সাব্বিরের শতকের পরও হারলো রাজশাহী

অবশেষে বিপিএলে রান বন্যা। ব্যাট হাতে চার ছক্কার ফুলঝুরি ছোটান মুশফিকুর রহিম, শাহরিয়ার নাফিস আর সাব্বির রহমান। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে যান সাব্বির। তারপরেও ৪ রানে হারতে হয় সাব্বির রহমানের দল রাজশাহী কিংসকে।

নাফিস ও মুশফিক

মিরপুরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বরিশাল বুলস। তবে তাদের ব্যাটিং মোটেও কোনো বড় স্কোরের আভাস দেয়নি। পাওয়ারপ্লে শেষে যে তাদের স্কোর ছিলো ২ উইকেটে ২৮। দলীয় ২১ রানের মাথাতেই ফিরে যান দুই ওপেনার। দুজনকেই ফেরান রাজশাহীর ফরহাদ রেজা। সব মিলিয়ে আরো একটি লো স্কোরিং ম্যাচের বার্তাই দিচ্ছিলো বরিশালের ব্যাটিং।

Also Read - কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দলে আরও তিন বিদেশী ক্রিকেটার


দলের রানের গতি বাড়ান শাহরিয়ার নাফিস ও মুশফিকুর রহিম। তাদের জুটিতে বরিশাল বুলসের রান দ্রুত বাড়তে থাকে। এবারের আসরের প্রথম শতরানের জুটিও গড়েছেন তারা। ১১২ রানের  থামে এ জুটি।

ব্যাট হাতে রাজশাহীর বোলারদের ওপর বেশ চড়াও হয়ে খেলেন দুজন। দুজনেই অর্ধশতক তুলে নেন। দলীয় ১৩৩ রানের মাথায় ড্যারেন স্যামির বলে আউট হন নাফিস। তবে এর আগের ওভারেও দুই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ঐ ওভারেও হাঁকিয়েছিলেন এক ছয় আর এক চার। ৪ টি চার আর ৪ টি ছক্কা সমৃদ্ধ ৮১ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন নাফিস।

প্রায় প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি আসছিলো দুজনের ব্যাট থেকে। মুশফিকের দারুণ স্লগ সুইপ দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকটি। রাজশাহীর ফিল্ডাররা ব্যস্ত ছিলো বল তাড়ায়।

নাফিস-মুশফিকের জুটি ভাঙার পর তাণ্ডব শুরু করেন লঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা। আবুল হাসানকে লং অনের ওপর বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে সেই তাণ্ডবের শুরু। আর সাথে অধিনায়ক মুশফিকের ঝড়। শেষ তিন ওভারে দুজন মিলে রান তুললেন ৪৭। ৫২ বলে ৮১ করে অপরাজিত থাকলেন মুশফিক। আর রাজশাহীর লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৮৯।

হাওয়ায় ভাসছে সাব্বিরের শট

শুরুতেই ধাক্কা খায় পদ্মা পাড়ের দল। দ্বিতীয় বলেই হারায় রকিবুল হাসানকে। ব্যাট হাতে নেমেই চড়াও হন সাব্বির রহমান। দলকে জয়ের স্বপ্নও দেখান তিনি।

কখনো ডাউন দ্যা ট্র্যাকে এসে কখনো ক্রিজে দাঁড়িয়ে, সাব্বির একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে রাজশাহীকে বিপদে ফেলে দেন আল-আমিন হোসেন। পঞ্চম ওভারে পেরেরার দারুণ ক্যাচে আল-আমিনের শিকার হন ওপেনার মুমিনুল। পরের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন উমার আকমলকে।

তবে তা কোনো প্রভাব ফেলেনি সাব্বিরের মারমুখী ব্যাটিংয়ে। খুনে মেজাজে যেন খেলতে থাকেন তিনি। মাত্র ২৬ বলেই অর্ধশতক পূরণ করেন তিনি। অর্ধশতকের পথেই তিনটি চার আর তিনটি ছক্কা মারেন। সাব্বিরকে সঙ্গ দেন প্যাটেল। আবু হায়দারের বলে ১৫ রান করে মুশফিকের  গ্লাভসবন্দী হন তিনি। তবে তখনো থামেনি সাব্বির ঝড়। ১৪তম ওভারে মনির হোসেনকে হাঁকান দুই বলে দুই ছক্কা। পরের ওভারে আবু হায়দারের বলে শেষ তিন বলে করেন ১৬। ঐ ওভারে শতক তুলে নেন। অথচ ব্যাক্তিগত ১৪ রানের মাথাতেই একটি জীবন পেয়েছিলেন সাব্বির। বরিশালকে সেই ভুলের জন্য ভালোই ধুঁকতে হয়েছে।

১৬ তম ওভারে আল-আমিনের বলে আউট হন সাব্বির। ৬১ বলে ১২২ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান। তারপর হাল ধরেন অধিনায়ক স্যামি। তবে শেষ ওভারের আগের ওভারে এমরিটের বলে স্যামি বোল্ড হলে রাজশাহী চাপে পড়ে যায়। ১৯ বলে ২৭ করেন স্যামি।

শেষ ওভারে রাজশাহীর দরকার ছিলো ৯ রান। থিসারা পেরেরা মাত্র ৪ রান দেন। ৪ রানের জয় পায় মুশফিকের বরিশাল বুলস।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ বরিশাল বুলস ১৯২/৪, ২০ ওভার
মুশফিক ৮১, নাফিস ৬৩, পেরেরা ২৪
ফরহাদ ২২/২, স্যামি ৩৬/১

রাজশাহী কিংস ১৮৮/৪, ২০ ওভার
সাব্বির, ১২২, স্যামি ২৭, প্যাটেল ১৫
আল-আমিন ৩৫/৩, আবু হায়দার ২৯/১

ম্যাচসেরাঃ সাব্বির রহমান

-আজমল তানজীম সাকির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটিম ডট কম 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন