SCORE

সর্বশেষ

নবী-রশিদে সিরিজ জিতল আফগানরা

ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে পরাজিত করেছে আফগানিস্তান।

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান
রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি- এক ছবিতে আফগানিস্তানের সিরিজ জয় নিশ্চিত করা ম্যাচের তিন নায়ক। ছবি: এপি

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ১৩৫ রানের লক্ষ্যে আফগানিস্তান জয় পায় ৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই।

আগের ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং করতে নেমে পরিণতি ভালো হয়নি। আফগানিস্তানের রান ‘পাহাড়ের’ নিচে চাপা পড়ে গুটিয়ে যেতে হয়েছে অল্পতেই। এবার আর সেই ভুল করলেন না সাকিব আল হাসান। টস জিতে জানালেন, প্রথমে ব্যাটিংয়েই নামবে তার দল।

Also Read - ভেন্যু ভাগ করে দেয়া হয়েছে বিদেশি কিউরেটরদের

সেই সিদ্ধান্তের সার্থকতার প্রতিফলন দেখাতে প্রথমেই ব্যর্থ হলেন লিটন দাস। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে শাপুর জাদরানের বল তুলে দিলেন রশিদ খানের হাতে। তার ১ রানের ইনিংস ওয়ান ডাউনে নামা সাব্বির রহমানের উপর ফেলল পাহাড়সম চাপ। সেই চাপ জয় করার বদলে আলোচিত ব্যাটসম্যান (৯ বলে ১৩) সাজঘরে ফিরলেন তিনটি চার হাঁকিয়েই। একপ্রান্ত আগলে রাখা তামিম ইকবালের সাথে দেখেশুনে খেলে যাচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম। দুজনে মিলে আফগান বোলিং আক্রমণের উপর চাপও সৃষ্টি করেছিলেন। দলীয় সংগ্রহ দেড়শর কাছাকাছি হওয়া তখন মনে হচ্ছিল কেবলই সময়ের ব্যাপার।

তবে সেই আশার গুঁড়েবালি হল মোহাম্মদ নবীর ডেলিভারিতে। সাব্বিরের পর মুশফিকও উইকেট বিলিয়ে দিলেন নবীকে। তাতে ১৮ বলের মোকাবেলায় একটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকানো মুশফিক থামলেন ২২ রানে। খানিক পর দল যে ঘোর বিপর্যয়ে পড়বে, সেটিও আন্দাজ করা যায়নি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ক্রিজে এসেই নবীকে বিশালাকার এক ছক্কা হাঁকানোয়। মুশফিকের মতো রিয়াদও হাঁকালেন একটি করে চার-ছক্কা। ৮ বলে ১৪ রান করা বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ককে সাজঘরের পথ দেখান করিম জানাত, দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করে।

১২ ওভারে ৯৩ রান, পতন ঘটেছে ৪ উইকেটের। ততক্ষণ পর্যন্তও ইনিংস ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। এর পরের গল্পটুকু শুধুই রশিদ খানের। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে সাকিবকে (৭ বলে ৩) দেখালেন ড্রেসিংরুমের পথ। ৪৮ বলে ৪৫ রান করা তামিম ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন বিস্ফোরণের। তবে তার স্ট্রাইক রেট একশর নিচে রেখেই মাঠের বাইরে পাঠানোর নিয়তি গড়লেন রশিদ খান। ঠিক পরের বলেই এলবিডব্লিউ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (০)। একই স্পেলে পরের ওভারে সৌম্য সরকারের (৯ বলে ৩) উইকেট পকেটে পুড়ে রশিদ খান ইনিংস শেষ করেছেন এমন বোলিং ফিগার নিয়ে- ৪-০-১২-৪!

শেষদিকে অবশ্য সতীর্থদের বিলাসী শট আর ধীর ব্যাটিংয়ের গ্লানি দূর করতে সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন আবু হায়দার রনি। একটি চার ও দুটি ছক্কায় এই পেসার অপরাজিত ছিলেন ১৪ বলে ২১ রান করে- যা ইনিংসের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর! ৬ রান নিয়ে তার সাথে অপরাজিত থেকে সম্মানজনক সংগ্রহের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন নাজমুল ইসলাম অপুও। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৪ রান, ৮ উইকেট হারিয়ে।

আফগানিস্তানের পক্ষে রশিদ খান একাই শিকার করেন চারটি উইকেট। এছাড়া মোহাম্মদ নবী দুটি এবং শাপুর জাদরান একটি উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নামলে নাজমুল ইসলাম অপুর করা প্রথম ওভারে কোনো রান নিতে না পারলে আফগানিস্তানের উপর ভর করে বসে চাপ। মুশফিককে এদিন সাজঘরে ফিরিয়েছিল আফগান উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ শাহজাদের অসাধারণ স্ট্যাম্পিং। সেই শাহজাদকে মুশফিক তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হলে বিপদ হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য। আরেক ওপেনার উসমান গনি ধীরে ব্যাট চালাতে লাগলেও শাহজাদ মারকুটে ব্যাটিং করে চাপ সরানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। চারটি চার ও একটি ছক্কায় ১৮ বলে ২৪ রান করা শাহজাদকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরের পথ দেখান আবু হায়দার রনি। তাতে ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ।

শাহজাদের বিদায়ের পর সুবিধা করতে পারছিলেন না উসমান। ৩১ বলে ২১ রানের ধীরগতির এক ইনিংস খেলে তিনি বিদায় নেন রুবেল হোসেনের বলে সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত হয়ে। তবে তার অনুপস্থিতিতে দলকে দারুণভাবে সামাল দেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। দুটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৪১ বলে ৪৯ রান করার পর মোসাদ্দেকের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে তাতেও বিপদ ঘটেনি দলের। শেষদিকে দানবীয় ব্যাটিং করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ নবী। তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ১৫ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য আফগানদের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। রুবেল এই রান বিলিয়ে দেন তার করা ইনিংসের ১৯তম ওভারের প্রথম পাঁচ বলেই। ফলে নিদাহাস ট্রফির পর এবারও তার হাতে ডুবে বাংলাদেশের জয়ের তরী।

বাংলাদেশের পক্ষে মোসাদ্দেক হোসেন দুটি এবং রুবেল হোসেন ও আবু হায়দার রনি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ 

বাংলাদেশ ১৩৪/৮ (২০ ওভার) তামিম ৪৩, মুশফিক ২২, আবু হায়দার ২১*
রশিদ খান ৪-০-১২-৪, নবী ৪-০-১৯-২, করিম ৪-০-৪০-১

আফগানিস্তান ১৩৫/৪ (১৮.৫ ওভার)  শেনওয়ারি ৪৯, নবী ৩১*, শাহজাদ ২৪
মোসাদ্দেক ৩-০-২১-২, রনি ৩-০-১৪-১, রুবেল ৩.৫-০-৩৮-১

ফলাফলঃ আফগানিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী

আরও পড়ুন: সাকিবের পরিচিত রোডস!

1 of 1

Related Articles

ক্রিকেটের ৯০ শতাংশ দর্শকই উপমহাদেশের!

স্ট্রাইকিং প্রান্তে শুরু করতেই ভালোবাসেন তামিম

“খেলায় আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবেই”

আলোচিত ব্যাঙ্গালোর টেস্টে যত রেকর্ড

আফগানদের পরাজয়ে প্রোটিয়াদের স্বস্তি!