Scores

ইনজুরির কাছে বিশ্বকাপ স্বপ্নের পরাজয়, প্রত্যাশা সফল ভবিষ্যতের

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে এইবারের বাংলাদেশ দলটিকে ভাবা হচ্ছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব ১৯ ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল। কারন এই দলটির লাগাতার দারুন পারফরম্যান্স দেশ ও দেশের বাইরে। টানা ২ বছর ধরে এই দলটিকে গড়ে তোলা হচ্ছিল এই বিশ্বকাপের জন্য। ইংল্যান্ডে, নিউজিল্যান্ডে ও শ্রীলঙ্কায় সিরিজ খেলে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের আগে। সকল জায়গাতেই ভালো পারফরম্যান্স করে দেখায় বাংলাদেশের যুবারা। এর আগে অন্য কোন বাংলাদেশী যুব দল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে এত দাপুটে পারফরম্যান্স করে দেখাতে পারেনি।

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ : বোলিংয়ে বাংলাদেশের বড় ট্রাম্পকার্ড মৃত্যুঞ্জয়
এবারের দলের সাথে বিগত দলগুলোর পার্থক্য ছিলো বোলিং লাইন আপে। পেসারদের ছড়াছড়ি এই দলে ও তাদের লাগাতার সাফল্যেই বাংলাদেশ এই রকম ফল পায়। বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্টের যুবাদের মাঝে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় যে বোলার ছিলো সে হলো মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। এই পেস সেনসেশনের উপর ছিলো ভক্তদের আগাধ প্রত্যাশা। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে পুরনো ইনজুরি আবার ফিরে আসায় বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে মৃত্যুঞ্জয়ের।

মৃত্যুঞ্জয়ের ইনজুরি সমস্যা সেই নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকেই। কাঁধের ইনজুরির জন্য নিউজিল্যান্ড সিরিজের মাঝপথ থেকেই একাদশের বাইরে ছিলেন মৃত্যুঞ্জয়। দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজও খেলা হয়নি মৃত্যুঞ্জয়ের। শঙ্কা ছিলো বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া নিয়েও। তবে শেষ পর্যন্ত শঙ্কা কাটিয়ে বিশ্বকাপ খেলার মত ফিট হন।

Also Read - টেস্ট দলে ফিরছেন তামিম, তাসকিন


বিশ্বকাপে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা না হলেও বিশ্বকাপের মূল ম্যাচগুলোতে ফিট হয়ে একাদশে জায়গা করে নেন মৃত্যুঞ্জয়। জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরে ভালো বোলিংও করেন তিনি। তবে ইনজুরির খারাপ সংবাদটি আসে এরপরই।


পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তার কাঁধের ইনজুুরি পুনরায় ফিরে আসে। তাই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের নির্বাচকরা পুনরায় আর ঝুঁকি নেননি। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ২ ম্যাচ পরই শেষ হয় মৃত্যুঞ্জয়ের বিশ্বকাপের সেরা বোলার হওয়ার স্বপ্ন। তার জায়গায় স্কোয়াডে জায়গা পান সিলেটের রুয়েল মিয়া।

কাঁধের ইনজুরির কারনে দেশে ফিরে আসবেন মৃত্যুঞ্জয় ও ভবিষ্যতে সার্জারির সম্ভাবনাও রয়েছে। এর জন্য লম্বা সময় থাকতে হতে পারে মাঠের বাইরে।

অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হওয়া ম্যাচে অসাধারণ বোলিং করে ভক্তদের নজরে প্রথমবারের মতো আসেন মৃত্যুঞ্জয়। তার বোলিং স্টাইলের প্রশংসায় সয়লাব ছিলো সোশ্যাল মিডিয়ায়।

তরুণ এই বোলারের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ স্বপ্ন হয়তো এইখানেই শেষ হয়ে গেল। তবে ভক্ত-সমর্থকদের আশা থাকবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে শীঘ্রই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে আসবেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। নিজের তরুণ অবস্থায় বিশ্বকাপ মাতানোর স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাওয়ার শোককে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে একদিন জাতীয় দলের হয়েই হয়তো কোনো এক বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বোলিংয়ের নেতৃত্বে দিবেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

Related Articles

বিশ্বকাপজয়ী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নতুন স্কোয়াড ঘোষণা

করোনায় যুবাদের ছন্দভঙ্গ, মৃত্যুঞ্জয়ের চোট-পুনর্বাসন বাড়িতেই

বিশ্বকাপজয়ী যুবাদের জন্য বিসিবির ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা

বিশ্বকাপজয়ী যুবাদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা দেওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত

আকবর-ইমনদের লাখ টাকা পুরষ্কার বিকেএসপির