Scores

১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়েও আইসিএলে যাইনি : আশরাফুল

বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রথম ‘কালবৈশাখী’ বলা যেতে পারে ২০০৮ সালের আইসিএল কাণ্ডকে। অননুমোদিত ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে (আইসিএল) খেলতে গিয়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ১৩ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার। অনেকেই মনে করেন, সেই ঘটনায় ‘নাটের গুরু’র ভূমিকায় ছিলেন জাতীয় দলের তৎকালীন অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে অতীতে বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করা আশরাফুল এবারো করেছেন আত্মপক্ষ সমর্থন। 

১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়েও আইসিএলে যাইনি আশরাফুল

আইসিএলে বাংলাদেশি দল নিয়ে খেলার প্রস্তাব এসেছিল আশরাফুলের কাছেই। আশরাফুল সেই প্রস্তাব পেয়ে তৎকালীন কোচ জেমি সিডন্স ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর সাথে আলোচনা করেন। সতীর্থদের বললে কেউ কেউ খেলার জন্য রাজিও হয়েছিলেন। তবে বাবা আবদুল মতিন ও কোচ ওয়াহিদুল গণির পরামর্শে আশরাফুল আইসিএলের ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেন- সম্প্রতি এমনই দাবি করলেন বিডিক্রিকটাইম এর কাছে।

Also Read - আশরাফুলের চোখে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা একাদশ






নিয়মিত লাইভ আড্ডায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে আশরাফুল বলেন, ‘আইসিএলে খেলার প্রস্তাব সবার আগে আমার কাছেই এসেছিল। মাশরাফিসহ অনেক খেলোয়াড়কে জিজ্ঞেস করলাম- এরকম প্রস্তাব এসেছে, তোদের কী চিন্তাভাবনা। আমাকে ৩ বছরের জন্য ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হল। বাকিদের কাছে আমার মত মোটা অঙ্কের টাকার প্রস্তাব আসেনি। তাদের প্রস্তাব করা হয়েছিল এক-দেড় কোটি টাকা। আমাকে আইসিএল থেকে বলেছিল বাংলাদেশ থেকে একটা দল নিয়ে যেতে। সিডন্স বলল- আমি হলে সবার আগে চলে যেতাম (আইসিএলে), খেলছি তো টাকার জন্যই!’

এত বড় অঙ্কের প্রস্তাব পেয়েও কেন আইসিএলে খেলতে গেলেন না, সেই কারণ জানিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘লিপু ভাইকেও বললাম। ওয়াহিদ স্যার (প্রখ্যাত কোচ ওয়াহিদুল গণি) আমার গুরু, উনার সাথে কথা বললাম এবং আব্বাকেও বিষয়টা বললাম। আব্বা একটা কথাই বললেন- বাবা, টাকাপয়সা অনেক কামানো যাবে; বাংলাদেশের মানুষ তোমাকে বা ক্রিকেটারদের যে সম্মান দেয় প্রধানমন্ত্রীকেও ঐ সম্মান দেওয়া হয় না। ওয়াহিদ স্যারও ঐ কথা বললেন- টাকাপয়সার জন্য যাওয়ার দরকার নেই, তুমি দেশের হয়ে খেলো।’






কথা ছিল, আশরাফুল না গেলে আইসিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দলই যাবে না। এদিকে বোর্ড থেকে কড়াকড়ি- আইসিএলে গেলে দেশের হয়ে খেলার সুযোগ ছিন্ন করেইই যেতে হবে। কিন্তু সেই আশরাফুল সরে আসা সত্ত্বেও কীভাবে আইসিএল খেলতে গেলেন ১৩ জন ক্রিকেটার? সেই ব্যাখ্যা নেই আশরাফুলের কাছেও। আইসিএলে ঢাকা ওয়ারিয়র্স নামে দলে ছিলেন জাতীয় দলের পরীক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ ৭ ক্রিকেটারও।

আশরাফুল বলেন, ‘খেলোয়াড়দের অনেকে যেতে চাচ্ছিল, অনেকে চাচ্ছিল না। আমি যেহেতু যাব না তাহলে তো দল আর হচ্ছে না- এটাই ধরে নিয়েছিলাম আমি। পরে একটা দল তৈরি করা হল, ওরা খেলতে গেল। ঐসময় আমি ইংল্যান্ডে ছুটি কাটাচ্ছিলাম। সবাই ভেবেছে আমি দল তৈরি করে ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছি। কিন্তু দলটা কিন্তু আমি তৈরি করিনি, যারা গিয়েছিল উনারাই তৈরি করেছে।’

‘আসলে আমি কিছুই করিনি। দোষটা আমার উপরই দেওয়া হয়েছে, আমি নাকি করেছি।’– বলেন আশরাফুল

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

 

Related Articles

“টাকার জন্য নয়, নিজেকে প্রমাণের জন্য আইসিএলে গিয়েছিলাম”

ক্যারিয়ার বাঁচাতেই আইসিএল বেছে নেন নাফীস

আশরাফুলের আইসিএলের দল গোছানোর খবর আংশিক সত্য : নাফীস

আইসিএল খেলতে যাওয়ার কারণ জানালেন আফতাব