SCORE

সর্বশেষ

ফরহাদ রেজার ঝড়ে বিধ্বস্ত খেলাঘর

ডিপিএলের সুপার লিগে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির বিপক্ষে পাঁচ উইকেটের জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। প্রাইম দোলেশ্বরের অধিনায়ক ফরহাদ রেজার ঝড়ো ইনিংসে বিধ্বস্ত হয়েছে খেলাঘর। হাত থেকে বের হয়ে যাওয়া ম্যাচ একাই জিতিয়েছেন ফরহাদ রেজা।


ফতুল্লায় টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে খেলাঘর। দুই ওপেনার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এবং রবিউল ইসলাম রবি মিলে শুরুটা করেন ধীরলয়ে। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে এসে উইকেট হারায় খেলাঘর। দলীয় ৩৩ রানের মাথায় ওপেনার মাহিদুল ইসলামকে ফেরান আরাফাত সানি। ৩৩ বলে ২৪ রান করে উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগিয়েও ফিরে যান সাজঘরে।

অমিত মজুমদারকে সাথে নিয়ে দলের হাল ধরেন রবিউল ইসলাম। দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। দুইজনই পান অর্ধশতকের দেখা। শরীফুল্লাহর বলে ৭৩ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলে স্টাম্পিং হন রবিউল ইসলাম। তার ৬৩ রানের ইনিংসে ছিল ৬ টি চার এবং ১ টি ছক্কা। আল মেনারিয়াকে নিয়ে ৬৬ রান যোগ করেন অমিত। রবিউল আর অমিতের পর আল মেনারিয়াও করেন ফিফটি।

Also Read - পিএসএল ফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন সাব্বির

আল মেনারিয়া ও অমিতের জুটি ভাঙেন আরাফাত সানি। ৬৩ বলে ৫০ রান করে আরাফাত সানির বলে এলবিডব্লিউ হন অমিত। দুইটি বড় জুটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায় খেলাঘরকে। তবে এ দুই জুটি ভাঙার পর প্রাইম দোলেশ্বরের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট শিকার করতে থাকলে এবং রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখলে বড় পুঁজি গড়া হয়নি খেলাঘরের।

৭ বলে ১ রান করে দলীয় ১৮৪ রানের মাথায় ফিরেন রাফসান আল মাহমুদ। আরাফাত সানির বলে বোল্ড হন তিনি। এরপর নাজিমুদ্দিনকেও বোল্ড করেন আরাফাত সানি। ১৬ বলে ১০ রান করে সাজঘরে ফিরেন নাজিমুদ্দিন। ৮ বলে ৩ রান করে মাসুম খান আরাফাত সানির বলে স্টাম্পিং হলে পাঁচ উইকেট পান সানি। লিস্ট এ ক্রিকেটে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন আরাফাত সানি।

৬৪ বলে ৫৪ রান করে মেনারিয়া শিকার হন ফরহাদ রেজার। শেষদিকে ১৮ বলে ২ চারের সাহায্যে ২১ রান করেন মইনুল ইসলাম। ১ চার এবং ১ ছক্কায় ১০ বলে ১৭ রান করেন তানভীর ইসলাম।

ওপেনার লিটন দাস ও ইমতিয়াজ হোসেন প্রাইম দোলেশ্বরের ২৫৮ রানের জবাবে ৩৩ রানের ভিত গড়ে দেন।  খেলাঘরের ওপেনিং জুটি থেকেও এসেছিল ৩৩ রান। লিটন দাসকে ফিরিয়ে খেলাঘরকে প্রথম সফলতা এনে দেন পেসার হাসান মাহমুদ।

হাসান মাহমুদের বোলিং তোপে পড়ে প্রাইম দোলেশ্বর। লিটন দাসকে হারানোর পর ফিরে যান ফজলে মাহমুদ। ১০ রান করে হাসানের বলে ক্যাচ দেন মেনারিয়াকে। ৪৩ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে প্রাইম দোলেশ্বরের। ইমতিয়াজ হোসেন এবং মার্শাল আইয়ুবের জুটিও বড় হয়নি। তাদের ২৮ রানের জুটি ভাঙেন মাসুম খান। ৫৩ বলে ১৯ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ইমতিয়াজ।

ইমতিয়াজের বিদায়ের পরের ওভারে ফিরে যান মার্শাল আইয়ুবও। ২০ বলে ১৫ রান করে মোহাম্মদ সাদ্দামের বলে এলবিডব্লিউ হন মার্শাল আইয়ুব। ফরহাদ হোসেন ও শরীফুল্লাহ প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও পারেননি। দলীয় ১০৩ রানের মাথায় ফরহাদকে ফিরিয়ে দেন মইনুল ইসলাম।

এরপর ৬৩ রানের জুটি গড়েন শরীফুল্লাহ ও ইকবাল আবদুল্লাহ। তাদের জুটিতে ম্যাচে টিকে থাকে প্রাইম দোলেশ্বর। দলীয় ১৬৬ রানের মাথায় এ জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাদ্দাম। ৬৫ বলে ৩০ রান করে সাদ্দামের শিকার হন শরীফুল্লাহ। নিজের পরের ওভারে ইকবাল আবদুল্লাহকেও সাজঘরের পথ দেখান সাদ্দাম। ৩৮ বলে ৩৫ রান করেন তিনি।

দুই ওভারে দুই উইকেট নিয়ে প্রাইম দোলেশ্বরের আশার আলো অনেকটাই নিভিয়ে দেন সাদ্দাম। দল যখন পরাজয়ের ক্ষণ গুণছে তখন হাল ধরেন ফরহাদ রেজা। তাকে সঙ্গ দেন শাহানুর রহমান। ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন ফরহাদ রেজা। মেটান পরিস্থিতির দাবি। রান আর বলের টানাপোড়েনও আনেন কমিয়ে। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ধ্বংসস্তুপ থেকে যেন জেগে উঠে প্রাইম দোলেশ্বর।

অষ্টম উইকেটে শাহানুরকে সাথে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটি গড়েন ফরহাদ রেজা। দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। ৩৮ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলার পথে ২ টি চার আর ৭ টি ছক্কা হাঁকান ফরহাদ রেজা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি ২৫৮/৮, ৫০ ওভার
রবি ৬২, মেনারিয়া ৫৪, অমিত ৫০
আরাফাত সানি ৫/৪৫, ফরহাদ রেজা ২/৫৬, শরীফুল্লাহ ১/৪৮

প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব ২৫৯/৭, ৪৮.১ ওভার
ফরহাদ রেজা ৬৮*, ইকবাল ৩৫, শরীফুল্লাহ ৩০
সাদ্দাম ৩/৪০, হাসান ২/৫৭, মইনুল ১/৩৯

আরও পড়ুনঃ পিএসএল ফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন সাব্বির

1 of 1

Related Articles

খেলাঘরের বিপক্ষে আবাহনীর বড় জয়

রাজার ব্যাটে চড়ে গাজী গ্রুপের জয়

ডিপিএলে জয় পেয়েছে রূপগঞ্জ , খেলাঘর ও অগ্রণী ব্যাংক

কলাবাগানকে ১৫ রানে হারিয়েছে খেলাঘর

জোড়া সেঞ্চুরিতে খেলাঘরের বড় জয়