Scores

আফগানদের উড়িয়ে দিয়েও বাদ পড়ে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিরতিতে তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোচিত কিছু ম্যাচ, ঘটনা ও খেলোয়াড়দের কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য ব্যর্থতার ব্যাপারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচনায় থাকছে- ২০১৪ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের কথা।

আফগানদের উড়িয়ে দিয়েও বাদ পরে বাংলাদেশ, কোয়ালিফাই করে আফগানরা
প্লেট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর যুবারা।

 

Also Read - পিছিয়ে গেল আশরাফুলের ব্যাটের নিলাম


২০১৪ সালের বিশ্বকাপের খেলোয়াড়দের কথা বলতে গেলে শুরুতেই মনে আসবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্যের কথা। বিশ্বকাপে মাত্র একটি ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। একটি ম্যাচ হারের ফলেই বাংলাদেশকে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়। যা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি সেই সময়।

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের কথা আসলেই মনে আসে আগের ব্যাচগুলোর সাফল্যের কথা। ২০১৮তে আফিফ-নাইমদের কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৬তে ঘরের মাঠে মিরাজদের তৃতীয় হওয়া। ২০১৬ কিংবা ২০১২তে পাকিস্তানকে হারিয়ে সপ্তম হিসেবে শেষ করা এইরকম অনেক আলোচনাই উঠে আসে। কিন্তু ২০১৪ বিশ্বকাপের কথা আসেনা কখনো।

২০১৪ বিশ্বকাপের দল কি তাহলে খারাপ ছিল? মোটেও না। সেই বিশ্বকাপের দুই তৃতীয়াংশ খেলোয়াড় জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন। তারপরও কেনো সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়তে হয়?

সেই বিশ্বকাপ আসলেই বাংলাদেশ দলের জন্য দুর্ভাগ্যের ছিল। বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবে আরব আমিরাতে যায় বাংলাদেশ দল। প্রস্তুতি ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে উড়িয়ে দেয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও প্রস্তুতি ম্যাচে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ দল।

প্রস্তুতি ম্যাচের ফর্ম গ্রুপ পর্বেও ধরে রাখে যুবা টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য সাদমান ইসলাম শতক করেন সেই ম্যাচে। পরের ম্যাচে নামিবিয়াকেও হারায় বাংলাদেশ।

২ ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া যখন নিশ্চিত মনে হচ্ছিল তখনই ঘটে বিপত্তি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন আফগানিস্তান হারিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে, যা তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারলে পয়েন্ট সমান হলেও রানরেটের মারপ্যাঁচে বাদ পড়তে হয় বাংলাদেশকে। আফগানিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া কোয়ালিফাই করে কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য। সেই ম্যাচেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন সাদমান ইসলাম।

পরবর্তীতে স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলোতেও বাংলাদেশ ভালো করে। প্লেট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ৯ম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে বাংলাদেশ দল। সেই ম্যাচে সাদমান খেলেন ৯৭ রানের ইনিংস। ঐ আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন বাংলাদেশের সাদমান ইসলাম। স্বপ্নের মতো এক বিশ্বকাপ কাটান তিনি।

ঐ বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে পরবর্তীতে জাতীয় দলে জায়গা পান লিটন দাস, সাদমান ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদি হাসান মিরাজ, আবু হায়দার রনি, ইয়াসির আলী, জাকির হাসান, জুবায়ের হোসেন লিখন ও নাজমুল হাসান শান্ত। রানরেটের মারপ্যাঁচে বেশি দূরে না যেতে পারলেও জাতীয় দলে এত খেলোয়াড় দেওয়া প্রমাণ করে সেই দলটির প্রতিভা।

Related Articles

মুশফিককে বল করতে ভয় পান রনি ও শফিউল

সেই স্কোয়াডের ‘৯ জন’ জায়গা পান জাতীয় দলে

হাসান-রনির বোলিং তোপে শিরোপা জয়ের হাতছানি পূর্বাঞ্চলের

তবু বোলিংয়েই রনির মনোযোগ

রোমাঞ্চকর শেষ ওভার নিয়ে মুখ খুললেন রনি