স্পিনারদের দাপটের দিনে পিনাকের সেঞ্চুরি

0
540

বঙ্গবন্ধু জাতীয় ক্রিকেট লিগ ২০২০-২১ এর দ্বিতীয় রাউন্ডে দ্বিতীয় স্তরের এক ম্যাচে বিকেএসপিতে দাপট দেখিয়েছেন সানজামুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম ও সোহাগ গাজী। ম্যাচটিতে প্রথম দিনেই পতন হয়েছে ২১টি উইকেট। অপরদিকে, কক্সবাজারে দ্বিতীয় স্তরের আরেক ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন চট্টগ্রামের পিনাক ঘোষ।

স্পিনারদের দাপটের দিনে পিনাকের সেঞ্চুরি
বরিশাল বিভাগ বনাম রাজশাহী বিভাগ

কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ১ নং মাঠে টস জিতে চট্টগ্রামকে আগে ব্যাটিং করার জন্য আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা মেট্রো। দলীয় ২০ রানের মাথায় সাদিকুর রহমানকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে ঢাকা মেট্রোর পক্ষে ভালো শুরুর আভাস দেন শহিদুল ইসলাম। মাহমুদুল হাসান জয় ও পিনাক ঘোষের জুটিতে দ্বিতীয় উইকেটে আসে ৪৪ রান। ৩৪ বলে ২৮ রান করা জয়কে বোল্ড করে আরাফাত সানি।

Advertisment

অধিনায়ক মুমিনুল হক দ্রুতই বিদায় নেন। আবু হায়দার রনির শিকারে পরিণত হওয়ার আগে তিনি করেন ৩০ বলে ১১ রান। চতুর্থ উইকেটে পিনাক ইয়াসির আলি রাব্বির মধ্যে বড় জুটি গড়ে ওঠে। ইয়াসির আউট হওয়ার আগে তাদের জুটিতে আসে ১০৯ রান। আরাফাতের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ইয়াসির করেন ৪৯ রান। তিনি খেলেন ১২৬টি বল।

এক প্রান্ত আগলে রেখে পিনাক তুলে নেন সেঞ্চুরি। ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি। ১৩৭ রানের অপরাজিত থেকে প্রথম দিন শেষ করেছেন পিনাক। দিনশেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৮১। পিনাকের সাথে ক্রিজে আছেন শাহাদাত হোসেন দীপু (৩২*)।

আরেক ম্যাচে বিকেএসপির ৩ নং মাঠে বরিশাল ও রাজশাহীর মধ্যকার ম্যাচে ছিল স্পিনারদের দাপট। টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বরিশাল। বরিশালের প্রথম দুইটি উইকেট তুলে নেন রাজশাহীর পেসার মোহর শেখ। ১০ রানেই ২ উইকেট হারানো বরিশাল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রাজশাহীর দুই স্পিনারের দাপটে। তাইজুল ও সানজামুল শিকার করেন ৪টি করে উইকেট।

মোহরের পরে তাইজুল ও সানজামুলের বোলিং তোপে মাত্র ৮২ রানে অলআউট হয় বরিশাল। দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন মঈন খান। দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পেরেছিলেন কেবল সালমান হোসেন, মঈনুল ইসলাম ও সোহাগ গাজী।

সানজামুল ১০ ওভারে ১৮ রান খরচায় নেন ৪টি উইকেট ও তাইজুল ৮.৩ ওভারে ৩৯ রান খরচায় নেন ৪টি উইকেট।

অল্প রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি রাজশাহীও। উত্তরবঙ্গের দলটিকে একাই ধ্বসিয়ে দেন সোহাগ গাজী। ৫১ রানে প্রথম উইকেট হারানো রাজশাহী ৮৬ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে ৮টি উইকেট। তবে জুনায়েদ সিদ্দিক ও তাইজুলের লজ্জার হাত থেকে বাঁচে দলটি।

১৫ রান করা জহুরুলকে প্রথম শিকার করেছিলেন গাজী। ৩৬ বলে ৩৬ রান করা তানজিদ হাসান তামিমকে শিকার করেন মঈন। তারপরে টানা আঘাত হানে গাজী। একই ওভারে ফরহাদ হোসেন ও তৌহিদ হৃদয়কে সাজঘরের পথ দেখান এই স্পিনার। রাজশাহীর রান তিন অঙ্ক স্পর্শ করার আগেই গাজী শিকার করেন ৬টি উইকেট।

৬৯ রানের লিড নিয়ে রাজশাহী অলআউট হয় ১৫১ রানে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে জুনায়েদের ব্যাট থেকে। তাইজুল করেন ৩৭ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে ২৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে বরিশাল। তারা এখনো পিছিয়ে আছে ৪৬ রানে। উইকেটটি নিয়েছে তাইজুল ইসলাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

চট্টগ্রাম ২৮১/৪ (৮৮ ওভার, প্রথম ইনিংস)
পিনাক ১৩৭*, ইয়াসির ৪৯, দীপু ৩২*, মুমিনুল ১১;
আরাফাত ২/৬৬।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বরিশাল ৮২/১০ (২৯.৩ ওভার, প্রথম ইনিংস)
মঈন ১৮, সালমান ১৩, মঈনুল ১২, গাজী ১১;
সানজামুল ৪/১৮, তাইজুল ৪/৩৯।

রাজশাহী ১৫১/১০ (৪৮.৫ ওভার, প্রথম ইনিংস)
জুনায়েদ ৪৩, তাইজুল ৩৭, তামিম ৩৬, জহুরুল ১৫;
গাজী ৬/৬৫।

বরিশাল ২৩/১ (৭ ওভার, দ্বিতীয় ইনিংস)
মঈনুল ১১*, কামরুল রাব্বি ৮*, সৈকত ৪;
তাইজুল ১/৯।

রাজশাহী ৪৬ রানে এগিয়ে।