১১৭ কেজি ওজন নিয়ে পানির বোতল বহন করতে হত : থিকশানা

ক্রিকেটটা খেলতেন ভালোই। কিন্তু ওজন ছিল ১১৭ কেজি। ভদ্রলোকের খেলায় ফিটনেস খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর তাই মাহিশ থিকশানাকে একাদশে সুযোগ দেওয়া হত না। বাধ্য হয়ে তাই সতীর্থদের জন্য পানি বহন করার কাজ করতে হয়েছে দীর্ঘদিন। ২১ বছর বয়সী সেই লঙ্কান স্পিনার থিকশানার এখন লিকলিকে গড়ন।

১১৭ কেজি ওজন নিয়ে পানির বোতল বহন করতে হত : থিকশানা
একসময় থিকশানার ওজন ছিল ১১৭ কেজি।

দেখে বোঝার উপায় নেই, তার ওজনই নাকি একসময় ১১৭ কেজি ছিল! যুব দলের একাদশে সুযোগ পেতে হিমশিম খাওয়া এই ক্রিকেটার এবারের আইপিএলে খেলছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে। মেদ ঝরিয়ে তার ঘুরে দাঁড়ানো হতে পারে অনেকের প্রেরণা।

Advertisment

চেন্নাইয়ের হয়ে সর্বশেষ কোনো শ্রীলঙ্কান খেলেছিলেন ২০১২ সালে, তিনি ছিলেন নুয়ান কুলাসেকারা। এরপর চেন্নাইয়ে আর কোনো লঙ্কানকে দেখা গেল দীর্ঘ সময় পর। নেট বোলার হিসেবে গত মৌসুমে চেন্নাইকে সার্ভিস দেওয়া থিকশানা এবার দল পান ৭০ লাখ রুপিতে। ম্যাচ খেলার সুযোগও মিলেছে, কেটেছে লঙ্কান সমর্থকদের আক্ষেপ।

থিকশানা জানালেন, একসময় ওজনের কারণে একাদশে সুযোগ পাওয়া কত কঠিন ছিল তার। তিনি বলেন, ‘অনুর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে খেলার সময় তখন আমার ওজন ছিল ১১৭ কেজি, তাই ইয়ো ইয়ো টেস্টে আমার ওজন এবং ত্বকের ভাঁজ কমাতে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। ২০২০ সালে আমি আমার ফিটনেসকে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসি। শরীর নিয়ে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে শুরু করেছি।’ 

১১৭ কেজি ওজন নিয়ে পানির বোতল বহন করতে হত থিকশানা -
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি এখন আইপিএলও খেলছেন থিকশানা।

মুটিয়ে যাওয়া শরীরের কারণে একসময় থিকশানার কাজ ছিল সতীর্থদের পানি বহন করা। তিনি বলেন, ‘২০১৭-১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্কোয়াডে থাকলেও আমি খেলার সুযোগ পাইনি, কারণ আমি কয়েকবার ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলাম। ২০১৯ সালে তিনদিনের একটা ম্যাচে আমাকে ১০ বার পানি বহন করতে হয়েছে। জানতাম, আমি ব্যর্থ হলে আমাকে আবার পানির বোতল বহন করতে হবে। আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম এবং কখনও হার না মানা মনোভাব ছিল। এ কারণেই আমি ২০২২ সালে এখানে আসতে পেরেছি।’

নেট বোলার থেকে চেন্নাইয়ের মুল স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়াটা থিকশানার কাছে স্বপ্নের মত। সেই সাথে সতীর্থ যখন মহেন্দ্র সিং ধোনির মত কিংবদন্তি, থিকশানার উচ্ছ্বসিত হওয়াই স্বাভাবিক। তার ভাষায়, ‘গত বছর নেট বোলার হিসেবে চেন্নাইয়ে ছিলাম। তারা আমার জন্য বিড করবে বা এই বছর আমাকে সুযোগ দেবে সেটা কখনও ভাবিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘চেন্নাইকে পছন্দ করতাম আমি, কারণ আমি ধোনির ভক্ত। গতকাল তার সাথে আমি টেবিল টেনিস খেলেছি, এটা আসলে অবিশ্বাস্য! তার অধীনে খেলা স্বপ্নের মত। ক্রিকেট হোক বা ফুটবল বা টেবিল টেনিস- তার সব কিছুতে অনেক দক্ষতা রয়েছে। আমার মনে হয় সে যেকোনো কিছু করতে পারে। এখানে খেলা একটি স্বপ্ন পূরণের মতো।’

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।