সাকিবদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে তামিমদের অসহায় আত্মসমর্পণ

পাঁচ উইকেট শিকার করে লক্ষ্যটাকে প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাবের নাগালেই রেখেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের অসহায় আত্মসমর্পণের কারণে মোহামেডানের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছড়া হয়নি প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব। 

সাকিবদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে তামিমদের অসহায় আত্মসমর্পণ

Advertisment

১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই দশ রান তুলে প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব। তার নেপথ্যে ছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই সঙ্গী এনামুল হক বিজয়কে হারান তামিম। তাসকিন আহমেদের বলে সাকিব আল হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন এনামুল। ৫ বলে ৩ রান করে ফিরে যান তিনি। এ টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী রয়েছেন তিনি। চার ইনিংস মিলিয়ে রান করেছেন ১৮।

পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে এসে তামিম ইকবালকে ফেরত পাঠান শুভাগত হোম। ডাউন দা উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে বল ফিল্ডারের হাতে তুলে দেন তামিম। ২০ বলে ২০ রান করেন তিনি। অপর প্রান্তে থাকা রনি তালুকদার (১৯) থিতু হলেও তাকে ইনিংস বড় করতে দেননি সাকিব। নবম ওভারে এসে রনিকে বোল্ড করেন। ঐ ওভারের শেষ বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে রানের খাতা না খুলেই আউট হন কাপালি। জোড়া আঘাত হেনে প্রাইম ব্যাঙ্ককে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে দেন সাকিব।

এরপর প্রাইম ব্যাঙ্কের রানের গতিও মন্থর হয়ে যায়। বাড়তে থাকে বল আর রানের টানাপোড়েন। নাহিদুল হাসান ৫ রান করে আবু জায়েদের বলে এবং ৬ রান করে রকিবুল হাসান আবু হায়দারের বলে বোল্ড হলে ম্যাচে মোহামেডানের জয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় মাত্র।

যোগ্য সঙ্গী পাননি মোহাম্মদ মিঠুন। ২ ছক্কায় ১৮ বলে ২৫ রান করা মিঠুনকে  ১৬ম তম ওভারে তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আবু জায়েদ। পরের বলে শরিফুলকেও এলবিডব্লিউ করেন তিনি। এরপর মনির ১৩ বলে ১৭ ও নাঈম ১৯ রান করলেও তা শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমায়।
সাকিবদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে তামিমদের অসহায় আত্মসমর্পণ

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া মোহামেডানকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান আর পারভেজ হোসেন ইমন।শুরু থেকেই দ্রুতগতিতে রান তুলে পাওয়ারপ্লে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন মাহমুদুল ও ইমন। তাদের ২৭ বলে ৪০ রানের জুটি ভাঙেন নাহিদুল ইসলাম।  ৩ চার ও ১ ছক্কা মারা মাহমুদুল ২৩ রান করে নাহিদুলের বলে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন রনি তালুকদারের হাতে।

পারভেজ ইমন

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে হাল ধরেন ইমন ও শামসুর রহমান শুভ। শামসুর শুরু থেকে মন্থর থাকলেও অপর প্রান্তে রানের চাকা সচল রাখেন পারভেজ হোসেন ইমন। সুযোগ পেলেই চড়াও হতে থাকেন বোলারদের ওপর। নাঈম হাসানের করা ইনিংসের একাদশতম ওভারে ইমন হাঁকান দুই ছক্কা ও এক চার। ঐ ওভারে রান হয় ১৮। ৩৭ বলে ৫০ রান স্পর্শ করেন ইমন। তবে এরপর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি। অর্ধশতক স্পর্শ করার পরের বলে ইমন অলক কাপালির শিকার হন। তার ইনিংসে ছিল ৩ চার আর ৪ ছক্কা।

মুস্তাফিজের পাঁচ, বড় স্কোর হল না সাকিবদের

এরপর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে সাথে নিয়ে ৩৮ রান যোগ করেন শামসুর। শামসুর থিতু হতে সময় নিলেও ধীরে ধীরে খোলস থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। সাকিবও শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় নিয়োজিত হন। তবে ১৮ তম ওভারে এসে ৩ উইকেট নিয়ে মোহামেডানের ছন্দপতন ঘটান মুস্তাফিজ।

ওভারের দ্বিতীয় বলে ১৫ বলে ২০ রান করে সাকিব স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে নেমে চার দিয়ে শুরু করা শুভাগত হোম পরের বলেই ফিরেন স্কয়ার লেগে থাকা নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে। পরের বলে শামসুর রহমানকেও ফেরান মুস্তাফিজ। ২ চার ও ১ ছক্কা মারা শামসুর ৩৪ বলে ৩৩ রান করেন।

পরের ওভারে এসে আরেক বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম সাজঘরে ফেরান ইরফান শুক্কুরকে। ছয় রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারায় মোহামেডান। শেষ ওভারে আক্রমণে এসে মুস্তাফিজ ফের ভেলকি দেখান। তার তৃতীয় ডেলিভারিতে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন আবু হায়দার রনি। পঞ্চম বলে তাসকিন আহমেদকে বোল্ড করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। ২২ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন মুস্তাফিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহামেডান ১৫০/৮, ২০ ওভার
ইমন ৫০, শামসুর ৩৩, মাহমুদুল ২৩,
মুস্তাফিজ ৫/২২, কাপালি ১/১১

প্রাইম ব্যাঙ্ক ১২৩/১০, ১৯.২ ওভার
মিঠুন ২৫, তামিম ২০, নাঈম ১৯*
তাসকিন ৩/১৫, আবু জায়েদ ৩/৩৩