Scores

২১ বছরের অপ্রাপ্তি ঘুচেছিল অবিশ্বাস্য জয়ে

বাংলাদেশ দল স্বীকৃত ওয়ানডে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিল ১৯৮৬ সালে। ২৩তম ম্যাচে ১৯৯৮ সালে প্রথম ওয়ানডে ক্রিকেটে জয় পায় টাইগাররা। রফিক-আকরামদের সেই জয়ের ২১ বছর পরে মাশরাফি-মুশফিকদের হাত ধরে কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা ওঠে বাংলাদেশের হাতে। চমকপ্রদ হলেও সত্য দুইটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৭ মে তারিখে।

২১ বছরের অপ্রাপ্তি ঘুচেছিল অবিশ্বাস্য জয়ে

১৯৯৮ সালের ১৭ মে ছিল বাংলাদেশের জন্য সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যেই একটি জয়ের জন্য বাংলাদেশ অপেক্ষা করছিল ১২ বছর ও ২২টি ম্যাচ। অবশেষে ২৩তম ম্যাচে ভারতের হায়দরাবাদের কেনিয়ার বিপক্ষে কাঙ্খিত জয়টা পায় বাংলাদেশ। সেটা ছিল বাংলাদেশ, ভারত ও কেনিয়ার মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজ। ম্যাচ জয়ের পরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ব্যতিত কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় করতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২১ বছর।

Also Read - হাথুরুসিংহের অধীনে আর কখনোই খেলতে চান না ইমরুল


হাল আমলের নতুন ক্রিকেট দর্শকরা হয়তো কেনিয়াকে দাপুটে খেলতে দেখেনি কিংবা খেলতেই দেখেনি কেউ কেউ। কিন্তু একসময় কেনিয়া বেশ শক্তিশালী দল ছিল। তখন তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়কে তাই ছোটভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

সেদিন হায়দরাবাদে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে কেনিয়া সংগ্রহ করেছিল ২৩৬ রান। বিনিময়ে বাংলাদেশ ৬ উইকেট ও ২ ওভার হাতে রেখে ম্যাচ জিতেছিল। বাংলাদেশের পক্ষে অলরাউন্ড পারফর্ম করেছিলেন মোহাম্মদ রফিক। বল হাতে ৩ উইকেট শিকারের পরে ওপেনিংয়ে নেমে ব্যাট হাতে করেছিলেন ৮৭ বলে ৭৭ রান।

এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে উইকেট শিকার করেছিলেন এনামুল হক ও খালেদ মাহমুদ সুজন। ব্যাট হাতে আতহার আলি খান ৪৭ ও আকরাম খান করেছিলেন ৩৯ রান।

ঠিক ২১ বছর পরে ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে আরেকটা ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটাতে আগে ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪ ওভারে ১ উইকেটের বিনিময়ে সংগ্রহ করে ১৫২ রান। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ২১০ রান, তাও কিনা ২৪ ওভারে। মনে হচ্ছিল, ভাগ্যের কাছে হেরে এই বুঝি জয়টা ফসকে গেল! কিন্তু সেদিন আর কোনো অঘটন ঘটতে দেয়নি মোসাদ্দেক-সৌম্যরা।

সাব্বির রহমান তামিম ইকবাল ফিরে যান দ্রুতই, তবে অপরপ্রান্তে সৌম্য বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলছিলেন। ৪১ বলে ৬৬ রান করে থামেন সৌম্য। মুশফিক তাকে সঙ্গ দিয়ে যান ২২ বলে ৩৬ রান করে। আবার মোহাম্মদ মিঠুন দ্রুতই সাজঘরের পথ দেখেন। ততক্ষণে বলের সাথে রানের ব্যবধানটা বেড়েই চলছিল।

ক্রিজে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তাকে সমর্থন দিতে থাকেন আর মোসাদ্দেক খেলতে থাকেন বলের সাথে পাল্লা দিয়ে। একমুহূর্তে অসম্ভব লক্ষ্যটাকে বাংলাদেশ ছুঁয়ে ফেলে ৭ বল হাতে রাখতেই। ৫ উইকেটের জয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় করে টাইগাররা।

ম্যাচ জয়ের নায়ক মোসাদ্দেক করেন ২৭ বলে অপরাজিত ৫২ রান। প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

বাংলাদেশের পথে হাঁটল আয়ারল্যান্ডও

সুপার ওভারে রশিদের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জিতল আইরিশরা

ইংল্যান্ডের চার ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ

ইংল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ

সিমন্স-ঝড়ে উড়ে গেল আয়ারল্যান্ড