বিপিএল ২০১৭ : ফ্লপ একাদশ

এবারের বিপিএলে অনেক ক্রিকেটারকে নিয়েই প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন ঘটেনি। পারেনি প্রত্যাশা মেটাতে। কেউ কেউ ছিলেন চরম ব্যর্থ। তাদের পারফরম্যান্স সমর্থকদের মনে তৈরি করেছে হতাশা। তাদের নিয়ে ‘বিডিক্রিকটাইম ডট কম’ এর বিপিএলের এ আসরের ফ্লপ একাদশ।

বিপিএল ২০১৭ : ফ্লপ একাদশ
১. সৌম্য সরকার (চিটাগং ভাইকিংস) : হার্ডহিটার এ ওপেনার এবারের বিপিএলে ব্যাট হাতে ছিলেন নিষ্প্রভ। ১১ ইনিংস ব্যাটিং করে রান করেন মাত্র ১৬৯। গড় ১৫.৩৬। স্ট্রাইক রেটটাও টি-২০ সুলভ নয়। মাত্র ৯৮.২৫। নেই একটিও অর্ধশতক। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরেছেন দুইবার। সব মিলিয়ে এবারের বিপিএল মোটেও ভালো কাটেনি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকারের।

২. মেহেদি মারুফ (ঢাকা ডায়নামাইটস) : গত বিপিএলে ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্সের পর ওপেনার মেহেদি মারুফের কাছ থেকে দুর্দান্ত ব্যাটিং দেখার অপেক্ষায় ছিল সবাই। কিন্তু সেই আশায় গুঁড়েবালি। মোটেও ছন্দে ছিলেন না মারুফ। ৬ ইনিংস ব্যাট করে ৯.০০ গড়ে রান করেছেন ৫৪। ৩ বার আউট হয়েছেন ০ রান করে। সর্বোচ্চ ৩৩।

Also Read - মাশরাফিকে নিয়ে ভিন্নধর্মী গান

৩. শাহরিয়ার নাফীস (রংপুর রাইডার্স) : চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের হয়ে ৮ ম্যাচে খেলার সুযোগ পান শাহরিয়ার নাফীস। ৮ ইনিংস ব্যাটিং করে রান করেছেন  মাত্র ১০৮। ব্যাটিং গড় ১৩.৫০ আর স্ট্রাইক রেট ৯১.৫২। ৮ ইনিংসের মধ্যে দুইবার আউট হয়েছেন ০ রান করে। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ৩৫ রানের ইনিংস ছাড়া বলার মত ইনিংস নেই একটিও।

৪. মিসবাহ-উল-হক (চিটাগং ভাইকিংস) : চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের মিসবাহ-উল-হকের ওপর। কিন্তু প্রথম চার ম্যাচে ব্যাটিংয়ে তার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে অধিনায়কত্ব থাকেনি। ৪ ইনিংসে ৮৩ রান করা মিসবাহ কখনোই টি-২০ ফরম্যাটের উপযুক্ত ব্যাটিং করেননি। আর এটির সাক্ষ্য দিচ্ছে তার ৯১.২০ স্ট্রাইক রেট।

৫. জস বাটলার (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) : এবার ব্যাট হাতে বিবর্ণ ছিলেন ইংল্যান্ডের জস বাটলার। ১৪ ম্যাচে ১৩ ইনিংস ব্যাটিং করে মাত্র ২২৫ রান করেন তিনি। গড় ১৮.৭৫। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে অপরাজিত অর্ধশতক ছাড়া বাটলারের উল্লেখ করার মতো কোনো ইনিংস নেই। অথচ বিপিএল শুরুর আগে জস বাটলারকে ভাবা হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা।

৬. মুশফিকুর রহিম (রাজশাহী কিংস) : আশানুরূপ পারফরম্যান্স ছিল না রাজশাহী কিংসের মুশফিকুর রহিমের। ১২ ম্যাচে ১১ ইনিংস ব্যাটিং করে ১৮৫ রান করেন মুশফিক। এ বিপিএলে তার ব্যাটিং গড় ১৮.৫০। অর্ধশতক মাত্র একটি। ০ রান  করে সাজঘরে ফিরেছেন একবার। ব্যাট হাতে পরিচিত মুশফিকুর রহিমের চরিত্রটা এবারের বিপিএলে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

৭. সামিত প্যাটেল (রাজশাহী কিংস) : ইংলিশ অলরাউন্ডার সামিত প্যাটেল ৬ ইনিংস ব্যাটিং করে রান করেছেন ১০০।  ১৬৬.৬৬ স্ট্রাইক রেট হলেও গড় ১৬.৬৬। বোলিংয়ে ৬ ইনিংসে ১২ ওভার বোলিং করে পেয়েছেন তিন উইকেট। ওভার প্রতি রান দিয়েছেন ৭.৯১ করে। সামিত প্যাটেল থেকে প্রত্যাশাটা নিশ্চয়ই আরো বেশি ছিল।

৮. তানভীর হায়দার (চিটাগং ভাইকিংস) : ব্যাটে-বলে নিষ্প্রভ ছিলেন অলরাউন্ডার তানভীর হায়দার। চার ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৩৫ রান করেন তিনি। বাটিংয়ের চেয়ে বোলিংয়ের পারফরম্যান্সটাই বেশি হতাশাজনক। বোলিংয়ে ১০ ইনিংসে ২৩.১ ওভার বল করে উইকেট পেয়েছেন মাত্র ৩ টি। ছিলেন বেশ খরুচে। ওভার প্রতি রান দিয়েছেন ৯.১৯ করে।

৯. তাইজুল ইসলাম (সিলেট সিক্সার্স) :  বল হাতে মোটেও ভালো করেননি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৮ ম্যাচে ৫ উইকেট পেয়েছেন তিনি। ইকোনমি রেট ৮.৪৬।  এ স্পিনারের এবারের বিপিএলে বোলিং গড় ৩৬.৪০।

১০. কামরুল ইসলাম রাব্বি (সিলেট সিক্সার্স) : ডানহাতি পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি খেলেছেন ৫ ম্যাচ। কিন্তু বল হাতে এ পেসারের পারফরম্যান্স ছিল বিবর্ণ। ৫ ম্যাচে ১৬ ওভার বোলিং করেছেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। রান দিয়েছেন ১৫০। উইকেট পেয়েছেন মাত্র চারটি। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৯.৩৭ করে। এ ইকোনমি রেটই বলে দিচ্ছে কতটা খরুচে ছিলেন রাব্বি। এবারের বিপিএলের পারফরম্যান্স হয়তো ভুলে যেতে চাইবেন তিনি।

১১. কেসরিক উইলিয়ামস (রাজশাহী কিংস)  :  বিপিএলে ফ্লপ ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার কেসরিক উইলিয়ামস। বল হাতে রান দিয়েছেন প্রচুর। ৬ ম্যাচ ২২ ওভার বোলিং করে রান দিয়েছেন ২১৪। বোলিং গড় ৩৫.৬৬। ইকোনমি রেট ৯.৭২। বোলিংয়ে মোটেও সুবিধা করতে পারেননি এ ডানহাতি পেসার।

দ্বাদশ ক্রিকেটার : রনি তালুকদার (রাজশাহী কিংস) : ৮ ইনিংস ব্যাটিং করে মাত্র ১২৩ রান করেছেন রনি তালুকদার। ৩ বার আউট হয়েছেন রানের খাতা না খুলেই। ব্যাটিং গড় মাত্র ১৭.৫৭। ৮ ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ১ বার। নেই কোনো অর্ধশতক। সর্বোচ্চ ৪৭ রান।

আরও পড়ুনঃ মাশরাফিকে নিয়ে ভিন্নধর্মী গান

 

1 of 1