Scores

সেই স্কোয়াডের ‘৯ জন’ জায়গা পান জাতীয় দলে

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিরতিতে তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোচিত কিছু ম্যাচ, ঘটনা ও খেলোয়াড়দের কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য ব্যর্থতার ব্যাপারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচনায় থাকছে ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের কথা।

সেই স্কোয়াডের ৯ জন জায়গা পান জাতীয় দলে
২০১২ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল সপ্তমস্থান অর্জন করে। পাকিস্তানকে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হারিয়ে সপ্তম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ। কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যাওয়ায় সেমিতে যাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। তবে সেই বিশ্বকাপ দল থেকে একাধিক প্রতিভাবান জাতীয় দলের সদস্য পায় বাংলাদেশ জাতীয় দল। সেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন দলটির অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়। বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করেন তিনি।

 

Also Read - মিরাজের আত্মবিশ্বাসের মূলে ছিলেন মুস্তাফিজ


২০১২ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অর্ডারে ১, ২ ও ৩নং পজিশনে ছিলেন এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। গত ৬-৭ বছরে এই তিনজন খেলোয়াড়কেই বিভিন্ন ফরম্যাটে তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে বা ৩ নং পজিশনে ব্যাট করতে দেখা গেছে।

অধিনায়ক বিজয় বিশ্বকাপের পর দ্রুতই জাতীয় দলে সুযোগ পান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সিরিজে ভালো শুরুও করেন। জাতীয় দলে ওয়ানডে ফরম্যাটে বেশ কিছুদিন খেলার সুযোগ পান তিনি। পরবর্তীতে ফর্মের কারণে জায়গা হারান তারই সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সৌম্য সরকারের কাছে।

সৌম্যও সেই বিশ্বকাপে খারাপ খেলেননি। ২০১৪ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর কিছু সিরিজ ছাড়া দলের সাথেই আছেন সৌম্য।

সেই বিশ্বকাপে দলের অন্যতম সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান ধরা হতো লিটন দাসকে। বিজয় ও সৌম্যর মতো জাতীয় দলে দ্রুত সুযোগ না পেলেও ,পরবর্তীতে জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করে নেন লিটন ৩ ফরম্যাটেই। এই ৩ জনের মাঝে বর্তমানে দলে তার অবস্থাই সবচেয়ে শক্তিশালী।

 

যুব বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ছিলেন নুরুল হাসান সোহানও। জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হয়েছে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের। ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতানো সৈকতও একই ব্যাচের খেলোয়াড় ছিলেন। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও বিশ্বকাপের পর খানিকটা বিরতি দিয়েই জাতীয় দলে সুযোগ পান।

সৌম্য-তাসকিনের বাদ পড়ার কারণ

বোলারদের মাঝে তাসকিন আহমেদ অনেক সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন সেই বিশ্বকাপে। পরবর্তীতে জাতীয় দলেও কয়েক বছর ভালো পারফরম্যান্স করেন। তবে ইনজুরি ও ফর্মের কারণে আপাতত না থাকলেও ভবিষ্যতে যে তার সুযোগ থাকছেনা এমন বলা যায়না। পেসার আবু হায়দারও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন।

২০১২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দুই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে ফেরান আবু জায়েদ রাহী। সেই রাহী এখন টেস্টে জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। আরেক বোলার নাসুম আহমেদ বিপিএল পারফরম্যান্সের কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পান কিছুদিন আগে। যদিও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হয়নি এখনো।

সব মিলিয়ে সেই স্কোয়াডের মোট ৯জন খেলোয়াড় জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন বা স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। এর বাইরে নাইম ইসলাম জুনিয়র, আল-আমিন, দেওয়ান সাব্বিররাও ঘরোয়ায় খারাপ করেননি। বিশ্বকাপে খুব বড় কিছু করতে না পারলেও জাতীয় দলের জন্য এত প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করা প্রমাণ করে সেই ব্যাচটির প্রতিভা।

Related Articles

জনপ্রিয়তায় ফুটবলকে ছাড়িয়ে গেল ক্রিকেট!

‘ভারতের বিপক্ষে জিততে আক্রমণাত্মক খেলার বিকল্প ছিলনা’

একটি আলোচিত ঘটনা; তিনটি চরিত্র, তিন পরিণতি

২০১৬ এবং ২০২০ বিশ্বকাপ দলের পার্থক্য জানালেন মিরাজ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে রোমাঞ্চিত সাইফউদ্দিন