SCORE

সর্বশেষ

বাংলাদেশ আফগানিস্তান সিরিজের সেরা তিন

দেরাদুনে তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের তিন ম্যাচই হেরে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবেছে টাইগাররা। আগের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খুইয়েছিল, যা বাকি ছিল শেষ ম্যাচ জিতে কিছুটা সম্মান নিয়ে দেশে ফেরার। কিন্তু সেটাও হলো না।  রোমাঞ্চকর ম্যাচ এবারও হতাশ করল বাংলাদেশকে। দেরাদুনে তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশ হেরেছে মাত্র ১ রানের ব্যবধানে। এ জয়ে আফগানরা নিজেদের হোম সিরিজের ইতি ঘটাল ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে।

হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় শেষ দেরাদুন সফর
ছবি: এসিবি
নিয়মরক্ষার এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে তিন পরিবর্তন নিয়ে নেমেছিল। টস হেরে বোলিং করতে নামে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাথে ভালোই শুরু করে আফগানরা। ৫৫ রানের ওপেনিং জুটিতে ভিত গড়ে দেন উসমান গণি ও শাহজাদ। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। এরপর অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাই ও সামিউল্লাহ শেনওয়ারি সেই চাপ সামাল দেন। কিন্তু এই দুইজন আউট হয়ে গেলে আর কেউই ভালো ব্যাট করতে না পারায় বাংলাদেশের অসাধারণ ডেথ বোলিং এর কল্যাণে ১৫০ এর আগেই থামে আফগানদের ইনিংস।

ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয় নি বাংলাদেশের, পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই হারিয়ে বসে টপ অর্ডারের সেরা তিন ব্যাটম্যানকে। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ইতিবাচক শুরু করলেও শেনওয়ারির অসাধারণ ক্যাচে ফিরে যান ড্রেসিংরুমে। এরপরই জুটি বাঁধেন দুই ভরসা মুশফিক আর রিয়াদ। শেষ ওভারে দরকার হয় ৯ রান। শেষ বলে চার। অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে এক রানে জিতে ধবলধোলাই নিশ্চিত করে টাইগারদের। ম্যাচসেরা হন মুশফিকুর রহিম ও সিরিজসেরা হন লেগস্পিনার রশিদ খান। এর আগে প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটের পর দ্বিতীয় ম্যাচে পেয়েছেন ৪টি উইকেট।

Also Read - কঠিন সময়ের চ্যালেঞ্জ সহজভাবেই নিচ্ছেন নতুন কোচ

প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৬৭ রান করে আফগানিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১২২ রানেই গুটিয়ে যায় সাকিব আল হাসানের দল। অন্যদিকে দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। তবে সুবিধা করতে পারেন নি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান তোলে তামিমরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।

ব্যাটে বলে যে আফগানরাই এগিয়ে থাকবে সেটা অনুমিতই। তিন শূন্য ব্যবধানে সিরিজ জিতলে আসলে হারা দলের সেখানে কাউকে পাওয়া মুশকিল। রান তোলার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। তিন ম্যাচে ৫৯ গড় আর ১৩৫ এর উপর স্ট্রাইক রেটে তাঁর ঝুলিতে ১১৮ রান। সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেছেন ২য় ম্যাচে।

এরপরই আছেন আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ। তিন ম্যাচে ৩০ গড়ে তুলেছেন ৯০ রান। সর্বোচ্চ ৪০ রান এসেছে প্রথম ম্যাচে। একজন বাংলাদেশি আছেন সেরা তিনে। তিনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৮৮ রান নিয়ে আছেন তিনে। শেষ ম্যাচে আসে সেরা ৪৫ রানের ইনিংস যদিও হারতে হয়েছে ম্যাচটা। মাঠ ছেড়েছেন মলিন মুখে।

বোলিংয়ের দিকে গেলে সবার উপরে সিরিজসেরা রশিদ খান। প্রতিটা ম্যাচই যেন রাশিদ খানের কাছেই হেরে গেছে বাংলাদেশ। মাত্র ৪.৪৫ ওভারপ্রতি রান খরচ করে ১১ ওভার বল করে তুলে নিয়েছেন ৮ উইকেট। ২য় ম্যাচে করেছেন সেরা বোলিং। চার উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১২ রান খরচায়।

এরপর দুই ও তিন নম্বরে আছেন যথাক্রমে মোহাম্মদ নবী ও শাপুর জাদরান। তিন ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছেন নবী। ওভারপ্রতি রান খরচ করেছেন মাত্র ৫ করে। দুই ম্যাচে চার উইকেট শাপুর জাদরানের। তবে বেশ  খরুচের ছিলেন এই দীর্ঘদেহী বোলার। ইকোনমি ছিল দশের কিছুটা বেশি।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি তিন উইকেট নিতে পেরেছেন আবু জায়েদ রাহি। তিন ম্যাচে ৮.৭১ ইকোনমিতে নিয়েছেন তিন উইকেট। এছাড়া বেশ কয়েকজনই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। বোলিং আর ব্যাটিং দুটিতেই বেশ পিছিয়ে থাকায়ই ভরাডুবি বাংলাদেশের।
1 of 1

Related Articles

ছুটি কমেছে টাইগারদের

শৃঙ্খলার জন্য বাদ পড়েছিলেন সাব্বির!

শীর্ষে রশিদ, উন্নতি রিয়াদ-মুশফিকের

ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে তিন পরিবর্তন

‘এটা খুবই হতাশাজনক’