Scores

‘সাকিবের জায়গা পূরণ করা কঠিন’

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে অনাহূত সাকিব আল হাসানকে সপ্তাহ দুয়েকের জন্য ঠেলে দিয়েছে মাঠের বাইরে। ফলে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টই মিস করতে যাচ্ছেন সাকিব, যা আগামী ৩১ জানুয়ারি শুরু হবে চট্টগ্রামে।

'সাকিবের জায়গা পূরণ করা কঠিন'

ঐ ম্যাচে সাকিবের অভাব পূরণে আব্দুর রাজ্জাক, সানজামুল ইসলাম, তানভীর হায়দার- এই তিন স্পিনারকে দলে ডেকেছে বিসিবি। যদিও আলোচনায় বেশি দীর্ঘদিন পর দলে ডাক পাওয়া রাজ্জাকও।

Also Read - আবারও তিন ফরম্যাটে এক নম্বর সাকিব


তবে সাকিবের অভাব পূরণ করা কঠিন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ স্পিনার রাজ্জাক। সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরুর আগে রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সাকিব শুধু দেশের না, ওয়ার্ল্ডের বেস্ট অলরাউন্ডার। ওর জায়গা পূরণ করা কঠিন। কারণ ওর জায়গা পূরণ করতে হলে, একজন ব্যাটসম্যান নিতে হবে, নিতে হবে একজন বোলারও। সেটা দিয়েও যে পুরোপুরি সাকিবের অভাব পূরণ হবে কিনা সন্দেহ থেকে যায়। সে অনেকদিন ধরে নিয়মিত খেলছে, অনেক পরিণত ছেলে। টিমের জন্য এখন কাউকে ম্যানেজ করতে হবে।’

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় ভালো লাগা কাজ করছে রাজ্জাকের মধ্যে। তবে প্রথম দিকে ডাক পাওয়ার ব্যাপারটি যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার। রাজ্জাক বলেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগার ব্যাপার আছে। কিন্তু আমি খুব অবাক হয়েছি, চিন্তাও করিনি এই সময়ে এমন কিছু হবে। তাই মাথায়ও ছিল না ব্যাপারটা। হঠাৎ যখন জানতে পারলাম আমাকে বলার পর, তখনও বুঝতে পারছিলাম না, আসলে কি হচ্ছে, যা শুনলাম তা ঠিক আছে কিনা সবকিছু…

স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তির কথা জানানো হলেও প্রথমে তা বুঝতেই পারছিলেন না রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘আকরাম (আকরাম খান) ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল, তবে তা পরিস্কার কিছু না। তারপর সজিব ভাই (বিসিবি কর্মকর্তা) ফোন করে অভিনন্দন জানালেন, টিকিটের বিষয়ে জানালেন। এরপর নান্নু ভাইয়ের ফোন পেয়ে সবকিছু নিশ্চিত হই।

অবশ্য স্কোয়াডে ডাক পেলেও এখনও একাদশে খেলা নিয়ে নিশ্চিত নন রাজ্জাক। নির্বাচকরা বলেছেন, ম্যাচে খেলতে হলে সামর্থ্যের প্রমাণ রাখতে হবে অনুশীলনে। নেটে যাচাই-বাছাইয়ের পরই দাঁড় করানো হবে একাদশ। এছাড়া স্কোয়াডে স্পেশালিষ্ট স্পিনার এখন রয়েছেন পাঁচজন। এতো স্পিনার খেলানো অনেকটা অসম্ভব, আর তাই রাজ্জাককেও একাদশে ঢুকতে হলে ভালো করতে হবে অনুশীলনে।

তবে সুযোগ পেলে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাজ্জাক। এ নিয়ে বেশি ভাবছেনও না তিনি। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক প্ল্যান করছি। আলাদা কিছু ভাবছি না। সুযোগ পেলে নিজের সর্বোচ্চটাই দিতে চেষ্টা করবো। আর আমি বড় প্ল্যান নিয়ে কখনও এগোই না। বর্তমানের কথা ভাবি। তাই বর্তমানেই সেরাটা দিতে চেষ্টা করবো।

চার বছর পর দলে ডাক। জায়গা পাকা করার চিন্তা কি ঘুরছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি রাজ্জাকের মাথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে রাজ্জাকের ভাষ্য, ‘ওসব নিয়ে ভাবছি না। এসব আমার ভেতরে কাজ করে না। সেসব আমি ইতিবাচকভাবেই নিয়েছি। আমি চেষ্টা করবো ভালো খেলার জন্য-তা আমার জন্য, আমার টিমের জন্য। কাউকে দেখিয়ে দিতে নয়।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি চলমান বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ৫০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। ক্যারিয়ারের ১১৩তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে এসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। রাজ্জাকের এমন কীর্তিই চার বছর পর তার জন্য খুলে দিয়েছে জাতীয় দলের দরজা। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফরের পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে আছেন স্পিনরাজ হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটার। জাতীয় দলের হয়ে ১৫৩ ওয়ানডতে তিনি শিকার করেছেন মোট ২০৭টি উইকেট। এছাড়া ১২ টেস্টে তার উইকেট সংখ্যা ২৩। খেলেছেন ৩৪ টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচও, যেখানে তার শিকারে রয়েছে ৪৪টি উইকেট।

আরও পড়ুনঃ আইপিএলে মুস্তাফিজের নিলামের মুহূর্ত

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

১০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেই মুস্তাফিজের রেকর্ড

রাজ্জাককে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে মুস্তাফিজের অনন্য রেকর্ড

বিশ্বকাপে থাকছেন রাজ্জাক!

বিশ্বকাপের সেরা ৫ টাইগার বোলার

রাজ্জাককে ছাড়িয়ে শীর্ষে মাশরাফি