Scores

আকরামের কাছে সুজনের নামে নালিশ দেন ওয়াসিম

খালেদ মাহমুদ ও ওয়াসিম আকরামের মধ্যে ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বীতা তৈরি করে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন একজন ইংলিশ বোলিং কোচ। তার পরামর্শেই ওয়াসিমকে চোখ রাঙানি দিয়েছিলেন সুজন। সেদিনের সেই গল্প সুজন জানিয়েছেন বিডিক্রিকটাইমের  বিশেষ সরাসরি আড্ডায়।

বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সরাসরি আড্ডায় শোনা গিয়েছিল, সুজন ও ওয়াসিমের প্রতিদ্বন্দ্বীতার কথা। সেদিন সুজন অনেক স্লেজিং করেছিলেন বলে শোনা যায়। কিন্তু এই সাবেক অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, মুখে কথা বলে স্লেজিং নয়, চোখ রাঙানি দিয়েই ওয়াসিমকে চেতিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এই বুদ্ধিটা তাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন বোলিং কোচ।

Also Read - লিটন-সৌম্য 'বোবা', 'চালু' করতে হবে : সুজন


সুজন বলেন, ‘আসলে আমি ওরকম কোনো স্লেজিং করিনি। কিন্তু ওয়াসিমের সাথে আমার চোখ রাঙানি চলছিল। এটা আমি শিখেছিলাম আমাদের একজন ইংলিশ বোলিং কোচের কাছে। আমি নেটে বল করছিলাম, বিদ্যুৎ ব্যাটিং করছিল। বিদ্যুৎ একটা ড্রাইভ করলে আমি গুড শট বলেছিলাম।’

‘তখন কোচ আমাকে বলে তুমি ম্যাচেও কী ব্যাটসম্যানকে এটা বলবে? আমি বললাম অবশ্যই না। পারলে আমি গালি দিবো। তখন ও বললো গালি দেয়ার দরকার নেই। তুমি চোখের সাথে চোখ মেলাও। তখন বিদ্যুৎকেও ওটা করতে বলে। আমি পরের বলেই বিদ্যুৎকে করি।’

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করতে নামে পাকিস্তান। দ্রুতই প্রতিপক্ষের টপ অর্ডারের ৩টি উইকেট শিকার করেন সুজন। ৪২ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। তখন থেকেই ওয়াসিমকে রাগানো শুরু করেন তিনি।

ওয়াসিমও সুজনকে প্রত্যুত্তর দিয়েছিল, ‘এই কাজটা আমি ওয়াসিম আকরামের সাথে করেছিলাম। তখন আমি ৩ উইকেট পেয়ে গিয়েছিলাম, পাকিস্তান চাপে ছিল। ওয়াসিম ড্রাইভ করে, কাভারে যায় কিন্তু রান হয় না। আমি ওভাবে তাকাই। তখন ও এসে আমাকে বলে যে তুই আমার দিকে চোখ রাঙাস কেন? আমি কোনো উত্তর না দিয়ে আস্তে করে চলে যাই।’

এক পর্যায়ে বেশি রেগে যেয়ে বাংলাদেশের আকরাম খানকে ডেকে তার কাছে সুজনের নামে নালিশ জানিয়েছিলেন ওয়াসিম। তখন আকরাম সুজনকে ৩০ গজের বাইরে ফিল্ডিং করতে পাঠিয়ে দেন।

সুজনের ভাষায়, ‘পরে আমি বলেছিলাম, তখন ও আমাকে একটা গালি দিয়ে, আমাকে চোখ রাঙাস? তখন ও উত্তেজিত হয়ে যায়। তারপর আমাকে একটা চার মারে। তারপর আকরাম ভাইকে ডেকে বলে, তোমাদের ছোটু আমাকে চোখ রাঙাচ্ছে। আমি ওকে মেরে দিবো কিন্তু। আকরাম ভাই আমার কাছে জিজ্ঞেস করছিল ঘটনা কী। আমি কিছু বলিনি। আমি জানতাম যে ও তো আর আমাকে মাঠে মারতে পারবে না।

এই সাবেক ক্রিকেটার আরও যোগ করেন, ‘আকরাম ভাই আমাকে দূরে ফিল্ডিংয়ে পাঠিয়েছিল। তার ২ ওভার পরেই ওয়াসিম আকরাম আউট হয়। আমাকে গালি দিতে দিতে মাঠে থেকে গিয়েছে। এটা ও অনেক দিন মনে রেখেছে।’

তবে পরে ওয়াসিমের সাথে অনেক ভালো সম্পর্ক হয়েছে বলে জানান সুজন। এই সাবেক ক্রিকেটার জানান, পাকিস্তানি অলরাউন্ডারের কাছে থেকে তিনি অনেক কিছুই শিখেছেন,

‘পরে ওয়াসিম ভাইয়ের সাথে অনেক ভালো সম্পর্ক হয়েছে। অনেক মজার মজার কাছে হয়েছে। ওনার কাছে আমি অনেক কিছু শিখেছি। বল টেম্পারিংয়ের কথা জিজ্ঞেস করতাম, কীভাবে বল বানায় করে, উনি হাসতেন। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সাথে আমাদের একটা ভালো সম্পর্ক ছিল কিন্তু মাঠে কখনো ছাড় দিতাম না।’

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের সেই কথা অনেক দিন মনে রেখেছিলেন ওয়াসিমরা। বিশ্বকাপের পরে বাংলাদেশের বিপক্ষে এক ম্যাচে সুজনকে আউট না করে বাউন্সার দিয়ে শুধু মারার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। কিন্তু সুজন কখন আউট হয়ে ফিরে গিয়েছিল সেটাই বুঝতে পারেননি ওয়াসিম। পরে খালেদ মাসুদ পাইলটের কাছে জিজ্ঞেস করে সেই কথা বলেছিলেন সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক।

খালেদ মাহমুদ সুজনের সরাসরি আড্ডাটি দেখুন এখানে :

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

ক্রিকেটারদের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নেবে না বিসিবি

ঈদের পরই টাইগারদের অনুশীলন ক্যাম্প, তবে…

তামিম-মুশফিকদের বাধ্যবাধকতা নেই, স্মিথ-ওয়ার্নারদের জন্য চিরস্থায়ী!

তামিম-আকবরদের জন্য মনোবিদের ভাবনা বিসিবির

আক্রান্ত হলে দায় নিতে হবে ক্রিকেটারদের