অলরাউন্ডার তাইজুল জেতালেন মোহামেডানকে

বোলিংয়ে ছিলেন দারুণ, শিকার করেছেন তিন উইকেট। অবদান রেখেছেন ব্যাট হাতেও। ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৬ বলে ৩৫ রানের এক কার্যকরী ইনিংস খেলে নিশ্চিত করেছেন দলের জয়। তাইজুল ইসলাম এমন অলরাউন্ড নৈপুণ্যই দেখিয়েছেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে।

Advertisment

সাভারের বিকেএসপিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না প্রাইম ব্যাংকের। ইনিংসের প্রথম ওভার হয় মেইডেন। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই প্রথম উইকেটের পতন। ০ রান করে বিপুল শর্মার বলে বোল্ড হন শানাজ আহমেদ। শুরু থেকেই মন্থর গতিতে রান সংগ্রহ করছিল প্রাইম ব্যাংক। তার সাথে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন। সব মিলিয়ে চাপে পড়ে যায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।

ইনিংসের সপ্তম ওভারে দলকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তাইজুল ইসলামের বলে আল-আমিন হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন জাকির হাসান। মাত্র ৮ রান করেন জাকির। এক বল পরেই আরেক ওপেনার মেহেদি মারুফকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। ৫ রান করে তাইজুলের বলে বোল্ড হন মেহেদি মারুফ।

নিজের পরের ওভারে আবারো আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। এবার ফেরান ভারতের অলরাউন্ডার ইউসুফ পাঠানকে। রানের খাতা খোলার আগেই উইকেটরক্ষক ইরফান শুক্কুরকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ইউসুফ। পরের ওভারে নাহিদুলকে ফেরান বিপুল শর্মা। ১ রান করেই বিদায় নেন নাহিদুল।

ব্যাটিংয়ে চরম বিপর্যয় নেমে আসে প্রাইম ব্যাংকের। দলীয় ১৭ রানের মাথাতেই অর্ধেক উইকেট নেই। তাইজুল ইসলাম ও বিপুল শর্মার ঘূর্ণিতে পাঁচ ব্যাটসম্যান প্রথম দশ ওভারেই পরাস্ত হন।

এরপর সাজ্জাদুল হককে নিয়ে আল-আমিন যোগ করেন ১৯ রান। দলীয় ৩৬ রানের মাথায় সাজ্জাদুল ফিরে যান শুভাশিষের বলে। এরপর সাজ্জাদুল এবং আল-আমিন যোগ করেন ১৬১ রান। তাদের এ বিশাল জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। এ জুটি ধ্বংসস্তুপ থেকে তুলে আনে প্রাইম ব্যাংককে। ১৬১ রানের এ জুটির সুবাদে দুইশ’ রানের চৌকাঠ পার করতে সমর্থ হয় প্রাইম ব্যাংক। ৩৬ রানে ৬ উইকেট পতনের পর যখন সম্মানজনক স্কোরের কথা ভাবছে প্রাইম ব্যাংক তখন এ জুটি এনে দিয়েছে লড়াই করার মতো পুঁজি।

আল-আমিনকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন কাজী অনিক। ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১১০ রান করেন আল-আমিন। এরপর দেলোয়ার হোসেনকে নিয়ে আরো ৪৬ রান যোগ করেন আরিফুল হক। ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ১০০ বলে ৮৭ রান করেন আল-আমিন। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৪ বলে ২৫ রানের দ্রুতগতির ইনিংস খেলেন দেলোয়ার। ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৫৯ রান করে প্রাইম ব্যাংক।

জবাবটা ব্যাট হাতে ভালোই দিচ্ছিল মোহামেডান। ওপেনিংয়ে জনি তালুকদার এবং রনি তালুকদার মিলে দলকে ৬০ রানের ভিত গড়ে দেন। তবে দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে মোহামেডান। দলীয় ৬০ রানের মাথায় দেলোয়ার হোসেন ফিরিয়ে দেন জনি তালুকদারকে। ৩৫ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন জনি। রুবেল হোসেন বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন শামসুর রহমানকে (০)।  ইরফান শুক্কুরকে সাথে নিয়ে ২৪ রান যোগ করেন রনি তালুকদার।

৬০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ফিরে যান রনি। দেলোয়ার হোসেনের দ্বিতীয় শিকার হন রনি। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ইরফান শুক্কুর। ১৭ বলে ১২ রান করে এলবিডব্লিউ হন আরিফুল হকের বলে। রকিবুল হাসানকে সাথে নিয়ে ৭০ রানের জুটি গড়েন আমিনুল ইসলাম। ৫৯ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে রান আর বলের টানাপোড়েন কমিয়ে দেন রকিবুল। এ জুটিতে কিছুটা চাপমুক্ত হয় মোহামেডান।

এ জুটি ভাঙেন রুবেল। ফিরিয়ে দেন আমিনুলকে। ২৭ বলে ২৫ রান করেন আমিনুল। এরপর আবার নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতন। ১৭৮ রানের মাথায় বিপুল শর্মা এবং ২০৫ রানের মাথায় রকিবুল হাসান চলে যান সাজঘরে।

এরপর হাল ধরেন এনামুল হক ও তাইজুল ইসলাম। দুজন মিলে যোগ করেন ৫৫ রান। এ জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মোহামেডান। ৩৩ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলেন এনামুল হক। তার ইনিংসে ছিল ২ চার। অপর প্রান্তে তাইজুল ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ৩৫ রান করে। ৩৬ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন তাইজুল ইসলাম। দুজনের দারুণ ইনিংসে তিন উইকেটে জয়লাভ করে মোহামেডান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ২৫৯/৯, ৫০ ওভার
আল-আমিন ১১০, আরিফুল ৮৭, দেলোয়ার ২৫
তাইজুল ৩/৫৩, বিপুল শর্মা ২/৪৩, অনিক ২/৪৭

মোহামেডান ২৬০/৭, ৪৮.৫ ওভার
রকিবুল ৬৪, রনি ৬০, তাইজুল ৩৫
রুবেল ২/৪১, দেলোয়ার ২/৪৯, আরিফুল ১/৩৭

আরও পড়ুনঃ জোড়া সেঞ্চুরিতে খেলাঘরের বড় জয়