Scores

সাকিব আর তাইজুলের পর এবার জুবায়ের

 

চট্টগ্রাম টেস্টে ৫ উইকেট পেয়ে উল্লসিত জুবায়ের।
চট্টগ্রাম টেস্টে ৫ উইকেট পেয়ে উল্লসিত জুবায়ের।

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

মঞ্চ প্রস্তুত ছিল আগে থেকেই। অপেক্ষা ছিল কেবল পারফর্মের। সেই কাজটি পূর্ণ করে জুবায়ের মেটালেন কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর মনের আশা। প্রথম দুই টেস্টে সাকিব ও তাইজুলের ৫ উইকেট প্রাপ্তির পর তরুণ বাঁহাতি স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন তৃতীয় টেস্টে এসে গড়লেন সেই কীর্তি। জিম্বাবুয়েকে ৩৭৪ রানে আটকে বাংলাদেশকে ১৫২ রানের লিড এনে দেওয়ায় সবচেয়ে বড় অবদান কদিন আগে ১৯ বছর পূর্ণ করা এই স্পিনারেরই।

Also Read - চট্টগ্রাম টেস্টঃ ৩য় দিন শেষে ১৫২ রানের লিড বাংলাদেশের


টেস্ট দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ঝড় তুলেছিল চায়ের কাপে। ঘরোয়া লীগে খেলেননি- এমন একজনকে হঠাৎ টেস্ট দলে দেখাটা অস্বাভাবিকই। তাঁকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাটাও তাই ভুল কিছু ছিল না। তবে নির্বাচকেরা বলেছিলেন, দলের প্রেক্ষাপটে আর সোহাগ গাজীর অনুপস্থিতিতেই লিখনের উপর আস্থা রাখছেন তাঁরা। তবুও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছিল, অফস্পিনার সোহাগ গাজীর বদলে লেগস্পিনার কেন? প্রথম দুই ম্যাচে মোটেও খারাপ করেননি, তাইজুল আর সাকিবের ছায়া হয়ে রেখেছেন কার্যকরী ভূমিকা। তৃতীয় টেস্টে এসে নিজের পারফরমেন্স দিয়ে সকল প্রশ্নের উত্তর দিলেন জুবায়ের, সেই সাথে দিলেন নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদানও। চট্টগ্রামে চলমান তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে জিম্বাবুয়ের ১ম ইনিংসে ৯৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে জুবায়ের প্রমাণ করেছেন, কেন তাঁর উপর আস্থা রেখেছিলেন নির্বাচকেরা। জিম্বাবুয়েকে বলতে গেলে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন এই বাঁহাতি লেগস্পিনার।

স্পিনারদের অভয়ারণ্য, অথচ লেগস্পিনারদের আকাল- উপমহাদেশের বর্তমান ক্রিকেটে নিয়মিত চিত্রই। ইউরোপীয় বা আফ্রিকান লেগস্পিনারদের সাথে উপমহাদেশের লেগস্পিনারদের পার্থক্যটা চোখে পড়ার মতোই। বাংলাদেশে তো ‘লেগস্পিন’ প্রজাতির আরও দুর্দশা। এমনিতেই লেগস্পিনার বোলারদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যে কয়জন আছেন তাঁদেরও জায়গা হয় না জাতীয় দলে। জুবায়েরের আবির্ভাবকে তাই অনেকেই ভেবেছিলেন নির্বাচক প্যানেলের একটা বাজি হিসেবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে একেবারেই অপরিচিত মুখ। ৪টি প্রথম শ্রেণির ও ৩টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন, সবগুলোই বয়সভিত্তিক কিংবা ‘এ’ দলের হয়ে। তবে কদিন আগে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের ১১ উইকেটই জাতীয় দলে ঢোকার নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে জুবায়েরের জন্য। চট্টগ্রাম টেস্টে জিম্বাবুয়ের ১ম ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়ে প্রমাণ করেছেন, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ লেগস্পিনের ঝান্ডাটা উড়বে তাঁর হাত ধরেই।

প্রথম ম্যাচে সাকিব আর তাইজুল একাই নিয়েছিলেন ১৬ উইকেট। বাকি ৪টি উইকেট ভাগ করে নিয়েছিলেন শাহাদাতের সাথে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, দ্বিতীয় ম্যাচেও সাকিব ও তাইজুলের মিলিতভাবে দখলে থাকা উইকেট ছিল ১৬টি, জুবায়ের বাকি ৪টি উইকেট ভাগ করে নিয়েছিলেন রুবেলের সাথে। এই ম্যাচের একটি ইনিংসেই নিয়ে নিয়েছেন গত দুটি ম্যাচের চেয়ে বেশি উইকেট! পুরো সিরিজে এখন পর্যন্ত ৬৫ ওভার বল করেছেন, যেখানে অন্যান্য স্পেশালিষ্ট স্পিনাররা বল করেছেন তাঁর চেয়ে অনেক বেশি। মেডেন ওভার মাত্র ৪টি হলেও ইকোনমি রেট ভালোই- ৩.৭৭।

৯ উইকেট পাওয়া এই স্পিনার সিরিজের ৪র্থ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। নতুন আগমনে নিঃসন্দেহে এটা ভালো ফলাফল তাঁর জন্য। এখন পর্যন্ত ৫ ইনিংস বল করে নিয়েছেন ৯ উইকেট, আছেন যথাক্রমে ১৮, ১৬ ও ১২ টি উইকেট নেওয়া সাকিব, তাইজুল ও পানইয়াঙ্গারার পিছনেই।

বাংলাদেশের বোলিং অ্যাটাককে আরও শক্ত করতে হলে জুবায়েরকে হাল ধরতে হবে শক্ত হাতে। তিনি ছাড়া যে দলের আশেপাশেও আর কোনো লেগস্পিনার নেই এখন!

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন


Related Articles

ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে মাশরাফি

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ

দুদকের শুভেচ্ছাদূত হলেন সাকিব