Scores

স্বস্তির ম্যাচ, রেকর্ডের ম্যাচ

রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে দিনদিন সাকিব নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়...
রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে দিনদিন সাকিব নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়…

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

এক ম্যাচেই যেন সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে! এই আফগানিস্তানকে নিয়ে বিশ্বকাপের আগে কত কথাই হচ্ছিল। কিন্তু টাইগারদের কাছে আফগানদের ১০৫ রানের বিশাল হারে ফুটে উঠল দুই দলের শক্তিমত্তা আর গঠনগত পার্থক্যটা।

ইনিংসের ধীর শুরু প্রথমে কিছুটা চিন্তার রেখা সৃষ্টি করলেও এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, প্রতি ম্যাচেই এমন ধীর শুরু দরকার। অন্তত টপ অর্ডারের তাসের মতো ভেঙে পড়ার প্রবণতাটা যখন দূর হয়, একইসাথে বড় স্কোরও উঠে, ধীর শুরু তখন দুশ্চিন্তার বদলে স্বস্তিরই কারণ।

Also Read - সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞ মুশফিক


দুর্দান্ত জয়ে সমর্থকদের মনে এখন বাংলাদেশ স্ততি। বিশ্বকাপে টাইগারদের ২৭তম ম্যাচে এটি ৯ম জয়। জয়ের ম্যাচটি একদিকে দিয়েছে স্বস্তি, আরেকদিকে ঢেলে দিয়েছে অনেকগুলো রেকর্ডও।

রেকর্ডের মূল কর্ণধার সাকিবই! ম্যাচে হওয়া ব্যক্তিগত প্রায় প্রতিটি রেকর্ডেই আছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের নাম। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ৪র্থ মুশফিক-সাকিবের ১১৪ রানের জুটিটি। শ্লথ শুরুর পর দলকে চাপে রেখে একেকজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের বিদায় শঙ্কা জাগাচ্ছিল ব্যাটিং বিপর্যয়ের। কিন্তু সাবেক দুই অধিনায়ক মুশফিক ও সাকিব মিলে চাপই জয় করেননি শুধু, ভিত গড়ে গিয়েছেন ম্যাচ জয়েরও।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে যেকোনো উইকেটে এটিই এখন সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের রেকর্ডটি ছিল গত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ইমরুল-জুনায়েদের ৯২ (২য় উইকেটে)। সেরা জুটিটিই আবার এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সেঞ্চুরি জুটি।

এই আসরের আগ পর্যন্ত রানের হিসাবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জয় ছিল ৬৭ রানের। ২০০৭ সালে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে মহাকাব্যিক সেই জয়টি এসেছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের হাত ধরে। ১০৫ রানের জয় দিয়ে ’১৫ আসর শুরু করা ম্যাচটি তাই নির্দ্বিধায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস গত বিশ্বকাপে, ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে। এরপরই রইল গত ম্যাচের ২৬৭ রানের ইনিংসটি। তবে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ইনিংসটির অবস্থান একদিক দিয়ে প্রথম স্থানে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই বাংলাদেশের দলীয় সেরা ইনিংস।

রেকর্ডবুকে সাকিব নাম লিখিয়ে যাচ্ছেনই, গতকালই করেছেন আরেকটি রেকর্ড। প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৪০০০ রানের মালিক হলেন সাকিব, একইসাথে ধরে রাখলেন দেশের হয়ে একদিনের ক্রিকেটে রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষস্থানও। অবশ্য সাকিবের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন তামিম, আর ১০ রান করলেই চার হাজারী ক্লাবে ঢুকে যাবেন বাঁহাতি ওপেনার।

৫০ ওভারের ম্যাচে শতরানের জুটি গড়া সহজ কথা নয়। তবে সেই কাজটিই মুশফিক-সাকিব করলেন চতুর্থবারের মতো। সেই সাথে একসাথে উইকেটে থাকাবস্থায় দুজনের মোট রানকেও টেনে নিলেন আরও সামনে, … সংখ্যাটা এখন ১৭২৫!

মাসের প্রথম জয়, বিশ্বকাপের প্রথম জয়, বছরের প্রথম জয়। সাথে একগাদা রেকর্ড। এর চেয়ে ভালো শুরু হতে পারত না বাংলাদেশের!

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

‘মাশরাফি একজন ফাইটার’

ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্র ওয়ালশের কাছে

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ