Scores

স্মৃতির পাতায় ২০১৫

রাফিন ও সাকির

২০১৪ সালটা দুঃস্বপ্নের মত কেটেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। বছরের শেষে জিম্বাবুয়েকে টেস্ট ও ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করে আবার ছন্দে ফিরে। তারপর শুরু হয় বাঘেদের দাপট।

২০১৫ সালটাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এখন পর্যন্ত সেরা বছর বললে মোটেও ভুল হবে না। এ বছর বাংলাদেশ ৫ টি টেস্ট খেলে ৪ টি ড্র করেছে। ১৮ টি ওয়ানডে খেলে জয় ১৩ ম্যাচে। টি২০ তে ৫ ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র ২ টি।

Also Read - রূপকথার বছরের কিছু অজানা আখ্যান


209449.5আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫

মাঠে বাঘেদের দাপটের শুরুটা মূলত বিশ্বকাপ দিয়ে। বিশ্বকাপের অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় দলের সাথে ২ হার এবং আইসিসির প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের কাছে হার বাংলাদেশকে একটু ধাক্কাই দিয়েছিল। সাথে অপরিচিত কন্ডিশন। সব মিলিয়ে শঙ্কার মধ্যেই ছিল টাইগাররা।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে হারায় টাইগাররা। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু ব্রিসবেনে টানা বৃষ্টির কারনে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। পরের ম্যাচে মেলবোর্নে শ্রীলংকার কাছে ৯২ রানের পরাজয়। এরপর নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৯ রান তাড়া করতে নেমে তামিমের ৯৫ ও মুশফিকের ৬০ রানের উপর ভর করে ১১ বল বাকি থাকতেই ৩২২/৪ রান করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জন্য এটিই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এরপর অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের কথা না বললেই নয়। নানা ইতিহাসের সাক্ষী এই ম্যাচ। অসাধরণ এক শতক হাঁকিয়ে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ হয়ে যান বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরিয়ান। ১০৩ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে। বাংলদেশের ছুঁড়ে দেয়া ২৭৬ রানের লক্ষ্যের জবাবে ব্যাট করতে নেমে রুবেলের তোপে পড়ে ইংল্যান্ড। ১৫ রানে জয পেয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় টাইগাররা। ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলতে পারার আক্ষেপ যেন কিছুটা হলেও ঘোচান অধিনায়ক মাশরাফি। জয় উৎসর্গ করেছিলেন মুক্তি্যোদ্ধাদের  গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হ্যামিল্টনে মাহমুদুল্লাহর সেঞ্চুরির পরেও ৭ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটে জিতে যায় কিউইরা।

কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নেমে ভারতের কাছে ১০৯ রানে হারে বাংলাদেশ।  তবে সে ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট পাড়ায় উঠেছিল বিতর্কের ঝড়। আর তার জলও গড়ায় বহুদূর। প্রতিবাদ করে আইসিসি সভাপতিত্ব ত্যাগ করেন মুস্তাফা কামাল। মাশরাফিবাহিনীর বিশ্বকাপ মিশনের ইতি ঘটে এখানেই। বিশ্বকাপটি বহু বছরের জন্য স্মরণীয় থাকবে এদেশের অসংখ্য ক্রিকেট ভক্তদের।

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, মহাকাব্যিক জুটি 210935

সেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনের ‘অঘটন’ ছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে সুখস্মৃতি আমাদের মোটেই নেই। কখনো তীরে এসে তরী ডুবেছে। কখনো বা ভালো খেলেও হারতে হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছিল অধরা। প্রস্তুতি ম্যাচে পাওয়া জয় হয়তো আশাটা আরও বাড়িয়েই দিয়েছিল। প্রথম ওয়ানডেতে তামিম-মুশফিকের তান্ডবে বাংলাদেশ করে ৩২৯, যা এ বছর ওয়ানডেতে টাইগারদের জন্য দলীয় সর্বোচ্চ। প্রথম ম্যাচে ৭৯ রানের জয় নিয়ে আক্ষেপ ঘোচায় টাইগাররা। তবে এটি যে কোনো ‘অঘটন’ ছিলনা তা আরও ভালো করে বোঝা গেল পরের দুই ম্যাচে। তামিমের ফের শতকে হেসেখেলে জয় পায় বাংলাদেশ। আর শেষ ওয়ানডেতে সৌম্য সরকারের ব্যাটে ভর করে ৮ উইকেটের জয় পেলে পূর্ণ হয় সাফল্যের ষোলকলা।

ওয়ানডের মতো টি-২০ তেও জয় পায় বাংলাদেশ। মিরপুরে একমাত্র টি-২০ তে বিজয় নিশান ওড়ান সাকিব-সাব্বির। বাংলাদেশ জয় পায় ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে।

টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ ড্র হ্য়। তবে এ ম্যাচের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তামিম-কায়েসের ৩১২ রানের মহাকাব্যিক জুটি। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ২৯৬ রানের লিড নিলে বাংলাদেশ এক কদম পিছিয়েই থাকে। এমন অবস্থা থেকে নিজেদের চালকের আসনে নিয়ে যান তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। তামিম করেন ২০৬। কায়েসের ব্যাট থেকে আসে ১৫০ রান। তবে ঢাকা টেস্টে হারলে ১-০ তে টেস্ট সিরিজ জিতে পাকিস্তান।

mustafizনতুন নায়কের আগমন, ভারত বধ

পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ সফর করে ভারত। প্রথম টেস্টে মাত্র এক পেসার নিয়ে বাংলাদেশ মাঠে নামলে ঝড় উঠে আলোচনা-সমালোচনার। বৃষ্টির কল্যাণে ম্যাচটি ড্র হয়।

টেস্টে এক পেসার নিয়ে খেলা বাংলাদেশ ওয়ানডেতে মাঠে নামে চার পেসার নিয়ে। মাশরাফি-তাসকিন-রুবেলের সাথে যোগ দেন মুস্তাফিজুর রহমান। আর এসেই ছড়ান মুগ্ধতা। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে পরিণত হন ‘নায়কে’। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩০৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় ভারতকে। অনেকটা একাই ভারতের ব্যাটিং লাইন চুরমার করে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। অভিষেকে পাঁচ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা। দ্বিতীয় ম্যাচেও আবারো বাজিমাত করেন মুস্তাফিজুর। এবার শিকার করেন ছয় উইকেট। অভিষেক ২ ম্যাচে ১১ উইকেট শিকার করে রেকর্ড গড়েন এ বাঁহাতি ফাস্ট বোলার। তবে তৃতীয় ওয়ানডেতে জয় পেয়ে ধবলধোলাই এড়াতে সক্ষম হয় ভারত।

প্রোটিয়াদের আগমন, ওয়ানডে সিরিজ জয় 

Bangladesh cricketer Rubel Hossain (C) celebrates with teammate Nasir Hossain (R) after the dismissal of the South Africa captain Hashim Amla (L) during the second ODI (One Day International) cricket match between Bangladesh and South Africa at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on July 12, 2015. AFP PHOTO/ Munir uz ZAMAN (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)

টানা দুই ওয়ানডে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ ছিল দারুণ ছন্দে।  সিরিজের ২ টি টি২০ ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। আর এ হারের বড় একটি কারণ ছিল ব্যাটিং ব্যার্থতা। ১ম ওয়ানডেতেও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি টাইগাররা। কিন্তু পরের ম্যাচে সৌম্যর অপরাজিত ৮৮ ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৫০ এর উপর ভর করে ৭ উইকেটে জয় নিয়ে সিরিজে সমতা আনে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে সৌম্যর ৯০ ও তামিমের অপরাজিত ৬১ রানের সাহায্যে ৯ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। সেই সাথে সিরিজটাও নিশ্চিত করে মাশরাফির দল। ২০০৭ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তিই যেন ঘটে। টাইগার ভক্তদের মধ্যেও দেখা যায় বাঁধভাঙা উল্লাস। স্টেডিয়াম ‘ঈদ মোবারক’ লেখা প্ল্যাকার্ড যে তারই বহিঃপ্রকাশ।

২ টি টেস্ট ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ০-০ তেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ২ দলকে। তবে টেস্টেও নতুন নায়ক মুস্তাফিজুর চমক দেখান। অভিষেক টেস্টে শিকার করেন চার উইকেট। আর বোলিং মেশিনের মতো শহীদের একের পর এক ডট বল করতে থাকাও ছিল আলোচনায়।

অস্ট্রেলিয়ার সফর বাতিল

দুই টেস্ট খেলার জন্য অক্টোবরে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। প্রস্তুত ছিল সবকিছু। তবে হঠাৎ বেঁকে বসে অস্ট্রেলিয়া। অনেক জলঘোলার পরও বাঘের গুহায় আর আসেনি ক্যাঙ্গারুরা।

CRICKET-BAN-ZIMজিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মধুর সমাপ্তি 

অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া হঠাৎ নিরাপত্তার কারন দেখিয়ে ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ বাতিল করে নেয়। বিসিবি জিম্বাবুয়ের সাথে যোগাযোগ করে ৩ ওয়ানডে ও ২ টি২০ এর ব্যবস্থা করে। বাংলাদেশ ৩ টি ওয়ানডের সবকটি ম্যাচেই জয়ী হয়।

তবে ১ম টি২০ জিতলেও ২য় টি২০ হারতে হয় টাইগারদের। এটাই বছরের শেষ সিরিজ ছিলো বাংলাদেশের।

 

বিপিএলের তৃতীয় আসর comilla-rangpur-bdcricteam

নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় বিপিএল এর ৩য় আসর। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে মাশরাফির নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আবারো নেতৃত্ব গুণে মাশরাফি মুগ্ধ করেন সবাইকে। তবে বিতর্কও ছিল। সিলেট মালিকের বিপক্ষে অভিযোগ উঠেছিল তামিমের সাথে বাজে ব্যবহার করার। তবে বিপিএলের মাধ্যমে সবার নজরে আসেন বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি।

প্রথম…

১/ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি,  ১০৩ বনাম ইংল্যান্ড।
২/ প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ।
৩/ প্রথমবারের মত যেকোন উইকেটে ৩০০+ রানের জুটি, তামিম-ইমরুল ৩১২ বনাম পাকিস্তান।
৪/ প্রথমবারের মত পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়।
৫/ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ২ ম্যাচে ১০+ উইকেট পাওয়া ।
৬/ প্রথমবারের মত ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে  এ ৭ নম্বরে উঠে আসা।
৭/ প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়।
৮/ ওয়ানডেতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সাকিবের ২০০ উইকেট প্রাপ্তি।

 

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

‘মাশরাফি একজন ফাইটার’

ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্র ওয়ালশের কাছে

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ