Scores

সেদিন পুরো কলকাতা বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়!

বাংলাদেশের ভক্তদের সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়ে দলকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে। বিশ্বের যে জায়গাতেই বাংলাদেশ দলের খেলা হোক না কেন সেখানেই পৌঁছে যায় বাংলাদেশ দলের ভক্তরা। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০১৯ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ দুই আসরেই প্রতিটি ম্যাচে বিশাল সমর্থন পায় সাকিব – তামিমরা। উভয় আসরেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ঘরের দলের তুলনায় বেশি সমর্থন ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য। নিরপেক্ষ ভেন্যু গুলোতে সাধারণত ভারত ছাড়া অন্য দলগুলোর বিপক্ষে বেশিরভাগ সমর্থন টাইগাররাই পেয়ে থাকে। তবে এর ব্যতিক্রম হয় একবার ২০১৬ সালে। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের তুলনায় কয়েক গুন বেশি সমর্থন পায় পাকিস্তান।
সেদিন পুরো কলকাতা বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়!

সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান যাদের কিছুদিন আগেই হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে যায় বাংলাদেশ। যেহেতু ফর্ম ভালো ছিল ও বাংলার একটা টান ছিল তাই বাংলাদেশের দর্শক ও সাংবাদিকরা হয়তো ধরেই নিয়েছিলেন ইডেন গার্ডেনসে পুরো সমর্থনই পাবে টাইগাররা। তবে ম্যাচের দিন পরিস্থিতি দেখা যায় ভিন্ন। পুরো মাঠে অধিকাংশ সমর্থনই ছিল পাকিস্তানের জন্য। পশ্চিমবঙ্গে পাকিস্তানের জন্য এই সমর্থনে বেশ অবাকই হন বাংলাদেশের সকলেই। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় স্বাধীনতার পর এই প্রথম পাকিস্তান ভারতে এই বিপুল সমর্থন পেল।

তখন বাংলাদেশের সিনিয়র সাংবাদিক আজাদ মজুমদার সেখানের মিডিয়াকে জানান,“ পাকিস্তানের জন্য এমন সমর্থন আমি কখনো কল্পনাও করিনি। এগারো জন বাঙালি খেলছিল ইডেন গার্ডেনসে ভারত পাকিস্তান লড়াইয়ের দুইদিন আগে। আমরা সকলেই ভেবেছিলাম পুরো সমর্থন পাবে বাংলাদেশ যেহেতু পাকিস্তান হারলে তারা মানসিকভাবে ভারতের বিপক্ষে দুর্বল থাকবে। তার চেয়েও বড় কথা ২৬ বছর পর ইডেনে খেলছিল বাংলাদেশ। তবে আমরা যা দেখলাম তাতে বেশ অবাক হই। মাত্র ১৫০০ দর্শক ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। পুরো স্থানীয় দর্শক পাকিস্তানকে সমর্থন করে। ”

Also Read - বিশ্বকাপের প্রাইজ মানি পেতে যাচ্ছেন টাইগাররা


ম্যাচটি দেখতে ইডেনে সেদিন প্রায় ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় কলকাতায় ছুটি কাটাতে আসা ব্রিটিশ বাংলাদেশি সাব্বির মুস্তফা জানান, “ ৭০ ভাগের উপর সমর্থন ছিল পাকিস্তানের জন্য। তবে আমি ভেবেছিলাম ইডেনে হবে তার উল্টোটা। যখন পাকিস্তানের কেউ বাউন্ডারি হাকায় তখন তুমুল উল্লাস ছিল, তবে যখনি বাংলাদেশের কেউ বাউন্ডারি হাকায় সেই সময় উদযাপন ছিল খুব সীমিত। ”

পাকিস্তানের খেলোয়াড়রাও কলকাতায় এই ধরনের সমর্থন পাবেন তা অনেকে কল্পনা করতে পারেননি। ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ সাংবাদিকদের জানান, “ এই সমর্থন আমাদের জন্য একপ্রকার অবিশ্বাস্য ছিল। কখনো কল্পনা করতে পারিনি কলকাতায় পাকিস্তান জিতেগা ( পাকিস্তান জিতবে) স্লোগান শুনতে পারব। এটা ছিল অবিশ্বাস্য। ”

আসাদ চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী দ্য হিন্দুকে বলেন,“ এটা আসলেই দূর্ভাগ্যজনক ছিল পাকিস্তানের জন্য এমন সমর্থন কারন গত কয়েক বছরে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক অনেক উন্নতি হয়েছিল। তুমুল স্লোগান হচ্ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। আমি বলব এটা খুবই হতাশাজনক ছিল যে পাকিস্তানের জন্য কলকাতায় এত সমর্থন হতে পারে তবে বাংলাদেশের জন্য নয়। ”

২০২১ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত হবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে আশা করাই যা আসন্ন বিশ্বকাপ গুলোতে ভারতে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য স্থানীয় দর্শকদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবেনা সামনে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

“টি-২০ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা অবাস্তব”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ জিম্বাবুয়ে, সুযোগ পেলো নতুন দল

‘আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-২০’ বদলে হচ্ছে ‘টি-২০ বিশ্বকাপ’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা

ভারত আয়োজন না করলে টি-২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে?