Scores

সৌম্য-সাব্বিরের অন্তর্ভুক্তি; যৌক্তিকতা বনাম অযৌক্তিকতা

গত বছরের শেষদিকে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে সর্বশেষ মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, প্রতিপক্ষ ছিল উইন্ডিজ। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে তাদের বধ করা গেলেও, টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য পেয়েছিল সফরকারী দলটি। এরপর মাঠে গড়ালো বিপিএল। জাতীয় দলের সব তারকাই এখন ব্যস্ত এই টি-টোয়েন্টি আসরে। আসছে ফেব্রুয়ারিতে আবার মাঠে ফিরবে জাতীয় দল। প্রতিপক্ষ এবার নিউজিল্যান্ড যারা কিনা নিজেদের মাটিতে প্রবল শক্তিশালী। ইতিমধ্যেই এই সফরের জন্য দল ঘোষণা করেছে টিম  ম্যানেজমেন্ট। তাদের দেয়া এই দলকে ঘিরে এদেশের ক্রিকেট মহলে তৈরি হয়েছে এক বিতর্কের। ক্রিকেট বোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রিকেট ভক্তদের মনে জেগেছে প্রশ্ন- কেন দলে সৌম্য-সাব্বির??? চলুন দেখে আসি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ও বিপক্ষের কিছু যুক্তি।

প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যর্থ সাব্বির-সৌম্য

 

এবারের বিপিএলে সৌম্য সরকারের দল ছিল রাজশাহী কিংস। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন এই দলটির হয়ে তিনি একাদশে সুযোগ পান ৯ ম্যাচে। বাকি তিনটি ম্যাচে তিনি একাদশের বাইরে ছিলেন, ফর্মহীনতার কারণে। এই ৯ ম্যাচের ৫টিতেই তিনি পেরুতে পারেননি এক অংকের ঘর। সর্বোচ্চ রান ২৬, গড় ১১.৪২ ও স্ট্রাইক রেট ৯৭.৫৬। অথচ তার ব্যাটিং টি-টোয়েন্টির সাথেই নাকি বেশি মানানসই। শুধু সংখ্যাগুলো নয়, তার বিপক্ষে কথা বলবে তার আউট হবার ধরণও। সুতরাং বলাই যায়, আসন্ন নিউজিল্যান্ডগামী দলে জায়গা পাবার মতো কোন পারফরম্যান্স তিনি করতে পারেননি।

Also Read - বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ভারত-পাকিস্তান


বিপিএলের আগে উইন্ডিজ সিরিজে ৩ ম্যাচে রান করেছিলেন ১০৫, খেলেছিলেন ৮০ রানের একটি ইনিংস। বিগত কিছুদিন ধরে দলে আসা-যাওয়ার মধ্যেই ছিলেন তিনি। জিম্বাবুয়ে সিরিজের দল থেকে বাদ পড়ার পর হঠাৎ করে সুযোগ পান সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে। ফিরে খেলেছিলেন ১১৭ রানের এক ঝলমলে ইনিংস। এশিয়া কাপ, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ কিংবা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, সব জায়গাতেই তিনি ছিলেন চরমভাবে ব্যর্থ। টেকনিকে দুর্বলতা খালি চোখেই ধরা পড়েছে প্রবলভাবে। আত্মবিশ্বাসের কমতিটাও চোখে লাগছিলো বেশ স্পষ্ট করেই। যদি আত্মবিশ্বাসের ছিটেফোঁটাও তার অবশিষ্ট থাকতো, সেই অবশিষ্টটুকুও গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবারের বিপিএল। বাজে পারফর্মেন্সের কারণে বিপিএলে রাজশাহী কিংসের বেঞ্চ গরম করতে দেখা গেছে তাঁকে ৩ ম্যাচে। সব মিলিয়ে, চরম ফর্মহীনতায় ব্যাট হাতে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এমতাবস্থায় তার জাতীয় দলে টিকে থাকার পক্ষে যে যুক্তিগুলো দাঁড় করানো যায়, সেগুলোও তেমন শক্তিশালী নয়।

গত বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডে স্বাগতিকদের সাথে খেলা ম্যাচে তিনি খেলেছিলেন ৫১ রানের একটি ইনিংস। সেই স্মৃতি তাকে হয়তো খানিক আত্মবিশ্বাসের সন্ধান দিলেও দিতে পারে। অনেকেই বলে থাকেন, পেস বোলিং এর বিপক্ষেই তুলনামূলকভাবে নিজের সহজাত খেলাটা তিনি খেলেন। অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে বেশি সাবলীল বা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি পেস বোলিং এর বিপক্ষেই। নিউজিল্যান্ডের গতিময় উইকেটে তিনি ভাল করতে পারেন, এমন আশাও তাই করা যেতে পারে। বিশ্বকাপের আগে ফর্মে ফেরার শেষ সুযোগও হতে পারে এটি তার জন্য। এছাড়াও নিউজিল্যান্ডের সিমিং উইকেটে তার ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলিংও হতে পারে দলের জন্য কল্যাণকর। সব মিলিয়ে বলা যায়, সৌম্য সরকার ফর্মে ফিরে আসবেন- এই আশা তাই এদেশের ক্রিকেটভক্তরা আর একবার ধৈর্য্য ধরে করতেই পারেন।

প্রস্তুতি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করবেন সৌম্য

এবার চোখ রাখা যাক দলে থাকার কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আরেক ক্রিকেটার সাব্বির রহমানের দিকে। এই বিপিএলে সাব্বিরের দল ছিল সিলেট সিক্সার্স। এবারের আসরে ব্যাট হাতে তার পারফর্মেন্স সৌম্যের মতো অতটা করুণ নয়। এখন অব্দি ১১ ম্যাচ খেলে তিনি রান করেছেন ২৪৪, গড় ছিল ২৪.৪০ ও স্ট্রাইক রেট ১২০.১৯। ৮৫ রানের একটি সুন্দর ইনিংসও তিনি খেলেছেন এবারের এই আসরে। সুতরাং বলা যায়, বাইশ গজে ব্যাট হাতে কিছুটা ছন্দ ফিরে পেতে শুরু করেছেন এই ডানহাতি। যদিও তাকে ঘিরে বিতর্ক অন্যখানে। গত বছরের শেষদিকে শৃঙ্খলাজনিত কারণে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় তাকে। তার নিষেধাজ্ঞা শেষ হবার কথা সামনের ফেব্রুয়ারি মাসে। অথচ নিষেধাজ্ঞা শেষ হবার আগেই শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে তাকে দলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর তাই ক্রিকেট পাড়ায় তৈরি হয়েছে নতুন এই বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, কি এমন হলো যার জন্য শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে তাকে দলভুক্ত করতে হলো???

নির্বাচকরা এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর তো দিতে পারেননিই, উল্টো তৈরি করেছেন জটিলতা। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু সরাসরি দায় চাপিয়েছেন অধিনায়কের উপর। অথচ মাশরাফি বলছেন, মত জানতে চাওয়ায় নিজের মতটা তিনি শুধু দিয়েছিলেন সাব্বিরের পক্ষে। এদিকে বিসিবি সভাপতি জানিয়ে দিয়েছেন, এবারই তার শেষ সুযোগ। সামনে আবার কোন নতুন বিতর্কের জন্ম দিলে আজীবনের জন্যই হয়তো বন্ধ হয়ে যেতে পারে জাতীয় দলের দরজা। সুতরাং এমন একজন শাস্তি প্রাপ্ত খেলোয়াড়কে তার শাস্তি শেষ হবার আগেই দলে বিবেচনা করাটাই কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন তাই থেকেই যাচ্ছে।

জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ উইন্ডিজের বিপক্ষেও হাসেনি তার ব্যাট, ৩ ম্যাচ খেলে করতে পেরেছিলেন সাকুল্যে ২৭ রান। তার দলে থাকার পক্ষে যেসব যুক্তি দাঁড় করানো যায়, তা হলো- ব্যাটিং অর্ডারের ৭ নাম্বার পজিশনে খেলার মতো বিকল্প ব্যাটসম্যান আমাদের হাতে খুব বেশি নেই। দ্রুত রান তোলায় তার যে সামর্থ্য, সেটা নিয়েও খুব বেশি বিতর্ক করার সুযোগ নেই। যেদিন খেলেন, সেদিন তার পাওয়ার হিটিং হয় দেখার মতো। নিউজিল্যান্ডের ছোট মাঠে তার এই সামর্থ্য কাজে আসতে পারে দলের। বিপিএলেও তিনি দিয়েছেন ফর্মে ফেরার সুক্ষ আভাস। এছাড়াও সামনে বিশ্বকাপ, খুব বেশি সময় হাতে নেই। এখন যদি দলের প্রয়োজন মিটিয়ে ফর্মে ফিরে আসতে পারেন তিনি, বাংলাদেশের জন্য সেটি হবে অনেক ইতিবাচক।

“অতীত আর মনে করতে চাই না”
সবশেষে বলা যায়, এই দুজনের জন্য দলে নিজের জায়গা ফিরে পাবার হয়তো শেষ সুযোগ এই নিউজিল্যান্ড সফর। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যদি ফর্মে ফিরতে পারেন দুজনে, আখেরে লাভটা হবে বাংলাদেশেরই। এখন শুধু দেখার পালা, সত্যিই কি ফিরে আসতে পারবেন তারা???

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

আউট হলেন আরিফুল, চাপে সফরকারীরা

আফগানদের হারাতে যেভাবে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য সহজ লক্ষ্য

মেহেদী হাসানে দিশেহারা ভারত

হাতে সেলাই নিয়েই অনুশীলনে বিপ্লব