Scores

সরফরাজদের খেলা দেখে হতাশ পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা

সরফরাজদের খেলা দেখে হতাশ সাবেক ক্রিকেটাররা।
সরফরাজদের খেলা দেখে হতাশ সাবেক ক্রিকেটাররা।

এজবাস্টনে খেলতে নামার আগে ১২৭ ওয়ানডে ম্যাচে ৪৯ হারের বিপরীতে ৭২টিতে জয় দেখে পাকিস্তান। তবে সাম্প্রতিক চিত্রটা ভিন্ন। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর চিরাচরিত লড়াইয়ের ঝাঁজটা আর নেই। রোববার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচেও চিরশত্রু ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে পাকিস্তান। ম্যাচে ন্যূনতম লড়াইটাও গড়তে পারেনি সরফরাজ আহমেদের দল। তাদের এমন দুর্দশায় রীতিমতো ব্যথিত পাকিস্তানের ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খান।

জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। তাই ভারতের কাছে পাকিস্তানের হারটাকে খুব বড় করে দেখছেন না ইমরান খান। কিন্তু সরফরাজদের হারের ধরনে বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক নিজের হতাশাটা কিছুতেই লুকাতে পারেননি। ম্যাচের পর এক টুইট বার্তায় ইমরান লিখেছেন, ‘একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি খুব ভালো করেই জানি হার-জিত খেলারই অংশ। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে সামান্যতম লড়াই ছাড়া পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ খুবই বেদনাদায়ক।’

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে লড়াই গড়তে পারছে না পাকিস্তান। ইমরান খানের মতে, যত দিন যাচ্ছে ক্রিকেট প্রতিভায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সমতাটা আর থাকছে না, ‘যত দিন পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেটকে ঢেলে সাজানো না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত তৃণমূলে প্রতিভার প্রাচুর্য থাকলেও ভারতের সঙ্গে শক্তির ব্যবধান বাড়তেই থাকবে। আর আমরা এমন হার দেখতেই থাকব।’

Also Read - শেষ ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত গাজী গ্রুপের


টুইটবার্তায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি পদে একজন পূর্ণ পেশাদার ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন ইমরান খান। তার মতে, একজন পেশাদার ক্রিকেট প্রশাসকের অভাবে পাকিস্তানের ক্রিকেট পিছিয়ে যাচ্ছে, ‘পিসিবির সভাপতি যদি পেশাদারির ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া না যায় তাহলে পাকিস্তান ক্রিকেটের সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব নয়।’

ইমরানের মতো দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিও। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বেশ কয়েকটি টুইটে তিনি লিখেন, ‘আগে কখনও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এত ব্যবধান ছিল না। ভারত যত এগিয়েছে তুলনায় আমরা ততটাই পিছিয়ে গিয়েছি। পাকিস্তান ক্রিকেটকে ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে।’

এছাড়া আফ্রিদি ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ের চিত্র তুলে ধরেছেন হারের কারণ হিসেবে। তার মতে, পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের কৌশলে ভুল ছিল, ‘মোহাম্মদ আমের প্রথম ওভারটা খুবই ভালো বোলিং করেছে। অন্য পাশেও একজন পেসারকে দিয়ে শুরু করানোই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার সম্ভাবনা সত্ত্বেও অন্য পাশে আনা হলো ইমাদ ওয়াসিমকে। এই ম্যাচটা তো আরব আমিরাতে হচ্ছিল না!’

 

মূলত পাকিস্তানের কারণেই ভারতের দুই ওপেনার পিচে সেট হয়ে গিয়েছিলেন বলে মত আফ্রিদির, ‘রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ান মানের ব্যাটসম্যানদের থামানো এমনিতেই কঠিন। পাকিস্তান তাদের সেট হয়ে যেতে আরও সহায়তা করেছে। আমেরকে দেখেশুনে সামলে তারা ইমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। পরে বাকিদেরও ছেড়ে দেয়নি।’

 

সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ইমরানের মতো প্রায় একই পরামর্শ ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীরও। তার মতে, ‘পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও মনোযোগ দরকার। এ ছাড়া ওয়াসিম, ওয়াকার, জাভেদ মিয়াঁদাদ, সেলিম মালিকদের মতো সিনিয়রদের পরামর্শও কাজে লাগানো উচিত। কারণ বিশ্বক্রিকেটের স্বার্থে পাকিস্তানের ভালো করা দরকার।’

  • মাকসুদুল হক, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম।
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির কফিনে আইসিসির পেরেক

‘বিসিবি-ক্রিকেটাররা সবাই আমার মস্তিষ্কে সারাজীবন থাকবে’

ভারতকে টপকে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে ইংল্যান্ড

ভারত আয়োজন না করলে টি-২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে?

‘আন্ডারডগ’ নয় পাকিস্তান?