ব্রাদার্সকে বিশাল জয় এনে দিল জুনায়েদের শতক

ব্যাটিংয়ে ১২৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের জুনায়েদ সিদ্দিকী। তাকে সঙ্গ দেন মাইশুকুর রহমান। মাত্র ৪ রানের জন্য শতক হাঁকাতে পারেননি মাইশুকুর। এ দুইজনের ব্যাটে চড়ে ৩১৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। জবাবে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র গুটিয়ে যায় ১৮৬ রান করেই।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। শুরুটা সুখকর ছিল না ব্রাদার্স ইউনিয়নের জন্য। ওপেনিং জুটি ভেঙে যায় মাত্র ৮ রানেই। আবুল হাসানের বলে তাসামুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মিজানুর রহমান (৮)।

Advertisment

তাসামুলের বিদায়ের পর মাইশুকুর রহমানকে সাথে নিয়ে হাল ধরেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। দুই ওপেনার মিলে গড়েন ২০৫ রানের জুটি। এ জুটিতে ভর করে বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে যায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। দলীয় ২১৩ রানের মাথায় এ জুটি ভাঙেন মাহমুদুল হাসান। ১৬ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ১১১ বলে ১২৩ রানের ইনিংস খেলেন জুনায়েদ সিদ্দিকী।

এরপর মুক্তার আলি ফেরান মাইশুকুর রহমানকে। ১২১ বলে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন মাইশুকুর। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ৩ ছক্কা। অধিনায়ক অলক কাপালির ব্যাট থেকে আসে এক সময়োপযগী ইনিংস। ২ চার ও ২ ছক্কা সমৃদ্ধ ১৯ বলে ২৬ রান তৈরি করে বিদায় নেন কাপালি। শেষদিকে ঝড় তোলেন ইয়াসির আলি এবং অভিষেক রহমান। ২৫ বলে ৪৮ রানের জুটি গড়েন দুজন। তাদের হার্ডহিটিং ব্যাটিংয়ে ভর করে তিনশ’ রানের চৌকাঠ পার করে ব্রাদার্স ইউনিয়ন।

১ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন অভিষেক রহমান। ২ চার এবং ১ ছক্কায় ১৬ বলে ৩০ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন ইয়াসির আলি। ৫০ ওভার শেষে ৩১৭ রান করে থামে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। মাত্র চারটি উইকেটের পতন ঘটে ব্রাদার্স ইউনিয়নের। একটি করে উইকেট লাভ করেন আবুল হাসান রাজু, মুক্তার আলি এবং মাহমুদুল হাসান।

বড় লক্ষ্য তারা করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। ১৭ রান করতেই দুই ব্যাটসম্যানকে হারায় কলাবাগান। তৃতীয় ওভারে মাত্র ৭ রান করে পেসার খালেদ আহমেদের বলে উইকেটরক্ষক শাকিল হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন জসিমউদ্দিন।

পরের ওভারেই মোহাম্মদ আশরাফুলকে বোল্ড করেন সোহরাওয়ার্দী শুভ। গত ম্যাচে শতক হাঁকানো আশরাফুল এ ম্যাচে বিদায় নেন রানের খাতা খোলার আগেই। ওপেনার তাসামুল হক আকবার-উর-রহমানকে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি গড়েন। তাদের জুটি ভাঙে তাসামুল হক রান আউট হলে। ৪৬ বলে ৪৪ রানের এক সম্ভাবনাময় ইনিংস খেলে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন তাসামুল হক। তার ইনিংসে ছিল ৭ চার।

এ জুটির পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। ৭৪/২ থেকে হয়ে যায় ১২৪/৭। ৫০ রান তুলতেই পতন ঘটে পাঁচ উইকেটের। মিডল অর্ডারে কোনো ব্যাটসম্যানই দৃঢ়তা দেখাতে পারেননি। ব্যাটসম্যানদের এমন ব্যর্থতায় ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে কলাবাগান।

দলীয় ৮৩ রানের মাথায় পতন ঘটে চতুর্থ উইকেটের। মেহেদি হাসান রানার বলে উইকেটরক্ষক শাকিলের হাতে ধরা পড়েন তাইবুর রহমান। ৪ বলে ৩ রান করেন তাইবুর। এরপর মাহমুদুল হাসান এবং আকবর যোগ করেন ১৭ রান। থিতু হওয়ার আগেই ফিরে যান মাহমুদুল হাসান। ৮ রান করে অলক কাপালির শিকার হন মাহমুদুল। মাহমুদুলের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকেননি আকবর। ১০৭ রানের মাথায় সোহরাওয়ার্দী শুভ’র বলে বোল্ড হন আকবর। ২ চারে ৫৩ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

আবুল হাসান রাজু এবং কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের অধিনায়ক মুক্তার আলি আরো ১৭ রান যোগ করেন। ৪১ বল ক্রিজে থাকলেও ১১ রানের বেশি করতে পারেননি আবুল হাসান। শাখাওয়াত হোসেনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি।

অষ্টম উইকেট জুটিতে রাহাতুল ফেরদৌসকে সাথে নিয়ে ৪০ রানের জুটি গড়েন মুক্তার আলি। এ জুটি শুধুমাত্র পরাজয়ের ব্যবধানই কমায়। জুটিতে অবশ্য মুক্তার আলির ব্যাট থেকেই এসেছে অধিকাংশ রান। রাহাতুলের অবদান ছিল ৫। ২৫ বলে ৫ রান করে সাখাওয়াতের দ্বিতীয় শিকার হন রাহাতুল। সঞ্জিত সাহা ও নাহিদ হাসান দুইজনই ফিরেন দুই রান করে। মাত্র ১৮৬ রান করেই গুটিয়ে যায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। ২ চার এবং ৬ ছক্কায় ৫৯ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেও মুক্তার আলি ফিরেন পরাজয়ের স্বাদ নিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৩১৭/৪, ৫০ ওভার
জুনায়েদ ১২৩, মাইশুকুর ৯৬, ইয়াসির ৩০*
মাহমুদুল ১/৩৯, আবুল ১/৫৪

কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ১৮৬/১০, ৪৫ ওভার
মুক্তার ৬২*, তাসামুল ৪৪, আকবর ৩৫
শুভ ৩/৩৯, রানা ২/৩১, শাখাওয়াত ২/৩১

ম্যাচসেরাঃ জুনায়েদ সিদ্দিকী 


আরো পড়ুন ঃ “মাশরাফির ভাবমূর্তির কারণেই এত সাড়া পেয়েছি”