Scores

হাতের লেখা, ছবি আঁকা ‘সবকিছুতেই একনম্বর’ মুশফিক

কথায় বলে ‘যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে।’ বাংলাদেশ জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের কথায় ধরুন। ক্রিকেটার হিসেবে যেমন দুর্দান্ত, তেমনি বন্ধু হিসেবেও সেরাদের একজন মুশফিক। একই সাথে হাতের লেখা, ছবি আঁকা কিংবা দেয়াল লিখন; সবকিছুতেই নাম্বার ওয়ান তিনি।

চারদিনের টেস্টের বিরুদ্ধে মুশফিক

ব্যাট হাতে বাংলাদেশ দলের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন মুশফিক। বাইশ গজে তার লড়াকু মানসিকতাকে সম্মান জানাতে নাম দেওয়া হয়েছে মিস্টার ডিপেন্ডবল। টাইগারদের পক্ষে একাধিক রেকর্ডের মালিক মুশফিক। দেশের হয়ে সর্বাধিক ৩টি ডাবল সেঞ্চুরিও তার দখলে।

Also Read - বন্ধ হয়ে গেল আইসিসিও


উইকেটের পিছনেও নেহায়েত কম যান না ৩২ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। যদিও উইকেটরক্ষক হিসেবে তার পারফরম্যান্স মাঝেমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। যে কারণে কিপার মুশফিক অনেকবার সমালোচিত হয়ছেন। তবুও টেস্ট, ওয়ানডে অথবা টি-টোয়েন্টি; দেশের হয়ে সবসময়েই সেরাদের কাতারে সবার উপরে মুশফিকের নাম।

মুশফিক শুধু বাইশ গজে কিংবা মাঠের ক্রিকেটেই অপ্রতিরোধ্য নন, মাঠের বাইরে বন্ধু মহলেও শিরোমণি তিনি। সময় পেলে এখনো বন্ধুদের সাথে আড্ডায় আড্ডায় পুরো রাত কাটিয়ে দেন। বিপদে বাড়িয়ে দেন হাত। এ কারণেই বন্ধুরা মুশফিকের নাম দিয়েছেন ‘সত্যিকারের অলরাউন্ডার’।

বন্ধু মুশফিক সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রশংসার বাঁধটা খুলে বসলেন বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন, ‘মুশফিক এমন একটা ছেলে যে, কেউ তাকে বিরক্তিকরও বলতে পারবে না। কেউ তাকে উত্তেজিও বলতে পারবে না। কেউ তাকে খারাপও বলতে পারবে না। মানে সে ভারসাম্যপূর্ণ একটা ছেলে। মাঠেও যেমন ভারসাম্যপূর্ণ, বন্ধুদের সাথেও তেমন ভারসাম্যপূর্ণ।’

‘মুশফিক ছোটবেলা থেকেই বেশ মেধাবী ছাত্র। যেমন সে খেলে, তেমন বন্ধুদের সাহায্যও করে অনেক। যদিও সবেমিলে আমাদেরকে অতো বেশি সময় দিতে পারে না, তারপরেও এমন না যে সে একঘেয়ে। আমাদের সাথে সামঁজস্য রেখে চলে। বলতে পারেন ও যেখানেই যায়, সেখানেই পানির আকার ধারণ করে।’ সাথে যোগ করেন তিনি

ক্রিকেটার মুশফিক বা বন্ধু মহলে বরিষ্ঠ মুশফিকের বাইরেও প্রাণচঞ্চল মুশফিকের আরও বেশ কিছু প্রতিভা আছে। হাতের লেখা, ছবি আঁকা বা দেয়াল লিখনে মুশফিকের জুড়ি মেলা ভার। কিছুদিন আগেও স্কুলজীবনের বন্ধুদের নিয়ে এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দেয়াল লেখা, ছবি আঁকার পুরো দায়িত্ব নিজে সামলিয়েছেন তিনি।

চয়ন জানান, ‘মুশফিক সবকিছুতেই একনম্বর। ছেলে হিসেবে তো বরাবরই দুর্দান্ত। নিয়মিত নামাজ পড়ে, সুন্দর ছবি আঁকে। আমাদের যত দেয়াল লিখন সবই মুশফিক করতো। ওর হাতের লেখাও অসাধারণ।’

পড়াশোনাতেও কম যান না মুশফিক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর দুটোতেই পেয়েছেন প্রথম শ্রেণি। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছেন তিনি। লক্ষ্য পিএইচডি করা। এর আগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন জিপিএ-৫ নিয়ে।

বন্ধু মুশফিকের গুণমুগ্ধ চয়ন বলেন, ‘স্কুল জীবনে আমাদের ক্লাসে ও ক্যাপ্টেন ছিল। মেধাবী ছাত্রও ছিল। যখন আমরা ছোটখাটো কর্মসূচী করতাম তখন ও নেতৃত্ব দিতো। তখন তো আর সে এই মুশফিক না, যে মুশফিক এখন আপনারা চেনেন। মনে করেন আমরাও যেমন, সেও তেমন। মুশফিক তারকা হলো তো পরে। তো তখন যেরকম দেখেছি, এখনো সেরকম দেখছি। ওর ভিতরে কোনো পরিবর্তন নাই।’

Related Articles

ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা নয়, পেসারদের সাফল্য দেখছেন তাসকিন

মুশফিকের জন্য বিশেষ রণকৌশল সাজিয়েছেন রুবেলরা

শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নাজমুল একাদশ

মুশফিককে ঘিরে স্বস্তির খবর নাজমুল একাদশে

ফাইনালের আগে বাংলাদেশ ছাড়লেন টাইগারদের তিন কোচ