এশিয়া কাপে খেলার দৌড়ে এগিয়ে ওমান-আরব আমিরাত

সেপ্টেম্বরেই শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপ। আর এজন্য টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে বেশ ভালোভাবেই এগুচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত এবং ওমান। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এসে জয় তুলে নিয়েছে দু’দুলোই। তবে এবারও জয় বঞ্চিত থেকে কয়েক মাস আগেই ওয়ানডের স্ট্যাটাস পাওয়া নেপাল।

নেপাল বনাম আরব আমিরাতঃ

টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচে কুয়ালালামপুরে আরব আমিরাত মুখোমুখি হয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালের। প্রথম ম্যাচের মত এই ম্যাচেই হারের মাধ্যমে এশিয়া কাপে খেলার সমীকরণ কঠিন করে তুললো নেপাল। অন্যদিকে ম্যাচে নেপালকে ৭৮ রানে হারিয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে আমিরাত।

প্রথমে টসে জিতে আরব আমিরাতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান খাদকা। শুরুতেই আরব আমিরাতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার আশফাক আহমেদ ও চিরাগ সুরি। আশফাককে ৪৫ রানে আউট করে ৭০ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙ্গেন রেমি। তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক রোহান মুস্তাফাকে বিধ্বংসী হওয়ার আগেই মাত্র ১ রানে প্যাভিলিয়নে পাঠান নেপালের ওয়ান্ডার বোলার লামিসানে।

Also Read - "একাধিক বিয়ে করলে বিসিবির কিছু করার নেই"


দলের খেলোয়াড়দের এক প্রান্তে আসা যাওয়ার মাঝেই ফিফটি তুলে নেন চিরাগ সুরি। ৯১ বলে ৭টি চার এবং একটি ওভার বাউন্ডারির মাধ্যমে ৬১ রান করে রানআউটের শিকার হন তিনি। শেষ দিকে আফগান মুফতি ৪৬ বলে দ্রুত ৫৭ রান করলে ২৫৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায় আরব আমিরাত। নেপালিদের হয়ে ১০ ওভারে ২৪ রানের খরচায় ৪ উইকেট নেন লামিসানে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার খাকুরেল ছাড়া আর তেমন কোন নেপালি ব্যাটসম্যান আমিরাত বোলারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। খাকুরেল ৫০ এবং মিডল অর্ডারে আরিয়ে ৪০ রান করে নেপালকে হারের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করেন। নেপালিদের মাত্র ৫ জন ব্যাটসম্যান দু অঙ্কের ঘরে রান করতে পেরেছেন। আমিরাতের হয়ে আহমেদ রেজা ৪টি এবং মোহাম্মাদ নাভেদ ৩টি উইকেট নেন।

হংকং বনাম সিঙ্গাপুরঃ

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে একদম দাঁড়াতেই দেয়নি হংকং। সিঙ্গাপুরকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় তারা।

এশিয়া কাপে খেলার দৌড়ে এগিয়ে ওমান-আরব আমিরাত

টস জিতে প্রথমে সিঙ্গাপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আনশুমান রাথের দল। ২৫ রানের ভেতরেই সিঙ্গাপুর ৪ উইকেট হারিয়ে শঙ্কা জাগায় একশোর নিচে অলআউট হওয়ার। সুরানশাম এবং গাজনাভি প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিলেও ৬৭ রানের ভেতর এই দুজনকেও প্যাভিলিয়নে পাঠায় হংকং। ৬ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকা সিঙ্গাপুরকে সম্মানজনক সংগ্রহে পৌছে দেন অভিরাজ সিং। তার ৭১ বলে ৪২ এবং ৯ নম্বরে নামা সুনিলের ২৮ রানে ভর করে ১৫০ রান সংগ্রহ করে সিঙ্গাপুর। হংকংয়ের হয়ে ৪টি উইকেট নেন নাদিম।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারালেও খেই হারাতে দেননি পরবর্তী ব্যাটসম্যানরা। কিঞ্চিত সাহ ৪২ এবং নিজাকাত খান ৩৬ রান করে ৯৪ বল হাতে থাকতেই হংকংয়ে জয়ের বন্দরে পৌছে দেন।

মালয়েশিয়া বনাম ওমানঃ

প্রথম ম্যাচে হংকংকে হারিয়ে দাপুটের সঙ্গে বাছাইপর্ব শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে এসেই হোঁচট খেল স্বাগতিক মালয়েশিয়া। ওমানের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ২ উইকেটে পরাজয় বরণ করে নেয় তারা।

এশিয়া কাপ ২০১৮

টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন ওমান অধিনায়ক। প্রথম ওভারেই মালয়েশিয়ার ওপেনার শফিক শরীফকে শূন্য রানে ফিরিয়ে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন বিলাল খান। ৩৯ রানের ভেতর ৩ উইকেট হারিয়ে কিছূটা বিপাকে করে স্বাগতিকরা। এসময় দলের হাল ধরেন ভিরান্দাপ সিং। ১১০ বলে ৭৪ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। শেষ দিকে মোহাম্মাদ আনোয়ার ২৩ রান করলে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানের পুঁজি পায় তারা। ওমানের হয়ে বিলাল খান এবং ফাইয়াজ বাট ৩টি করে উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আকিব ইলিয়াসকে শুরুতেই ৭ রানে হারিয়ে বিপদে পড়ে ওমান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৩৭ রানের জুটি গড়ে বিপদ সামাল দেন জতিন্দর সিং এবং ওয়াটগোনকোর। ওয়াটগোনকোর ৩৯ রান করে আউট হলে আবারও হারের শঙ্কা জাগায় ওমান। কিন্তু লালচেতাই মালয়েশিয়ার আসল সর্বনাশটি করেন। ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে ২ উইকেট এবং ৪ বল হাতে রেখে ওমানকে বাছাইপর্বের দ্বিতীয় জয় এনে দেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। মালয়েশিয়ার হয়ে আব্দুল রশিদ নেন ৪ উইকেট।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন