Scores

সাকিব-তামিমদের বোর্ড থেকে ‘চাপ’ প্রয়োগের আহ্বান রাব্বির

জাতীয় দলের মেরুদণ্ড বলা হয় ঘরোয়া ক্রিকেটকে। অথচ বাংলাদেশে জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলেই ঘরোয়া ক্রিকেটে অনীহা প্রকাশ যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতির স্বার্থে এই ‘নিয়ম’ পাল্টানোর আহ্বান কামরুল ইসলাম রাব্বির।

আমি চিন্তাও করিনি দলে থাকব না কামরুল রাব্বি
বাংলাদেশ টেস্ট দলের হয়েও খেলেছেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। ফাইল ছবি

জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার সাম্প্রতিক সময়ে দলে ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন। স্বভাবতই মনোযোগ ঘরোয়া ক্রিকেটে। করোনার ফাঁড়া কাটিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগ দিয়ে শীঘ্রই মাঠে ফিরবে ঘরোয়া ক্রিকেট। তার আগে রাব্বির আহ্বান- জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের যেন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

রাব্বি বলেন, ‘যত ভালো খেলোয়াড় খেলবে তত ভালো প্রতিযোগিতা হবে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা যদি এখানে খেলে বোর্ডের মনোযোগও কিন্তু এখানে ভালো থাকবে। এখানের মানটা আরও উন্নত হবে। আমার মনে হয় এখানে সবার খেলা উচিত।’

Also Read - নাসির-তামিমার গায়ে হলুদে তারার মেলা


যদিও ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে এখন আগের মত ঢালাওভাবে অভিযোগ করার সুযোগ নেই ক্রিকেটারদের। খেলোয়াড়দের আন্দোলনের মুখে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর সর্বশেষ মৌসুমে বাড়ানো হয় সুযোগ সুবিধা ও ম্যাচ ফি। তবুও ঘরোয়া ক্রিকেটের মান কতটা বাড়ছে সেই প্রশ্ন থাকছেই।

প্রথম শ্রেণির দুই টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) খেলেন না জাতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার। হাতে গোণা কয়েকজন খেললেও নিয়মিত নন। জাতীয় দলের ব্যস্ততায় ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট যেন অবহেলিত। ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নিয়েও ক্রিকেটারদের প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। রাব্বি মনে করেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললে বাড়বে এখানকার মানও।

বিসিএলের শুরুতেও নেই মুশফিক
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে খেলার প্রবণতা কম। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘আগের থেকে যদিও আরো উন্নত হয়েছে। আমাদের যে চাহিদাগুলো ছিল তার বেশিরভাগই পূরণ করা হয়ে গেছে। আমার মনে হয় দিন দিন আরও উন্নত হওয়া উচিত। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা খেললেই উন্নতি হওয়া সম্ভব। অন্যথায় এটা কঠিন। তারা খেললে সুযোগ-সুবিধা ভালো হবে, উইকেট ভালো হবে, তখন বোর্ডের মনোযোগও খুব বেশি থাকবে এদিকে। এখানকার পারফরম্যান্সও তখন গণ্য করা হবে, এখানকার খেলোয়াড়দের সাথে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তফাৎটাও বোঝা যাবে।’

রাব্বি তবুও ঘরোয়া ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধা কমতি দেখছেন এখনো। এনসিএল ও বিসিএলে সুযোগ সুবিধা বাড়ালে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও খেলার আগ্রহ পাবেন বলে মনে করেন রাব্বি, ‘ম্যাচ ফি এর একটা বিশাল পার্থক্য আছে। দৈনিক ভাতার একটা বিশাল পার্থক্য আছে। এছাড়া হোটেল সুবিধা, যাতায়াত এগুলোর বিশাল পার্থক্য আছে। যেটা কিনা ১০০/১০। এই পার্থক্য অনিহার কারণ হতে পারে। গত বছর আমাদের চাহিদার প্রায় ৩০ ভাগ পূরণ করা হয়ে গেছে। এখন বলতে গেলে আমরা ৫০/৬০ ভাগ ভালো ফ্যাসিলিটি পাই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে, বিসিএলে হয়ত আরও একটু বেশি পাই।’

তবে রাব্বি মনে করেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চাপ প্রয়োগ করা উচিত। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ম্যাচ না খেললে পরবর্তী টেস্টে জায়গা পাওয়া যাবে না- এমন কোনো নিয়ম করা যায় কি না সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাব্বির ভাষায়, ‘ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে, শুধু বেতন বাড়েনি। বেতন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেতন বাড়লে আমাদের জন্য খুব ভালো হয়। দেখেন জাতীয় দলের ম্যাচ ফি এর সঙ্গে আমাদের ম্যাচ ফি এর বিশাল পার্থক্য। যদি পার্থক্য কমানো যায় তাহলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এই অনীহা থেকে বের হয়ে এখানে খেলার আগ্রহ পাবে।’

‘তাছাড়া আরও একটি জিনিস- বোর্ড যদি তাদের একটু চাপ দেয় তাহলে মনে হয় তারা খেলবে। যদি এমন হয়- এখানে না খেললে সামনের টেস্ট খেলতে পারবে না বা এরকম কিছু, তখন অটোমেটিক… সবকিছুই তো প্রেশারের ওপর আমি মনে করি।’– বলেন তিনি।

Related Articles

আর্থিক দুরাবস্থায় ক্রিকেটাররা; ঘরোয়া ক্রিকেট চালুর দাবি

শান্তর সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ সংগ্রহ

করোনা কালের লড়াইয়ে কামরুল ইসলাম রাব্বি

যুবাদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের যত হ্যাটট্রিক

ইমরুল চট্টগ্রামের দ্বিতীয় গেইল!