Scores

হৃদয়-আফিফ নৈপুণ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডের লিংকনে টস হারার পর প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রানের খাতা না খুলেই ফিরে যান পিনাক ঘোষ। তার আউটের পর দলীয় ২৯ রানে আগের ম্যাচের নায়ক সাইফ হাসানের ১৭ রানে আউট হওয়া চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশকে।

 চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১১১ রান যোগ করেন হৃদয়-আফিফ।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১১১ রান যোগ করেন হৃদয়-আফিফ।


তৃতীয় উইকেট জুটিতে সেই চাপ থেকে দলকে বের করতে লড়ে যান মোহাম্মদ নাইম ও তৌহিদ হৃদয়। ৬২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন এই দুই ব্যাটসম্যান। তবে দলের জন্য মজবুত ভিত পুরোপুরি গড়ার আগেই বিচ্ছিন্ন হয় এই জুটি। অর্ধশতক থেকে ৩ রান দূরে থাকতে দলীয় ৯১ রানের সময় ইনিংসের ২৪তম ওভারে রুম্মেল শাহজাদ নাইমকে ফেরালে বিচ্ছিন্ন হয় জুটিটি।

এরপর হৃদয়ের সাথে ক্রিজে যোগ দিয়ে ম্যাচের বাকিটা সময় বাংলাদেশময় করে তোলেন আফিফ-হৃদয় জুটি। তাদের গড়া ১১১ রানের জুটিতে লড়াকু পুঁজির রাস্তা পরিষ্কার হয় বাংলাদেশের। আফিফ ৫৯ বল মোকাবেলায় ৫ চার ও ১ ছয়ে ৫০ রানে থামলেও ব্যাট হাতে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত দলের হয়ে লড়ে যান হৃদয়। শতক পূর্ণ করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে দলকে নিরাপদ পুঁজিতে পৌঁছে দেওয়ার পথে খেলেন ১২৬ বল মোকাবেলায় ১২২ রানের চমৎকার এক ইনিংস। ৯ চার ও ১ ছয়ের মারে এই রান করেন তিনি। আফিফের ফিরে যাওয়ার পর হৃদয়ের সাথে আমিনুল ইসলামের ১৯ ও অঙ্কনের ৫ রানে চড়ে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২৬৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশের যুবারা।

Also Read - কানাডার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ


কানাডার বিপক্ষে হৃদয়ের শতক উদযাপন।
কানাডার বিপক্ষে হৃদয়ের শতক উদযাপন।

কানাডার বোলারদের মধ্যে ফয়সাল একাই তুলে নেন ৫টি উইকেট। এর জন্য তাকে খরচ করতে হয় ৪৮ রান। তাছাড়া রিশিভ, শাহজাদ ও আকাশ প্রত্যেকে লাভ করেন একটি করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কানাডার কাছ থেকে কিছুটা গতিশীল ব্যাটিং দেখা গেলেও প্রনব শর্মা, রনধীরদের আউট হওয়ার পর বাংলাদেশি বোলারদের আক্রমণাত্বক বোলিংয়ে ক্রমশ গতি কমতে থাকে দলটির রান তোলার গতি। কানাডার অধিনায়ক আরস্লান খান ১০৮ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেললেও বাকি ব্যাটসম্যানরা কার্যকরী ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হলে পরাজয়েই শুরু হয় কানাডার এবারের যুব বিশ্বকাপের আসর।

ম্যাচে কানাডার ইনিংস ৩ বল বাকি থাকতেই ১৯৮ রানে থামলে, ৬৬ রানের জয় নিয়ে আসরের পরবর্তী রাউন্ডে খেলার টিকিট নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। গ্রুপ ‘সি’তে থাকা বাংলাদেশ নিজেদের দুই ম্যাচেই তুলে নিয়েছে জয়। যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে।

ব্যাট হাতে ৫০ রান করার পর বল হাতে ৪৩ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা আফিফ।
ব্যাট হাতে ৫০ রান করার পর বল হাতে ৪৩ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা আফিফ।

দলের ম্যাচ জয়ের দিন ব্যাট হাতে অসাধারণ অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর বল হাতেও দ্যুতি ছড়ান আফিফ হোসেন ধ্রুব। ১০ ওভার বল করে তুলে নেন ৪৩ রান খরচায় ৫ উইকেট। বাকি উইকেটগুলো যায় কাজি অনিক, রবিউল হক, হাসান মাহমুদ ও সাইফ হাসানদের ঝুলিতে। অনিক, রবিউল ও সাইফ প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিলেও শেষ ওভারে এসে দুই উইকেট তুলে নেন হাসান মাহমুদ।

এদিকে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে আসরের অন্যতম শক্তিশালী দল ইংল্যান্ডের। দু’দলের মধ্যকার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৮ জানুয়ারি। বাংলাদেশের প্রথম দুটি খেলা টেলিভিশন পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারিত না হলেও এই ম্যাচটি দেখা যাবে টিভি পর্দায়। বাংলাদেশে গাজী টিভি খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড-
বাংলাদেশ অ.১৯ দলঃ ২৬৪/৮ (৫০ ওভার)
পিনাক ০(৮), নাইম ৪৭ (৬৭), সাইফ ১৭ (২০), হৃদয় ১২২ (১২৬), আফিফ ৫০ (৫৯), আমিনুল ১৯ (১৬), মাহিদুল ৫ (৩), অনিক ০ (১)*; ফয়সাল ৪৮/৫, আকাশ ৪৩/১

কানাডা অ.১৯ দলঃ ১৯৮/১০; আরস্লান ৬২, প্রনব ৩৪; আফিফ ১০-০৪৩-৫, হাসান ৮.৩-০-২৩-২

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৬৬ রানে বিজয়ী।

 


আরও পড়ুনঃ ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা প্রাপ্তির অপেক্ষায় রুবেল

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

প্রস্তুতি ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পণ মুশফিক-সাব্বিরদের

আফিফের বোলিংয়ে দিশেহারা জিম্বাবুয়ে

প্রথম ইনিংসে ভালো সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ

লঙ্কানদের বিপক্ষে শান্ত’র দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

সাইফ-আফিফে এইচপির বড় সংগ্রহ