SCORE

সর্বশেষ

কলাবাগানকে পাত্তা দেয়নি প্রাইম ব্যাঙ্ক

ডিপিএলে ফতুল্লায় কলবাগান ক্রীড়া চক্রকে পাত্তা দেয়নি প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব। ব্যাটে বলে উড়িয়ে দিয়েছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থ রায় বড় স্কোর গড়তে পারেনি কলাবাগান। ১৭৩ রানের সহজ লক্ষ্য ৮৪ বল হাতে রেখেই টপকে যায় প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব। 

ফতুল্লায় টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। শুরুতে দুই ওপেনার তাসামুল হক এবং জসীমউদ্দিন খেলছিলেন দেখেশুনে। কিছুটা মন্থর ব্যাটিং করছিলেন দুই ওপেনার। তবে উদ্বোধনী জুটি বড় হয়নি। দলীয় ২১ রানের মাথায় ফিরে যান ওপেনার জসীমউদ্দিন। আরিফুল হকের বলে ৯ রান করে এলবিডব্লিউ হন তিনি।

এরপর মুনিম শাহরিয়ার ফিরে যান ৬ রান করে। শরিফুল ইসলামের বলে নাহিদুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন তিনি। ৩২ রানেই দুই উইকেট হারায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। রানের গতিও ছিল প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাবের বোলারদের নিয়ন্ত্রণে। মোহাম্মদ আশরাফুল তিন চার মেরে বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিলেও তা হয়নি। তার ইনিংসের স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র ১৬ বল। ১৪ রান করে আশরাফুল ফিরে যান দেলোয়ার হোসেনের বলে।

Also Read - কাপালির কাছে হারল মোহামেডান

ওপেনার তাসামুল হক দীর্ঘ সময় ক্রিজে পার করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৫৭ বলে মাত্র ১৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে চার ছিল একটি। এরপর ইমরান খালিদ এবং তাইবুর রহমান মিলে যোগ করেন ৮ রান। কিন্তু এই ৮ রান যোগ করতে তারা খেলেন ৫৮ বল। ২৭ বলে ৬ রান করে বিদায় নেন ইমরান খালিদ। তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আল-আমিন।

এরপর মাহমুদুল হাসানকে সাথে নিয়ে হাল ধরেন তাইবুর রহমান। দুজন মিলে জুটি গড়েন ৬৬ রানের। এক চার এবং এক ছক্কায় ৭৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস সাজান তাইবুর রহমান। তাকে আউট করেন  শরিফুল ইসলাম। পরের ওভারে ০ রান করে রান আউট হন মুক্তার আলি। শেষদিকে আবুল হাসান করেন ১০ বলে ৪। শাহাদাত হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ১৩ রান। মাহমুদুল হাসান হাঁকান অপরাজিত অর্ধশতক। ৬৮ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদুল হাসান। তার ইনিংসে ছিল ২ টি চার এবং একটি ছক্কা। তিনটি উইকেট নেন প্রাইম ব্যনাক ক্রিকেট ক্লাবের দেলোয়ার হোশেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান করে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করে প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব। দুই ওপেনার মেহেদি মারুফ এবং জাকির হাসান উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন। ঝড়ো ব্যাটিং করেন মেহেদি মারুফ। দুই ওপেনারই পান অর্ধশতকের দেখা।

দলীয় ৭৪ রানের মাথায় ভাঙে ওপেনিং জুটি। কলাবাগান কীড়া চক্রকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার আবুল হাসান রাজু।  রাজুর বলে এলবিডব্লিউ হন প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক মেহেদি মারুফ। ৪৯ বলে ৫১ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন মেহেদি মারুফ। তার ইনিংসে ছিল ৩ টি চার এবং ৩ টি ছক্কার মার।

এরপর প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেত ক্লাবের ভারতীয় রিক্রুট কুনাল চান্দেলাকে নিয়ে হাল ধরেন জাকির হাসান। তাদের জুটিতে জয়ের পথ সুগম হয় প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাবের। ৬৮ রানের জুটি গড়েন দুজন মিলে। ৭ চারের সাহায্যে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন জাকির হাসান। মোহাম্মদ আশরাফুলের বলে এলবিডব্লিউ হন জাকির।

এরপর মুক্তার আলি ফেরান আল-আমিনকে। বড় স্কোর গড়তে পারেননি আল-আমিন। ১৬ বলে ১১ রান করে মুক্তার আলির বলে মাহমুদুল হাসানের হাতে ক্যাচ দেন আল-আমিন। তবে আল-আমিনের বিদায়ে প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাবের তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। দলীয় ১৫৭ রানের মাথায় আল-আমিন বিদায় নেন। প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব তখন জয় থেকে মাত্র ১৬ রান দূরে।

মেহরাব হোসেন জুনিয়র এবং কুনাল চান্দেলা মিলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ৬০ বল মোকাবেলা করে ৪১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন কুনাল চান্দেলা। তার ইনিংসে ছিল তিন চার। অন্য প্রান্তে অপরাজিত থাকা মেহরাব হোসেন জুনিয়র ১ চারে ১৪ বলে ৮ রান করেন। ১৪ ওভার এবং ৭ উইকেট হাতে রেখে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়ে ডিপিএলে শুভসূচনা করে প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব। কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে একটি করে উইকেট পান মুক্তার আলি, আবুল হাসান রাজু এবং মোহাম্মদ আশরাফুল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ১৭২/৮, ৫০ ওভার
মাহমুদুল হাসান ৫০*, তাইবুর ৪৫, তাসামুল হক ১৭
দেলোয়ার ৩/৩২, শরীফুল ২/৩১, আল-আমিন ১/১৮

প্রাইম ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব ১৭৩/৩, ৩৬ ওভার
জাকির ৫৬, মারুফ ৫১, চান্দেলা ৪১*
আশরাফুল ১/২৪, মুক্তার ১/২৭, আবুল ১/৩৮

ম্যাচসেরা : দেলোয়ার হোসেন

1 of 1

Related Articles

পারিশ্রমিক না পেয়ে বিসিবির শরণাপন্ন কলাবাগানের ক্রিকেটাররা

কলাবাগানের তিন ক্রিকেটারকে পারিশ্রমিক না দেয়ার অভিযোগ

মিজানুরে ম্লান আশরাফুলের ‘রেকর্ড’ শতক

আশরাফুলের ‘বিরল’ রেকর্ড

আশরাফুলের টানা তৃতীয় শতক