সাকিব, তামিমে সুপার সিক্স নিশ্চিত আবাহনির

সাইফ হাসানের বলে দারুণ এক শট খেলে বাউন্ডারি ছাড়া করলেন তামিম ইকবাল। এরই সাথে নিশ্চিত হলো দলের জয়, না শুধু জয়ই নয় একই সাথে ওয়ালটন প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগের সুপার সিক্স পর্বে খেলাও নিশ্চিত হয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন আবাহনী লিমিটেডের। আসরের এক পর্যায়ে সুপার সিক্স টপকানো আবাহনীর জন্য কঠিন কাজ মনে হলেও শেষদিকে টানা কয়েকটি ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিতে ঠিকে সুপার সিক্স বাঁধা টপকে গেল আবাহনী লিমিটেড।

 

ম্যাচ জয়ের পর মাঠ ছাড়ছে আবাহনীর ক্রিকেটাররা।

Also Read - বিসিবিকে 'না' বলে দিলেন আকিব জাভেদ


জিতলেই সুপার সিক্স নিশ্চিত এমন সমীকরণের ম্যাচে ক্রিকেট কোচিং স্কুলের দেওয়া ২০৫ রানের জবাবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক  ক্রিকেট খেলতে শুরু করে আবাহনী লিমিটেড। বৃষ্টি হানা দিতে পারে ম্যাচে সেক্ষেত্রে দলকে পড়তে হতে পারে বৃষ্টি আইনের বাঁধায় তাই ডাউনে পরিবর্তন এনে  ইউসুফ পাঠানকে সাথে নিয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করে তামিম ইকবাল। ডাউন পরিবর্তন করলেও কাজের কাজটি করতে পারেননি ইউসুফ পাঠান। শুরুতে পরপর ২ চার করে নিলেও থেমে যান ব্যক্তিগত পঞ্চম বল বলে।

ইউসুফের ফিরে যাওয়ার পর তামিম ইকবালের সাথে জুটি গড়েন নাজমুল হাসান শান্ত। এই দুই ব্যাটসম্যান যখন ধীরে-ধীরে ক্রিজে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন তখন ১২ ওভারের সময় ম্যাচে হানা দেয় বৃষ্টি। বৃষ্টি বাঁধায় দীর্ঘ ১.৩০ মিনিট পর খেলা পূনরায় শুরু হলে ম্যাচ অফিশিয়ালরা ওভার কমিয়ে আনেন। তখন আবাহনীর সামনে নির্ধারণ করে দেওয়া হয় জয়ের জন্য ৩৫ ওভারে ১৬৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা।

নতুন এই লক্ষ্যমাত্রায় তামিম ইকবাল নাজমুল হোসেন শান্ত বেশ ভালোভাবেই দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। এবং শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে নাজমুল হাসান ও তামিম ইকবাল ৫০ বল হাতে রেখেই দলকে এনে দেন ৯ উইকেটের বড় জয়। ৮৬ বল মোকাবেলায় ১১ চার আর ৪টি বিশাল ছয়ের মারে তামিম অপরাজিত থাকেন ১০৫ রানে আর নাজমুল হাসান অর্ধ-শতক পূরণ করে অপরাজিত থাকে ৫৩ রানে।

এর আগে ক্রিকেট কোচিং স্কুল আগে ব্যাট করতে গিয়ে যথারীতি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। ১০.৪ ওভারে ৪৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের হাল ধরেন রাজিন সালেহ ও উদীয়মান ক্রিকেটার সাইফউদ্দিন। ইঞ্জুরি থেকে ফিরে অর্ধশতক পূর্ণ করার পাশাপাশি চতুর্থ উইকেট জুটিতে রাজিন সালেহ’র সাথে যোগ করেন মূল্যবান ১২৩ রান। রাজিন সালেহ ইনিংস সেরা ৯৫ রান করে শতক না হাঁকানোর ব্যাথা মাঠ ছাড়ার পরক্ষণেই আবারো ছন্দ হারায় সিসিএসএ। আবাহনীর বোলারদের দৃঢ়তায় ৫০ ওভার ব্যাট করে ২০৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় সিসিএসএ। আবাহনীর পক্ষে সাকিব আল হাসান ৩টি, তাসকিন, আবুল হাসান ও মোসাদ্দেক ২টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

সিসিএসএঃ ২০৫-১০ (৫০ ওভার)
সালেহ ৯৫, সাইফউদ্দিন ৫০; ৩৫-৩

আবাহনীঃ ১৭০-১ (২৬.৪ ওভার)
তামিম ১০৫*, শান্ত ৫৩*; নাজমুস ১৬-১

ফলাফলঃ আবাহনী লিমিটেড ৯ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরাঃ তামিম ইকবাল (১০৫* রান)

-ইমরান হাসান, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটিম ডট কম

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন