Scores

সাকিব-ধোনি ভোটে যেভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারালো ক্রিকইনফো

 

সম্প্রতি ক্রিকইনফো ১৬ জন ক্রিকেটার নিয়ে এই দশকের সেরা খেলোয়াড়ের একটি পোল আয়োজন করেছে। যেখানে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হনসাকিব আল হাসান। সাকিব দর্শকের ভোটে সেরা ৮ এ পৌঁছে যান। সেরা ৮ এ সাকিবের প্রতিপক্ষ ছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনী। তবে এই লড়াইয়ের ফলাফল নিয়েও চলছে বর্তমানে অনেক আলোচনা সমালোচনা। প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকইনফোর মতো ওয়েবসাইটের নিরপেক্ষতা নিয়ে।

সাকিব আল হাসান

Also Read - আইসিসির পরিকল্পনার বিপক্ষে কোহলি


সাকিব ও ধোনির ভোটাভুটিতে যে বড় ধরনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে তা আগে থেকেই ধারণা করা যাচ্ছিল। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে লড়াইয়ে অধিকাংশ সময় এগিয়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। ভারতে ধোনির হয়ে ভোট চাওয়ায় যোগ দেয় চেন্নাই সুপার কিংসের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট। এছাড়াও ধোনির পক্ষে ভোট চান ভারতের বেশ জনপ্রিয় টুইটার তারকারা। পুরো তামিলনাড়ুর বিভিন্ন পেইজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধোনির পক্ষে তুমুল প্রচারনা চালানো হয়।


তবে এরপরও সাকিব এগিয়ে ছিলেন। ক্রিকইনফোর পোলে ভোট দেওয়ার শেষ সময় ছিলো ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা পর্যন্ত। ঠিক সেই সময় পর্যন্তও সাকিব ৫১ ভাগ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন পোল জয়ের জন্য। তবে মুহুর্তের মাঝেই তা হয়ে যায় ৫০ ভাগ ধোনির পক্ষে, ৫০ ভাগ সাকিবের পক্ষে। সাধারণত ৪৯.৫ এর উপরে ভোট চলে গেলে বিশাল পোল গুলোতে ৫০ ভাগ দেখানো হয়।

ধোনির ভোট শেষ সময়ে ৪৯.৫ থেকে বেড়ে ৪৯.৫১ হলেও মোট হিসেবে সাকিবের জয়ের কথা। তবে ঠিক কত শতাংশ ও কার ঠিক কতগুলো ভোট পড়ল তা ক্রিকইনফোর পোলে দেখানো হয়নি। কে কতগুলো ভোট পেয়েছে সেই সংখ্যা দেখালো আরো পরিষ্কার হওয়া যেত কে কতটুকু এগিয়ে।

তবে অবাক করে দিয়ে দেখানো হয় বাংলাদেশ সময় ১টা বাজার পর মোট ভোট সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোট গ্রহণের নির্ধারিত সময় দুপুর ১টার পরও মোট ভোট বৃদ্ধি পায়। ১টা বাজার শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সাকিব এগিয়ে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত সময়ের বাইরে গিয়ে ভোট বৃদ্ধি করার সুযোগ খোলা রাখে ক্রিকইনফো। অবশেষে ধোনিকেই বিজয়ী ঘোষণা করে ক্রিকইনফো কতৃপক্ষ কোন প্রকার ঘোষণা ও কারন দর্শানো ছাড়াই।

এই নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের মনে প্রশ্ন ক্রিকইনফোর মতো বৈশ্বিক ওয়েবসাইটও কি তাহলে বিশ্বাসযোগ্যতা হারালো? একটি আনঅফিসিয়াল পোলে জয় বা হার বড় কথা নয়। ধোনি ও সাকিব দুইজনই ক্রিকেটের লিজেন্ড সারির খেলোয়াড়। কে বড় বা কে ছোট সেটাও এখানে ব্যাপার নয়। এই পোল জিতলে বা হারলে ধোনি বা সাকিব কেউ বড় বা ছোট খেলোয়াড় হয়ে যাবেন না। প্রশ্ন হচ্ছে ক্রিকইনফোর মতো ওয়েবসাইটের নিরপেক্ষতা নিয়ে। একটি ভোট আয়োজন যার ফলাফল স্বচ্ছ ভাবে দেওয়া উচিত তা না করে তারা সময় শেষ হওয়ার পরও ভোট গ্রহন অব্যাহত রেখে একজনকে জয়ী ঘোষণা করা কতটুকু ঠিক?

৫০-৫০ এ পোল শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত ভোট কে কতটি পেয়েছে তা না জানিয়ে সরাসরি ধোনিকে বিজয়ী ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন দর্শকদের মাঝে।

আরো অন্য ভোটাভুটি একই সময়ে চললেও ক্রিকইনফোর পেইজ থেকে বারবার ধোনি ও সাকিবের পোলের কথাই পোস্ট দিয়ে সবাইকে স্মরন করিয়ে দেওয়া হয়েছে যখনই ধোনি পিছিয়ে ছিলেন। প্রশ্ন উঠতে পারে শুধু এই পোল নিয়েই এত পোস্ট কেনো ছিলো ক্রিকইনফোর। তাহলে কি ধোনিকে জয়ী দেখাই ক্রিকইনফোর উদ্দেশ্যে ছিলো?

এই ভোটাভুটির ফরম্যাট নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ভারতের জনসংখ্যা ১৩০ কোটি। ভারতের সবচাইতে ২ জনপ্রিয় ক্রিকেটার কোহলি ও ধোনির প্রতিযোগি এই ভোটাভুটিতে এমন ভাবেই নির্ধারিত করা হয়েছে যাতে ফাইনালের আগে কোহলি ও ধোনির দেখা না হয়। প্রশ্ন উঠেছে এই ২ জন ফাইনালে গেলে বেশি ভারতীয়দের ভোট পাওয়া যাবে ও ক্রিকইনফোর আর্থিক আয় বেশি হবে ভোটের ফলে তা বিবেচনা করেই কি এই ২ জনকে ভোটাভুটির ২ প্রান্তে রাখা ও সাকিব এগিয়ে থাকার পরও ধোনিকে বিজয়ী ঘোষণা করা?

ভক্তদের মনে ওঠা এই প্রশ্নগুলোর জবাব ক্রিকইনফো হয়তো দিবেনা। তবে এই পোলের ফলাফলের পর ক্রিকইনফোর গ্রহনযোগ্যতা বাংলাদেশের ভক্তদের কাছে অবশ্যই কমে যাবে। সাকিব ও ধোনি ২ জনই লিজেন্ড খেলোয়াড় যার যার দেশে ও নিজ নিজ ক্যাটাগরিতে, তারা সবসময় লিজেন্ডই থাকবেন।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
Tweet 20
fb-share-icon20

Related Articles

ধোনির ভবিষ্যৎ জানেন ব্রাভো!