলোয়াড়দের নিয়ে আসছি।’

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে এখন পর্যন্ত দুইজন সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে। এইচপির ছায়াতলে ছিলেন তারাও। ভবিষ্যতে যারা জাতীয় দলকে সার্ভিস দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন, সেই ক্রিকেটাররাও এখন নিজেদের প্রস্তুত করছেন হাই পারফরম্যান্স ইউনিটে।

নান্নু বলেন, ‘এবারও যখন অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন এইচপি ইউনিট গঠন করলাম, কিছু খেলোয়াড়কে উত্থিত করা হয়েছে। আফিফকে এইচপি থেকে সিলেটে সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটের দলে আনা হয়। আস্তে আস্তে অনেক খেলোয়াড়কেই এভাবে আনা হয়েছে। একেবারে ৪-৫ জন খেলোয়াড়কে নয়, তবে ১-২ জন করে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শেখ মেহেদীও এইচপির প্রডাক্ট। এইচপিতে জাতীয় দলের জন্যই খেলোয়াড়দের নার্সিং করা হয়।’

টেস্ট দলের ওপেনার সাইফ হাসান যেন লাল বলেই থিতু হতে পারেন, সেভাবে তাকে নিয়ে কাজ করা হয়েছিল এইচপিতে। একজন ক্রিকেটার যেন গোড়া থেকে নিজের দায়িত্ব বুঝতে শেখেন, নিজের কার্যকারিতা ও সামর্থ্য বুঝতে শেখেন, সেই চেষ্টাই করছেন এইচপি ইউনিট। এইচপির সাফল্যে তাই নান্নুর উচ্ছ্বসিত হওয়াই সাজে!

ভবিষ্যতে আরও প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটার তুলে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোন ফরম্যাটে কাকে রাখা যায় এটা এইচপিতেই চিন্তা করা হয়। সাইফকে এইচপিতে এমনভাবে নার্সিং করা হয়েছে যাতে সে লাল বলের ক্রিকেটে থিতু হতে পারে। সবকিছু মাথায় রেখেই এইচপি থেকে জাতীয় দলে খেলোয়াড় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান আছে। বয়সভিত্তিক থেকে এইচপি, তারপর ‘এ’ দল, তারপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পাইপলাইন থেকে আরও অনেক খেলোয়াড় পাওয়া যাবে।’

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।