SCORE

সর্বশেষ

এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি মুশফিক

সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ- বিসিএলের চতুর্থ রাউন্ডে বিসিবি নর্থ জোনের হয়ে খেলার সময় পায়ের গোড়ালিতে চোট পান মুশফিকুর রহিম। তাও এই আততায়ী ইনজুরি তাকে হানা দিয়েছে ঘরের মাঠে, বগুড়ায়।

স্যামির কাছে নেতৃত্ব হারিয়ে অখুশি নন মুশফিক

ঐ ম্যাচের প্রথম ইনিংসে হাঁকিয়েছিলেন দুর্দান্ত শতক। ওই ইনিংস খেলার পথেই অবশ্য পায়ের গোড়ালিতে চোট পান তিনি। যার কারণে ব্যাট করতে নামেননি দ্বিতীয় ইনিংসে। পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরলে দুই সপ্তাহের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয় তাকে। এই চোটের কারণে মুশফিক খেলতে পারেননি বিসিএলের পঞ্চম এবং শেষ রাউন্ডেও।

Also Read - 'সাবেক অধিনায়ক' হিসেবেই মুশফিকের 'সেরা অর্জনে'র রোমাঞ্চ

বেশ কদিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকার পর মঙ্গলবার রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে’ সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলেন মুশফিক। এ সময় জানান তার ইনজুরি পুনর্বাসনের ব্যাপারেও।

মুশফিক জানান, তার সেরে ওঠা সম্পন্ন হয়নি এখনও। আরও ৫-১০ শতাংশ সুস্থতার প্রয়োজন রয়েছে তিনি সাংবাদিকের বলেন-

‘ফিটনেস শতভাগ এখনো আসেনি। ৯০-৯৫ শতাংশ বলা যায়। গত তিন-চার দিন থেকে আমি রানিংও শুরু করে দিয়েছি। স্কিল ট্রেনিং তাড়াতাড়ি শুরু করব।’

আপাতত কোনো আন্তর্জাতিক সূচি না থাকায় মুশফিকের ইনজুরি কোনো বিপদ ডেকে আনেনি বাংলাদেশের। আগামী জুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা রয়েছে টাইগারদের। কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকায় বড় ধরণের ধাক্কা খেতে হচ্ছে না বাংলাদেশ দলকে। তা না হলে জাতীয় দল গঠন করতেই হিমশিম খেতেন নির্বাচকরা। মুশফিক ছাড়াও ইনজুরিতে পড়েছেন যে বেশ কজন ক্রিকেটার!

মুশফিক চোট পাওয়ার অল্প কদিন আগে সিরাজগঞ্জে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ের লিগামেন্ট ছিড়ে যায় নাসির হোসেনের। যার কারণে ৬ মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন এই অলরাউন্ডার। ডিপিএল চলাকালীন ইনজুরিতে পড়েছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। অবশ্য এই ইনজুরি নতুন নয়। ২০১৫ সালে ব্যাক পেইনের ইনজুরির শিকার হয়েছিলেন তারকা পেসার। একই ইনজুরিতে পড়েছেন এবারও।

এছাড়া কাঁধের ইনজুরিতে ভুগছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাসকিন-মিরাজ-মুশফিকের আগে ইনজুরির শিকার হয়েছিলেন ওপেনার তামিম ইকবালও। নিদাহাস ট্রফির সময় চোট পেলেও পিএসএলের সময় সেই ব্যাথা অনুভব করলে ব্যাংককে যান তিনি। অবশ্য রিপোর্টে ভালো খবর আসেনি তার জন্য। হাঁটুর চোটে ছয় মাসের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তামিমকে।

দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের এমন চোটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে লম্বা বিরতি অনেকের মনেই জাগাচ্ছে দুশ্চিন্তা। এই বিরতি শেষে পুরনো ছন্দে খেলতে পারবে তো বাংলাদেশ?

অবশ্য মুশফিকের দৃষ্টিতে এই বিরতি নয় খুব একটা বড়। যারা বিসিএল ও ডিপিএলে খেলেছিলেন, তাদের জন্য তো নয়ই। মুশফিক বলেন, ‘ব্রেক বলতে… খুব বড় ব্রেক নাই। খেয়াল করে যদি দেখেন লাস্ট আট-নয় মাস একাধারে ক্রিকেট খেলেছি। বিপিএল, লঙ্কা সিরিজ, নিদাহাস ট্রফি, ঘরোয়া লিগ… বিশ্রাম অনেক প্লেয়ারদের জন্য হেল্পফুল হবে। তারপর ফিটনেস ক্যাম্প থাকবে। আমার মনে হয় পুরো প্রস্তুত হয়েই যেতে পারব।’

মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিকের খ্যাতি ছিল আগে থেকেই। সম্প্রতি তিনি যেন খেলছেন আরও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে। মুশফিক জানান, নিজের এই উন্নতির পেছনে অবদান আছে দেশের অন্যতম সেরা কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিমের।

মুশফিক বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে বড় শট খেলতে হয়। আপনাকে কিছু ঝুঁকিও নিতে হয়। ওটা নিয়ে স্যারের (নাজমুল আবেদিন ফাহিম) সঙ্গে কাজ করছিলাম। ডানহাতের কিছু ড্রিল আছে যেগুলো কাজ করলে তাড়াতাড়ি কিছু উন্নতি পাওয়া যায়। আল্লাহর রহমতে আমি খুব খুশি। আগামীতে যদি দরকার হয় তাহলে হয়তবা আরেকটু সময় লাগিয়েও কাজ করব।’

মুশফিক আরও বলেন, ‘আমরা অনেক সময় ভাবি ডানহাত দিয়ে শুধু লফটেড শটই খেলা যায়। বা ডান হাত দিয়ে বড় শট খেলা যায়। কিন্তু ডানহাত দিয়ে যে নিয়ন্ত্রণ রেখেও যে খেলতে পারি, ডান হাত পাওয়ারের জন্য ব্যবহার না করে প্লেসমেন্টের জন্য ইউজ করতে পারি- এই দুইটার সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি।’

আরও পড়ুনঃ আফগানিস্তানকে সমীহই করছেন মুশফিক

1 of 1

Related Articles

বদলি হিসেবে এসে প্রথম দিনের নায়ক

তুষারের কাছে ‘এ’ দল ফিরে আসার মঞ্চ

ঘরোয়া ক্রিকেটে সুযোগ চান লেগ স্পিনাররা

দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ল রাজ্জাকদের বেতন

শল্যবিদের ছুরির নিচে নাসির