SCORE

সর্বশেষ

চিড় ধরেনি স্মিথ-ওয়ার্নারের বন্ধুত্বে

বল টেম্পারিংয়ে জড়িয়ে দুজনের উড়ন্ত ক্যারিয়ার থমকে দিয়েছেন হুট করে। এমন ঘটনার পর দলচ্যুত নেতা ও তার সহযোগীর মধ্যে সম্পর্ক ভালো না থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। দুজনের উপরই একসাথে বয়ে গেছে অনেক ঝড়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুষ্টু লোকেরা গুজব ছড়িয়েছিল- বল টেম্পারিং কাণ্ডের পর থেকে স্টিভ স্মিত্থ ও ডেভিড ওয়ার্নারের বন্ধুত্বের সম্পর্কে ধরেছে ফাটল।

চিড়-ধরেনি-স্মিথ-ওয়ার্নারের-বন্ধুত্বে

তবে সেই খবরটি যে আসলেই দুষ্টু লোকের ছড়ানো গুজবই ছিল, সেটি এবার নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর তা নিশ্চিত করেছেন স্বয়ং ওয়ার্নার। কানাডায় চলমান গ্লোবাল টি-২০’তে খেলতে স্মিথ এবং ওয়ার্নার দুজনই এখন দেশটিতে অবস্থান করছেন। স্মিথ খেলছেন টরন্টো ন্যাশনালসের হয়ে, মন্ট্রিল টাইগার্সের হয়ে খেলছেন ওয়ার্নার। ফলে দুই বন্ধু আবারও কাছাকাছি হয়েছে। তবে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় দুজনের মধ্যে যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি স্বীকার করেছেন ওয়ার্নার। সেই সাথে জানিয়েছেন, তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে এতটুকুও ফাটল ধরেনি।

Also Read - 'আমরা নতুন অতিথির অপেক্ষায়'

ওয়ার্নার বলেন, ‘স্টিভ (স্মিথ) এবং আমি ভালো বন্ধু। হোটেলে গেলে লোকে দেখতে পাবে আমরা একসাথে থাকছি। খুব বড় একটি বিষয় ঘটে গেছে (বল টেম্পারিং) এবং এটাকে আপনি নিজের মত করে সামলে নিতে হবে।’

স্মিথ আর ওয়ার্নারের এখন খুব একটা দেখা হয় না। তার অন্যতম কারণ হতে পারে একই দলে না খেলা। দুজনের মধ্যে এই দূরত্বটা তাই কেবল পরিমাপ করার মতই, আত্মিক কিংবা মানসিক নয়।

ওয়ার্নার বলেন, ‘সে অনেক দূরে থাকে, তাই আমরা দেখা করতে পারি না। আমরা আড্ডা দিয়েছি, একই হোটেলে উঠেছি এবং আগামী দিনগুলোতে আমাদের বারবার দেখা হবে।’

বল টেম্পারিং ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে জায়গা হারানোর পর স্ত্রীর গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানকেও হারান ওয়ার্নার। সব মিলিয়ে তার জীবনে বয়ে গেছে বড় এক ঝড়। একে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এবং পরিবারের জন্য এটি অনেক কঠিন সময় ছিল। আমার দোষ ছিল এবং ঘটনার জন্য আমিই দায়ী। তাই আমাকেই কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। তবে আমি এখন শক্তিশালী, এগিয়ে যাবো সামনের দিকে। সঠিক সময়ে সেরা ক্রিকেট খেলা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।’

ওয়ার্নার আরও বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে হতাশার সময় ছিল এটা। সম্পর্ক রক্ষা করা কঠিন ছিল। তবে দলের সবার সাথে খেলার জন্য এখনও আমি উদগ্রীব হয়ে আছি। অস্ট্রেলিয়ানদের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে আমাদের আরও লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে এবং এজন্য আমি একশ ভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিং করার অভিযোগ এলে সংবাদ সম্মেলনে তা স্বীকার করে নেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ এবং সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। ওয়ার্নারের পরিকল্পনায় এবং স্মিথের অনুমতিতেই ঐ টেম্পারিং করেছিলেন তরুণ ব্যাটসম্যান ক্যামেরন ব্যানক্রফট। বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে ১২ মাস এবং ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, যদিও আইসিসির দেওয়া সাজা ছিল নগণ্যই। বোর্ডের দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া বা অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ বা সিরিজে অংশ নিতে পারবেন না এই তিন ক্রিকেটার।

টেম্পারিংয়ের খবরটি চাউর হওয়ার পর মুহূর্তেই শোরগোল পড়ে যায় পুরো ক্রিকেট বিশ্বে। মুহূর্তেই স্মিথের অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন খোদ অস্ট্রেলিয়ার সরকার প্রধান। এরপর দায় মাথায় নিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান স্টিভেন স্মিথ। সেই সাথে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান মারকুটে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। পরবর্তীতে তাদের বড় শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় নিজ বোর্ডের সিদ্ধান্তেই। এমন ঘটনায় দুজনের জীবনই যেন স্থবির হয়ে পড়েছিল। অনেকদিন দূরে ছিলেন ক্রিকেট থেকেও। তবে সম্প্রতি আবারও ব্যাট হাতে নিয়েছেন দুই বন্ধু, তাও একই আসরে খেলতে নেমে।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশকে ‘হোম ভেন্যু’ বানাতে হচ্ছে না সরফরাজদের

Related Articles

বিশ্বকাপে দৃষ্টি ওয়ার্নারের

২০১৯ সালের আগস্টে হবে আগামী অ্যাশেজ

“মাহদি সুযোগ পেলে বাংলাদেশের হয়ে খেলবে”

চলে এলেন ‘ক্রিকেটের নেইমার’!

দায়িত্ব ছাড়লেন গ্যারি কারস্টেন