Scores

সাইমন্ডসের দাবি ক্ষমা চেয়েছিলেন হরভজন, হরভজনের অস্বীকার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত বিবাদ ভারতের স্পিনার হরভজন সিং ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের  ২০০৮ সালের ‘মাঙ্কিগেট’ ঘটনা। দশ বছর আগে সিডনি টেস্ট চলাকালীন হরভজন সিং তাকে বানর বলেছেন দাবি করে হরভজন সিংয়ের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ আনেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। সেই ঘটনার জন্য হরভজন সিং ক্ষমা চেয়েছেন বলে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস দাবি করলেও তা অস্বীকার করেছেন হরভজন সিং।

সাইমন্ডসের দাবি ক্ষমা চেয়েছিলেন হরভজন, হরভজনের অস্বীকার

দশ বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা এখনো প্রায় আসে শিরোনামে। এর আগে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস জানিয়েছিলেন আর ক্যারিয়ারে বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল সেই ঘুনা। এবার আবারো মুখ খুললেন সিডনি সেই কেলেঙ্কারি নিয়ে। ফক্স ক্রিকেটের এক তথ্যচিত্রের জনয দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস জানান ২০১১ সালে অনুতপ্ত হয়েছিলেন হরভজন সিং।

Also Read - দুইবারের বিশ্ব-চ্যাম্পিয়নদের রুখতে পারবে বাংলাদেশ?


সাইমন্ডস বলেন, “আমরা একরাতে বারবিকিউ, ড্রিঙ্কস এবং নৈশভোজের জন্য এক বিত্তবানের বাসায় গিয়েচ্ছিলাম। সেখানে পুরো দল ছিল। হরভজন আমাকে বলেছিল, ‘বন্ধু, আমি তোমার সাথে বাইরের বাগানে এক মিনিট কথা বলতে পারি?’ সে বলতে থাকে, ‘দেখো আমি তোমার সাথে সিডনিতে যা করেছিলাম তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে চাই। আমি ক্ষমা চাই। আমি আশা করি এটা তোমাকে, তোমার পরিবারকে এবং তোমার বন্ধুদের খুব বেশি আঘাত করেনি। আমি যা বলেছি তার জন্য সত্যি ক্ষমা চাইছি। আমার এটা বলা উচিত হয়নি।'”   

হরভজন সিং তখন কান্নাও করেছিলেন বলে জানান হরভজন। সাইমন্ডস বলেন, “সে আসলে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। আমি দেখতে পারছিলাম তার কাঁধে এক বিশাল বোঝা, সে তা থেকে মুক্তি পেতে চায়। আমরা করমর্দন করলাম এবং আমি তাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, ‘বন্ধু, সব ঠিকাছে।'”

সাইমন্ডসের এমন কথার পর হরভজন সিং প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন টুইটারে। তিনি লিখেন, “আমি ভেবেছিলাম সে একজন ভালো ক্রিকেটার। কিন্তু সে আসলে বের হল একজন ভালো কল্পকাহিনী লেখক হিসেবে। তিনি ২০০৮ সালে একটি গল্প বিক্রি করেছিল। ২০১৮ সালেও গল্প বিক্রি করছে। বন্ধু, দশ বছরে পৃথিবী অনেক এগিয়ে গিয়েছে। তোমার বড় হবার সময় এখন।” 

আরেক টুইটে হরভজন লিখেন, “এটা কখন হয়েছিল??? ভেঙে পড়েছিলাম??? কিসের জন্য???”

২০০৭-০৮ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির দ্বিতীয় টেস্ট ছিল সেটি। সিডনি টেস্টে ব্যাটিং করছিলেন শচীন টেন্ডুলকার ও হরভজন সিং। এমন সময় অস্ট্রেলিয়ার পেসার ব্রেট লি’র বলে স্লিপ দিয়ে একটি চার মারার পর ব্রেট লি’র সাথে কথা বলছিলেন হরভজন সিং। সেখানে জড়িয়ে যান রিকি পন্টিং আর অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসও। এরপর সাইমন্ডস অভিযোগ করেন হরভজন সিং তাকে ‘বানর’ বলে অভিহিত করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করেন হরভজন সিং ও তৎকালীন অধিনায়ক অনীল কুম্বলে। হরভজনের সঙ্গে তখন ব্যাটিং করা শচীন টেন্ডুলকারও নিজের আত্মজীবনী ‘প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে” – তে লিখেছেন এমন কিছু বলেননি হরভজন। শচীন লিখেছেন, “আমি শুনেছি সে বলেছে  “তেরি মাকি…” উত্তর ভারতে রাগ প্রকাশে এটি ব্যবহার করা হয় এবং এটি খেলারই একটি অংশ”।

সাইমন্ডসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হরভজনকে তিন টেস্ট নিষিদ্ধ করে আইসিসি। এ শাস্তির প্রতিবাদ জানায় ভারত। এমনকি নিষেধাজ্ঞা তুলে সিরিজ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এরপর তুলে নেয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। ক্রিকেট দুনিয়ায় বেশ হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল এ ঘটনা।


আরো পড়ুনঃ  কর্পোরেট টি-২০তে জিতলো লায়লা ক্রিকেট ক্লাব ও লিটল এঞ্জেলস


 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

ভারতে তাদের মোকাবেলায় ক্রিকইনফোর সেরা একাদশে মুশফিক

ইমরানের জন্য খোঁড়া গর্তে নিজেই পড়লেন শেওয়াগ!

শচীনের ২০০ টেস্টের রেকর্ড ভাঙবে না : শেবাগ

শ্রীশান্তের বাড়িতে আগুন

‘অলআউট’ দলের কেউ নিতে পারেননি ১ রানও!