সোহান-শান্তর ব্যাটিংয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ সুজন

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসরের ফাইনাল হারের ক্ষত কোনোমতেই ভুলতে পারছেন না ফরচুন বরিশালের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। সহজ সমীকরণ সত্ত্বেও দলকে জেতাতে না পারায় জাতীয় দলের দুই তারকা নুরুল হাসান সোহান ও নাজমুল হোসেন শান্তর ওপর চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

নিজের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন শান্ত
জয়ের খুব কাছে থেকেও দলকে জেতাতে পারেননি শান্ত-সোহানের মত তারকা। ফাইল ছবি

শুক্রবারের (১৮ ফেব্রুয়ারি) ফাইনালে কুমিল্লাকে ১৫১ রানে রুখে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে ভালো সূচনা পেয়েছিল বরিশাল। ম্যাচের শেষদিকেও ম্যাচ ছিল বরিশালের নাগালে। নুরুল হাসান সোহান ও নাজমুল হোসেন শান্তর মত জাতীয় দলের দুই তারকা ছিলেন ক্রিজে।

Advertisment

তবে তাদের কেউই দলকে জেতাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেননি। বরং দলের চাপ বাড়িয়ে দুজনই ফেরেন সাজঘরে। শেষপর্যন্ত ১ রানে হেরে যায় বরিশাল। তাদের এমন পারফরম্যান্সে বেজায় নাখোশ ফরচুন বরিশালের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন।

তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচ হারার কথা চিন্তা করা দূরে থাক, কঅটো তাড়াতাড়ি জিতব সেটাই বড় ব্যাপার ছিল। সেই ম্যাচ ১ রানে হারলাম। ২১ বলে ১৯ রান লাগে, মাঠে জাতীয় দলের দুইজন খেলোয়াড়… তাদের চিন্তা করা দরকার ছিল কীভাবে ম্যাচ বের করে নেবে। বলতে গেলে ধুঁকতে ধুঁকতে মরলাম। এখানেই কষ্টের জায়গাটা।’

জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যখন বলের সমান প্রয়োজনীয় রান তুলতে ব্যর্থ হন, তখন তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অবান্তর নয়। সুজনও তুললেন সেই প্রশ্ন। কোনভাবেই মানতে পারছেন না তার দলের এমন ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, ‘ঐ এটিচিউট, ঐ আগ্রাসী মনোভাব যদি না থাকে তাহলে তো কঠিন। ১৮ বলে ১৮ রানই নিব কেন? এই ১৮ রান তো ১২ বলেই নেওয়া যায়। আমার তো পাওয়ার আছে, জিম করি, ট্রেনিং করি প্রতিদিন, আমি ছয় মেরেছি, লাগলে আবার ছয় মারব।’

তরুণরা মন জয় করতে পারেননি সুজনের। ফাইল ছবি

‘সুনীল নারাইনের ব্যাটিং দেখুন। ও তো আসলে ব্যাটার না। গত দুই ম্যাচে ছক্কা মেরেই যাচ্ছে মেরেই যাচ্ছে, থামেনি। ধারাভাষ্যে বলে একটা ছক্কা মারার পর একটা সিঙ্গেল নেওয়া ভালো। কিন্তু সেটা ৫০ ওভারের ক্রিকেটে।’

বিপিএলে অভিজ্ঞরা ভালো করলেও সিনিয়র ব্যতীত বাকিরা তেমন জ্বলে উঠতে না পারায় চরম হতাশ সুজন। তার ভাষ্য, ‘যারা ভালো করেছে তারা সবাই অভিজ্ঞ। তামিম, সাকিব, রিয়াদ, মুস্তাফিজ; মুশফিকের কিছু ভালো ইনিংস। মৃত্যুঞ্জয়, মুনিমের মত কয়েকজন তরুণ ভালো করেছে, তানভীরও ভালো বল করেছে। তবে তরুণদের কাছ থেকে আমি আরও আশা করেছিলাম। ওরা সেভাবে আমার মন কাড়তে পারেনি সত্যি বলতে। তবে আমি আশাবাদী, তারা ভালো করবে। এটা তাদের জন্য সুযোগ ছিল।’

তবে সুযোগ বারবার হাতছাড়া করাও যে সুফল নিয়ে আসবে না, সুজন দিলেন সেই সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, ‘এমন সুযোগ বারবার হাতছাড়া করা তাদের জন্য ভালো হচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট এগোবে। তাদের নিয়েই তো আমাদের ক্রিকেট। এখানেই একটু কষ্টের জায়গা আছে। চাপের মুখে টিকে থাকতে না পারলে তো কঠিন হয়ে উঠবে। চাপ নিতেই হবে, বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। এই চাপগুলো নেওয়া শিখতে হবে।’

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।