Scores

সেই চেনা দৃশ্যের অপেক্ষায়

মিরপুরে অন্য কোনো ম্য্যাচের  জন্য এত টিকিটের চাহিদা ছিল কিনা কেউ মনে করতে পারছে না। এমন উন্মাদনা দেখে  স্মৃতির রোলার কোস্টারে চড়ে অনেকেই ফিরেছেন ২০১১ বিশ্বকাপে। কিন্তু এবার তো বিশ্বকাপ নয়। একটা টেস্ট ম্যাচ। না, শুধুমাত্রই একটা টেস্ট ম্যাচ না।

 

সেই চেনা দৃশ্যের অপেক্ষায়
বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার এ টেস্ট ম্যাচ হাজারো ক্রিকেটপ্রেমীর কাছে যেন মরুভুমির বুকে এক পশলা বৃষ্টি। চৌচির হয়ে যাওয়া ফসলের মাঠ যেমন অপেক্ষা করে এক ফোঁটা পানির জন্য, তেমন অপেক্ষাতেই ছিল ব্যাট-বলের লড়াইয়ের প্রেমিকরা। এ টেস্ট ম্যাচ যেন পিপাসার্ত ছটফট করতে থাকা মনকে শীতল করে দিচ্ছে, হৃদয়ে বইয়ে দিচ্ছে প্রশান্তির বাতাস।

Also Read - "আইপিএলের জন্য অক্টোবর-নভেম্বরই সেরা সময়"


দেখতে দেখতে টেস্ট ম্যাচটা শেষের পথে। পঞ্চম দিনের শেষ বিকেল। গ্যালারি থেকে দেখা যাচ্ছে আম্পায়ারের সাথে কথা বলছেন একজন ফিল্ডার। জার্সির পেছনে সংখ্যা ‘৭৫’। যথাসময়ে এ সিরিজ আয়োজন হলে হয়তো দর্শক থাকতেন তিনি। ক্রিকেটের বাইরে তাকে রাখার সময়টাতে ক্রিকেটই ছিল নির্বাসনে। তিনি অবশ্য ফিরেছেন রাজার হালেই। বল হাতে প্রথম ইনিংসে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ব্যাট হাতে ছিল ফিফটি। স্মৃতি মানুষকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ২০১৭ সালে। যেখানে তারই ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। আজ দ্বিতীয়বারের মতো টাইগারদের ক্যাঙ্গারু বধের সুযোগ।

এই ম্যাচ শুরুর আগে কত আয়োজন। জ্বর থাকায় বাংলাদেশের টপ অর্ডারের একজন ব্যাটসম্যান বাদ পড়েছেন স্কোয়াড থেকে। অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং শিবিরও একই সমস্যায়। দর্শকদেরকেও গ্যালারিটে ঢুকতে হয়েছে তাপমাত্রার পরীক্ষা দিয়ে। বেশ কিছু মানুষকে আটকে দেয়া হয়েছে, তা নিয়ে বাকবিতণ্ডা কম হয়নি।

টেলিভিশনের দোকানগুলোর সামনে অবশ্য আর তিল ধারণের জায়গা নেই। রিকশাগুলো পড়ে আছে। চালক নেই। সেই রিকশায় দাঁড়িয়ে আছে তরুণেরা। চোখে তাদের রোমাঞ্চ এসে উপচে পড়েছে। ঠিক যেমন সৈকতে উপচে পড়ে সাগরের ঢেউ। ঘেমে আসছে হাতের তালু।

ঐ ৭৫ নম্বর জার্সির ক্রিকেটার আর আম্পায়ারের কথোপকথন এখনো চলছে। বোলারদের ঘূর্ণি ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের কিনারায় আলতো স্পর্শ করে চলে যাচ্ছে। ক্রিকেটারকে ছাতার মতো ঘিরে ফেলা হয়েছিল। তৎপর হয়ে শকুনের মতো চোখ করে তাকিয়ে থাকা। কিন্তু আম্পায়ার বললেন এত কাছাকাছি ফিল্ডার রাখা যাবে না! বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব।

এই সামাজিক দূরত্বটা মানতে সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিমের। অপর প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যান শতক পূর্ণ করলে ঐ ব্যাটসম্যানের চেয়ে তিনিই বেশি খুশি হন হয়তো। এবারও হয়েছে। কিন্তু সচরাচরের মতো তাকে আলিঙ্গন করতে পারেননি। সাকিব আল হাসান পঞ্চম উইকেট শিকারের পর যখন ডানা মেলেছিলেন, তখন সেই উড়ন্ত পাখির কাঁধে সওয়ার হওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। কিন্তু মনের ইচ্ছা মনেই ছিল। এসব চলবে না- এমন কঠোর নির্দেশনা আছে বিসিবি থেকে।

অবশ্য বাংলাদেশ আজকে লাভও পেয়েছে খানিকটা। বলে লালা ব্যবহার করা যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের রিভার্স সুইং তাই খুব একটা বিষাক্ত ছিল না।  তবু সুযোগসন্ধানী অস্ট্রেলিয়া একবার চেষ্টা করলেও আম্পায়ারের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি। পরে সেই বল বদলানো হয় জলদি।

অবশেষে আম্পায়ারদের কথায় ফিল্ডার সরানো হলো। বল হাতে দৌড় শুরু করলেন সাকিব। পুরো গ্যালারি জুড়ে একটাই ধ্বনি-  “বাংলাদেশ…বাংলাদেশ”!  গুড লেন্থে পিচ করে বলটা ভেতরে ঢুকছিল। ব্যাটসম্যান চেয়েছিলেন সামনে এসে ঠেকিয়ে দিতে। বলটা ব্যাটে না হয়ে লাগল প্যাডে। সাথে সাথে হাঁটু গেড়ে সাকিবের আবেদন।

সেই চিরচেনা দৃশ্যের মঞ্চায়ন। একসাথে বুঝি ১৬ কোটি কণ্ঠের গর্জে উঠা। চরম উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ নিয়ে চোখ ছানাবড়া করে তাকিয়ে থাকা। এ দৃশ্যের জন্যেই যেন বেঁচে থাকা…

কাল্পনিক

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

করোনা মুক্ত হলেন মাশরাফি

ভারতীয় ক্রিকেটেও আঘাত হানল করোনা

করোনা আক্রান্ত অমিতাভ বচ্চন, আরোগ্য কামনায় ক্রিকেটাররা

রবিবার করোনা পরীক্ষা করাবেন মাশরাফি

ভিন্ন ভূমিকায় খুলছে ইডেন