Score

সৌম্যর অলরাউন্ডিং ঝলক, বরিশালে বোলারদের দিন

জাতীয় ক্রিকেট লিগে টায়ার- ১ এ খুলনায় খুলনা বিভাগ এবং রংপুর বিভাগের ম্যাচে অলরাউন্ডিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন সৌম্য সরকার। বল হাতে পাঁচ উইকেট শিকারের পর ব্যাটিংয়ে হাঁকিয়েছেন অর্ধশতক। অন্যদিকে তৃতীয় দিনে এসে খেলা গড়িয়েছে বরিশাল  বিভাগ বনাম রাজশাহী বিভাগের ম্যাচে। ম্যাচে ছড়ি ঘুরিয়েছে বোলাররা। এক দিনে পতন ঘটেছে ১৯ উইকেটের।

খুলনা বিভাগ বনাম রংপুর বিভাগঃ  ব্যাট হাতে তৃতীয় দিন শুরুটা তেমন ভালো হয়নি রুংপুর বিভাগের। চার উইকেটে ২০০ রান নিয়ে বেশ সুবিধাজনক স্থানেই ছিল রংপুর বিভাগ। তবে বোলিংয়ে দিনের সূচনাটা দুর্দান্ত হয় খুলনা বিভাগের।

Also Read - বিসিবি একাদশের স্কোয়াডে নতুন মুখ মোহর

২০৯ রানের মাথায় সোহরাওয়ার্দী শুভকে ফিরিয়ে দেন আল-আমিন হোসেন। ৪৮ রান করে বিদায় নেন সোহরাওয়ার্দী শুভ। এরপর সৌম্য সরকারের বোলিং তোপের মুখে পড়ে রংপুর বিভাগ। সৌম্য সরকারের বলে উইকেটরক্ষক কাজী নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ধীমান ঘোষ। ৬ রান করেন তিনি। এরপর রবিউল হককেও ফিরিয়ে দেন সৌম্য সরকার। ১৩৮ রানের মাথায় সৌম্য সরকারের শিকার হন রবিউল। ১২ রান করেন তিনি। চার উইকেটে ২০০ রান থেকে সাত উইকেটে ২৩৮ রান হয়ে যায় রংপুর বিভাগের।

অষ্টম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন তানবির হায়দার এবং অধিনায়ক সাজেদুল ইসলাম। তানবির হায়দার এবং সাজেদুল ইসলাম মিলে গড়েন ৬১ রানের জুটি। তাদের জুটিতে লিডের আশা জেগেছিল রংপুর বিভাগের। ৩০৯ রানের মাথায় সাজেদুলকে ফেরান সৌম্য সরকার। ৭৯ বলে ২৯ রান করেন সাজেদুল। এরপর মোহাম্মদ সাদ্দাম এবং সঞ্জিত সাহা এসেই বিদায় নিলে বড় লিড নেওয়া হয়নি রংপুর বিভাগের। ৩১৫ রান করেই গুটিয়ে যায় রংপুর বিভাগ। ১১ রানের লিড পায় রংপুর বিভাগ

পাঁচ উইকেট শিকার করেন সৌম্য সরকার। ৬৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তানবির হায়দার।

জবাব দিতে নেমে রবিউল ইসলাম রবি এবং এনামুল হক বিজয় মিলে শুরুটা করেছিলেন দ্রুতগতিতে। তবে তাদের ওপেনিং জুটির স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র ৪ ওভার ৪ বল। দলীয় ২৩ রানের মাথায় এনামুল হক বোল্ড হন সাজেদুলের বলে। ৭ রান করে ফিরেন সাজঘরে। এরপর সৌম্য সরকারকে সাথে নিয়ে ২৫ রান যোগ করেন রবিউল। তাদের জুটি ভাঙেন রবিউল হক। রবিউলের বলে বোল্ড হন ওপেনার রবিউল। ২০ রান করেন তিনি।

খুলনায় বিজয়-সৌম্যর ব্যাটে রানফাইল ছবি।

তৃতীয় উইকেটে তুষার ইমরান এবং সৌম্য সরকার মিলে যোগ করেন ১০৬ রান। তাদের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে খুলনা বিভাগ। বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট শিকারের পর ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক তুলে নেন সৌম্য। ৭১ রানের ইনিংস খেলে তিনি বিদায় নেন মাহমুদুল হাসানের বলে। এসেই ফেরত যান আফিফ হোসেন ধ্রুব। ৩ রান করে হন সঞ্জিত সাহার শিকার। নুরুল হাসানও করেন ৩ রান। ১৮১ রানের মাথায় নুরুলকে মাহমুদুল ফিরিয়ে দেন। ঐ বল দিয়েই শেষ হয় তৃতীয় দিনের খেলা। ৯৬ বলে ৬৩ রান করে অপরাজিত আছেন তুষার ইমরান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ খুলনা বিভাগ ৩০৪/১০, প্রথম ইনিংস, ৯৪.১ ওভার
সৌম্য ৭৬, এনামুল ৫৬, জিয়াউর ৫৩
সাজেদুল ৬/৮১, সঞ্জিত ২/৮০, রবিউল ১/৪০

রংপুর বিভাগ ৩১৫/১০, প্রথম ইনিংস, ১১৪ ওভার
তানবির ৬৭,*, জাবেদ ৬৪, শুভ ৪৮
সৌম্য ৫/৬১, আল-আমিন ৪/৬৭,  হালদার ১/৫১

খুলনা বিভাগ ১৮১/৫, দ্বিতীয় ইনিংস, ৪৮.৪ ওভার (১৭০ রানে এগিয়ে)
সৌম্য ৭১, তষার ৬৩*, রবি ২০
মাহমুদুল ২/১৮, সাজেদুল ১/২২, রবিউল ১/৫১

বরিশাল বিভাগ বনাম রাজশাহী বিভাগঃ প্রথম দুই দিনের খেলা ভেস্তে যায় বৃষ্টির কারণে। তৃতীয় দিন বরিশালে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় রাজশাহী বিভাগ।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে বরিশাল বিভাগ। ১১ রানের মাথায় ওপেনার রাফসান মাহমুদ রান আউট হন। ২ রান করে ফিরেন সাজঘরে। দলীয় ৩১ রানের মাথায় তাইজুলের বলে আউট হন আরেক ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস (২০)। পরের ওভারে সালমান হোসেনকে ফিরিয়ে দেন ফরহাদ রেজা। ৯ রান করেন সালমান। চতুর্থ উইকেটে ৩৫ রান যোগ করেন মোসাদ্দেক হোসেন এবং আল-আমিন। মোসাদ্দেককে বোল্ড করে ৬৬ রানের মাথায় জুটি ভাঙেন তাইজুল। ১৫ রান করেন মোসাদ্দেক।

রানের খাতা খোলার আগেই পরের ওভারে ফিরে যান সোহাগ গাজী। তাকে ফেরান পেসার মুক্তার আলি। নিজের পরের ওভারে আবারো আঘাত হানেন মুক্তার। ৩১ রান করে বিদায় নেন আল-আমিন। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারায় বরিশাল বিভাগ। ৩০ রানের জুটি গড়েন নুরুজ্জামান ও শামসুল ইসলাম। ৭ রান করে রান আউট হন শামসুল। শেষদিকে মনির হোসেন ২ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি করেন ৮ রান। দুজনেই ফেরত যান ফরহাদ রেজার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। নুরুজ্জামানকেও ফেরান ফরহাদ। সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন নুরুজ্জামান। ১৩৩ রান করে গুটিয়ে যায় বরিশাল বিভাগ।

দ্বিতীয় টেস্টের দলে ফিরলেন সাব্বির, সানজামুল-রুবেল বাদফাইল ছবি

রাজশাহী বিভাগের ব্যাটিংয়েও নেমে আসে বিপর্যয়। রানের খাতা না খুলেই জুনায়েদ সিদ্দিক বিদায় নেন সোহাগ গাজীর শিকার হয়ে। আরেক ওপেনার মিজানুর রহমান (৬) ফিরে যান কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ২১ রানের মাথায় ফরহাদ হোসেনকেও ফিরিয়ে দেন রাব্বি। পরের ওভারে মনির হোসেনের বলে বিদায় নেন জহুরুল ইসলাম। নিজের পরের ওভারে মনির ফিরিয়ে দেন হামিদুল ইসলামকেও। ২৩ রানে ৫ উইকেট হারায় রাজশাহী বিভাগ।

এরর ২৮ রান যোগ করেন ফরহাদ রেজা ও সাব্বির রহমান। এ জুটি ভাঙেন তানভির। ১১ রান করে ফিরে যান ফরহাদ। সাব্বিরকে  সাথে নিয়ে ৩৩ রান তুলেন সাঞ্জামুল। ১৪ রান করে সোহাগের বলে বোল্ড হন সাঞ্জামুল। পরের ওভারে তানভিরের বলে ফিরে যান সাব্বির। ৩১ রনা করেন তিনি। পরের ওভারে তাইজুলকে ফেরান গাজী। ৮৫ রানে নয় উইকেট হারায় রাজশাহী বিভাগ। শেষ উইকেটে লড়াই করে যাচ্ছেন মুক্তার আলি ও আব্দুল গাফফার। অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটি গড়েছেন দুজন। ৩৫ রান করে অপরাজিত মুক্তার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ বরিশাল বিভাগ ১৩৩/১০, প্রথম ইনিংস, ৪৬ ওভার
নুরুজ্জামান ৩৮,  আল-আমিন ৩১
ফরহাদ ৪/৩০, মুক্তার ২/৩১

রাজশাহী বিভাগ ১২৫/৯, প্রথম ইনিংস, ৩৮ ওভার
মুক্তার ৩৫*, সাব্বির ৩১
গাজী ৩/১৯, মনির ২/১৫


আরো পড়ুনঃ 


 

Related Articles

এনামুলের হ্যাটট্রিক, শেষ ইনিংসেও রাজিনের ব্যাটে রান

ইনিংস ব্যবধানে হারল ঢাকা মেট্রো

আমাকে বারবার বঞ্চিত করা হয় : তুষার

নাফীসের শতক, বল হাতে উজ্জ্বল সাব্বির

তাসকিন-নাঈমের পাঁচ, জাকির-রাজিনের অর্ধশতক