সিমন্স-সোহানের বীরত্বে চট্টগ্রামের জয়

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও বিপদে পড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। শুরুতে এক প্রান্ত আগলে রাখে আশা বাঁচিয়ে রাখেন ওপেনার লেন্ডল সিমন্স। শেষে নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটিং নৈপুণ্যে জয় ছিনিয়ে আনে  চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

সিমন্স-সোহানের বীরত্বে চট্টগ্রামের জয়

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করেন সিলেট থান্ডারের দুই ওপেনার রনি তালুকদার এবং আন্দ্রে ফ্লেচার। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে পেসার মেহেদী হাসান রানার দুর্দান্ত বলে বোল্ড হন রনি।  রুবেল হোসেনের করা পরের ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন শাফাকুল্লাহ।  ২৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ মিঠুন আর আন্দ্রে ফ্লেচার গড়েন ৩৯ রানের জুটি। ফ্লেচারকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মুক্তার আলি। ৩২ বলে ৩৮ রান করেন ফ্লেচার।

Advertisment

পরের ওভারে রানার দ্বিতীয় শিকার হন মিঠুন (১৫)। তুলে মারতে গিয়ে বিদায় নেন তিনি। ঐ ওভারেই জনসন চার্লস কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে বল তুলে নেন চার্লস। এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে আরো চাপে পড়ে সিলেট থান্ডার। মেইডেন ডাবল উইকেট নেন রানা।

মোসাদ্দেক হোসেন আর নাঈম হাসান মিলে গড়েন ৪০ রানের জুটি। ১৬ বলে ১১ রান করে বিদায় নেন নাঈম। ২২ বলে ৩০ রানের প্রয়োজনীয় ইনিংস খেলে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। শেষে দেলোয়ার হোসেন ৪ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং কৃস্মার সান্টোকি ৬ বলে ৯ রান করেন। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে সিলেট থান্ডার।

লক্ষ্য তাড়া  করতে নেমে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ধাক্কা খায় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই। কৃস্মার সান্টোকির বলে বোল্ড হন ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দো। মাঝে ফ্লাডলাইটের ত্রুটির কারণে কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল খেলা।

নিজের পরের ওভারে এসে ফর্মে থাকা ইমরুল কায়েসের উইকেট তুলে নেন সান্টোকি। মিড উইকেটে দারুণ ক্যাচ নেন বদলি  ফিল্ডার আব্দুল মজিদ। ৭ বলে ৬ রান করেন তিনি।  পরের ওভারে ইবাদত হোসেনের বলে বোল্ড হন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। রিয়াদের স্টাম্প উপড়ে ফেলেন ইবাদত। ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

এক প্রান্ত আগলে রাখা লেন্ডল সিমন্স আর চ্যাডউইক ওয়ালটন যোগ করেন ২২ রান। ১২ বলে ৯ রান করে দেলোয়ার হোসেনের বলে বিদায় নেন ওয়ালটন। এরপর সিমন্সকে সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। নুরুল আর সিমন্সের ব্যাট দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। আশার প্রদীপ সিমন্স রান আউট হয়ে ফিরেন। সিঙ্গেলের জন্য দৌড় দিলেও নুরুল তাতে সাড়া দেননি। এক পর্যায়ে দুজন এক প্রান্তে চলে আসলে রান আউট হন সিমন্স। ৩৭ বলে ৪৪ রানের এক দারুণ ইনিংস খেলেন সিমন্স। সেই ইনিংসে ছিল তিনটি চার আর তিনটি ছক্কা।

পরের ওভারে মুক্তার আলিকে এলবডিব্লিউ করেন সান্টোকি। ৮৫ রানে ৬ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। সেখান থেকে হাল ধরেন নুরুল হাসান সোহান। দেলোয়ারের এক ওভারে হাঁকান দুই ছক্কা। এর মধ্যে একটি ছিল ১১০ মিটার লম্বা যা এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে বিপিএলের সবচেয়ে বড় ছক্কা।

শেষ ২৪ বলে ২৪ রান প্রয়োজন ছিল রিয়াদদের। ইবাদতের করা ১৭ তম ওভারেই ম্যাচ নিজেদের হাতে নিয়ে আসেন সোহান। লং অনের ওপর দিয়ে দুর্দান্ত শটে চতুর্থ বলে চার আর পঞ্চম বলে ছক্কা মারেন সোহান। ঐ ওভারে ১৩ রান হলে সমীকরণ সহজ হয়ে যায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের জন্য।

পরের ওভারে নাঈম হাসানের বলে চার আর ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন কেসরিক উইলিয়ামস। উইলিয়ামস ১৭ বলে ১৮ এবং সোহান ২৪ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট থান্ডার ১২৯/৮, ২০ ওভার
ফ্লেচার ৩৮, মোসাদ্দেক ৩০, মিঠুন ১৫
রানা ৪/২৩, রুবেল ২/২৮, মুক্তার ১/২৬

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১৩০/৬, ১৮ ওভার
সিমন্স ৪৪, সোহান ৩৭*, উইলিয়ামস ১৮*
সান্টোকি ৩/১৩, ইবাদত ১/২৮, দেলোয়ার ১/৩১