SCORE

সর্বশেষ

সাব্বির-ইমরুলের অন্তর্ভূক্তি কতোটা যুক্তিপূর্ণ?

শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফির দল ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হেঁটেছিলেন নির্বাচকেরা, এবার সে পথ মাড়ানো থেকে বিরত থাকলেন তারা। তবে বিতর্ক এবারও পিছু ছাড়েনি। দলে আবারো অভিজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি দেখা গেলেও দুজন খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুজনের একজন হলেন সাব্বির রহমান, যিনি কিনা পালাক্রমে খারাপ খেলে যাচ্ছেন। আর অপরজন ইমরুল কায়েস, যার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যান রীতিমত অচল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে এই দুজন কেন স্কোয়াডে?

সাব্বির রহমান গত কয়েকমাস যাবৎ সবচেয়ে সমালোচিত ক্রিকেটার। মাঠের পারফরম্যান্স যাচ্ছেতাই, আবার মাঠের বাইরে নানা শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ায় তার দলে অন্তর্ভুক্তি প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা আর আর্থিক জরিমানা গুণে এমনিতেই সমালোচনার জাঁতাকলে পড়ে আছেন সাব্বির রহমান। তার উপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ চলাকালে টিম হোটেলে রাত জেগে ফেসবুক লাইভে এসে নিন্দিত হয়েছেন। তারপরও যদি মাঠের খেলায় ভাল কিছু করে দেখাতে পারতেন তাহলে হয়তো তাকে নিয়ে এতো সমালোচনা হতো না। কিন্তু সেখানেও তার ব্যর্থতাই স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তিন ফরম্যাটেই রান করতে ব্যর্থ সাব্বির। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ৬৬ রান করার পর থেকে এই ফরম্যাটে ধুঁকছেন তিনি। তার সর্বশেষ ৭ ইনিংসের মধ্যে মাত্র দুইবার দুই অংকের ঘরে পৌঁছতে পেরেছেন তিনি। সর্বোচ্চ রান ৩০। বাকি ইনিংসের দিকে একবার দেখুন- ২৪, ৪, ৪, ০, ১। এই সময়ে টেস্টে তার সর্বমোট রান মাত্র ৬৩!

Also Read - রাজনীতিবিদ ওয়ার্নার!

 

Image result for Sabbir Rahman

সাব্বির শুধু টেস্টেই নয়, বরং বাকি দুই ফরম্যাটেও রীতিমত নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। ওয়ানডেতে গত বছর ডাবলিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৫ রানের ইনিংস খেলার পর থেকে রানের দেখা পাচ্ছেন না তিনি। সেই ম্যাচের পর আরও ১১ ম্যাচ খেলে তার মোট রান ১৭১। সাতবার দুই অংকের দেখা পেলেও সেরা স্কোর ৩৯, বাকিগুলোতে ত্রিশের কোঠা ছাড়ানো কোন ইনিংস নেই। আর টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং গড় ২৬.৬৪ হলেও শেষ ছয় ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৭৮ রান। এরমধ্যে শেষ দুই ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে যথাক্রমে ৫ ও ১ রান। অথচ এমন অস্বাভাবিক সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সত্ত্বেও নির্বাচকদের বিবেচনায় এসেছেন সাব্বির। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার পিছনে যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন, গত এক বছর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান সাব্বিরের। আর তার চেয়ে বড় কথা, তার অভিজ্ঞতা আছে। বিগ ম্যাচ খেলার টেম্পারমেন্টও আছে। প্রতিপক্ষ যেহেতু ভারতের মত শক্তিশালী ও পরিপক্ক দল, তাই সাব্বিরকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

প্রথমত, গত এক বছর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান সাব্বিরের, কথাটি সঠিক নয়। তিনি কিভাবে এই কথা বললেন তা বলা মুশকিল। সাধারণ ক্রিকেটভক্তও জানেন সাব্বির মোটেও সবচেয়ে বেশী রান করা ব্যাটসম্যান নন, বরং ব্যাটসম্যানটি সৌম্য সরকার। দ্বিতীয়ত বিদেশের মাটিতে সাব্বিরের রেকর্ড খুব ভাল এমনটাও নয়। যিনি কি না ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কিছুই করতে পারলেন না, তিনি ভারতের মত শক্তিশালী ও পরিপক্ক দলের বিপক্ষে ভাল করবেন এমন আশাবাদ তিনি করতেই পারেন। কিন্তু তা বাস্তবের সাথে মিলছে না। যদিও ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। সাব্বির হয়তো ভাল করতেও পারেন। কিন্তু যেসব যুক্তি নান্নু দেখাচ্ছেন, সেগুলো শুনতে অস্বাভাবিক লাগছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গত ৬ ইনিংসে ২০ রান করা একজন খেলোয়াড় আরও সুযোগ দাবী করতে পারেন কিনা সেটাই প্রশ্ন। পিএসএল খেলতে গেছেন সাব্বির রহমান, তাও সাকিবের বদলি হিসেবে। মাঠে নামতে না নামতেই তাকে দলে ডাকা হলো। এর মাঝে কি এমন করলেন সাব্বির যে তাকে দলে নিতে হলো?

সাব্বিরের পর আরেকজনকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি হলেন ২০১৭ সালে ৬ ম্যাচে ৫২ রান করা ইমরুল কায়েস। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার ক্যারিয়ার গড় ৯.১৫! যদিও টেস্ট এবং ওয়ানডেতে তার গড় খুব একটা খারাপ না। ৩৪ টেস্টে ২৬.২৩ গড়ে তিন শতক ও চার অর্ধশতকে ১৬৩৯ রান আর ৭০ ওয়ানডেতে ২৮.৯৫ গড় এবং ৬৭.৯৩ স্ট্রাইকরেটে দুই সেঞ্চুরি ও ১৪ হাফ সেঞ্চুরিসহ ১৯৮৮ রান, এই পরিসংখ্যান খারাপ বলা যায় না। তাই বলে টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিকভাবে অধারাবাহিক খেলা একজন ব্যাটসম্যানকে কোন যুক্তিতে দলে নেওয়া হলো? এখানেও নান্নুর অকাট্য যুক্তি, তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের সাথে তৃতীয় ওপেনার বা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে রাখা হয়েছে। কারণ? তিনি যেহেতু টেস্টে ওপেন করে থাকেন আর ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে তার ভালো খেলার রেকর্ড আছে, তাই থার্ড ওপেনার হিসেবে নেয়া হয়েছে, সুন্দর যুক্তি। টেস্টে ভাল খেলার সাথে টি-টোয়েন্টির কি সম্পর্ক? তাহলে মুমিনুল কি দোষ করেছেন? এই মুহূর্তে মুমিনুলই দেশের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান।

Image result for imrul kayes

ইমরুল কায়েসের টি-টোয়েন্টিতে ১৪ ম্যাচ খেলে গড় ৯.১৫, স্ট্রাইকরেট ৮৮.৮০ সর্বোচ্চ ৩৬! সত্যিই অভিজ্ঞতা তার অনেক। কিন্তু সেটা টেস্ট এবং ওয়ানডেতে। টি-টোয়েন্টিতে কি তার কোন বিকল্প নেই? নতুনদের নিয়ে তাহলে কি লাভ হলো? তিন ফরম্যাটে গত ৯ ম্যাচে ১১ বার দল ঘোষণা করে ডাকা হয়েছে ৩২ খেলোয়াড়কে। মাঠে নেমেছেন ২৮ জন। দল নির্বাচনে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট কতটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে তা এতেই স্পষ্ট। খেলোয়াড় স্বল্পতার কারণেই এমনটা ঘটছে বলে অনেকের অভিমত। তাই বলে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে খেলোয়াড় টানতে দেখাটা ভাল লক্ষণ নয় মোটেও। অফ স্পিনার নাঈম হাসানকে যুব বিশ্বকাপ চলাকালীন দলে ডাকা হয়েছিল। ডেকে আবার বসিয়েও রাখা হয়েছিলো। ডিসেম্বরে ঘোষিত ৩২ জনের প্রাথমিক দলে না থাকা জাকির হাসানকে হুট করেই দলে ডাকা হলো। এবার আবার জাকির হাসান আর আফিফ হোসেন ধ্রুবকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ম্যাচ খেলার পরই বাদ দেওয়া হলো। নতুনদের জায়গা না দিয়ে ধারাবাহিকভাবে খারাপ খেলতে থাকা সাব্বির আর টি-টোয়েন্টিতে অনুপযোগী ইমরুলকে অন্তর্ভূক্ত করা কিসের ইঙ্গিত বহন করে?

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও দেখল সর্প-নৃত্য!

একের পর এক নির্বাচকদের সিদ্ধান্তহীনতা আর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ক্রিকেট। যে শ্রীলঙ্কার মাটিতে সর্বশেষ সিরিজ ড্র করে ফিরেছিলো, সেই একই দেশে এবার ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে গঠিত দলটি নিয়ে সমালোচনা হোক তা কেউ চায়না। কিন্তু দলে অনভিপ্রেত পরিবর্তন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি আর তা হতে দিচ্ছে কই? সাব্বির-ইমরুলের অন্তর্ভুক্তি সেই প্রশ্ন রেখেই গেলো।

-মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক

আরও পড়ুনঃ রাজনীতিবিদ ওয়ার্নার!

Related Articles

টেস্ট ক্রিকেটের কাঠিন্য মানতে নারাজ ইমরুল

‘সমর্থন দিন, গালি দিয়েন না’

যে কারণে বাদ তাসকিন-ইমরুল-সোহান

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে লিটন!

রাজ্জাকের স্পিন ঘূর্ণিতে চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণাঞ্চল