কোহলি-রোহিতের ব্যাটে চড়ে সিরিজ জিতল ভারত

পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজের প্রথম চার ম্যাচে দুই দল জিতেছিল দুইটি করে। তাই পঞ্চম ম্যাচ রূপ নেয় ফাইনালে। সিরিজ নির্ধারণী সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩৬ রানে হারিয়ে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ভারত।

কোহলি-রোহিতের ব্যাটে চড়ে সিরিজ জিতল ভারত

Advertisment

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। ওপেনিংয়ে রোহিত শর্মার সঙ্গে ইনিংস সূচনা করতে নামেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। শুরু থেকেই কোহলি ও রোহিত দ্রুত রান তুলতে থাকেন। পাওয়ারপ্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬০ রান সংগ্রহ করে ভারত। কোহলি-রোহিতের এ জুটি ভাঙেন বেন স্টোকস, বোল্ড করেন রোহিতকে। তবে যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন রোহিত। ৪ চার এবং ৫ ছক্কায় ৩৪ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি।

ব্যাটিংয়ে নেমেই ঝড় তুলেন সূর্যকুমার যাদব। আদিল রশিদের করা দশম ওভারে হাঁকান দুই বলে দুই ছক্কা। এক ওভার পর ক্রিস জর্ডানের বলে যাদব মারেন তিন বলে তিন চার। কোহলি-যাদবের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভারতের রান তোলার হার উঠে যায় ওভারপ্রতি ১১ রানের কাছাকাছি। ১৭ বলে ৩২ রান করে আদিল রশিদের বলে আউট হন যাদব।

এরপর হার্দিক পান্ডিয়া আর বিরাট কোহলি ঝড় অব্যহত রাখেন। তাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২২৪ রানের পাহাড়সম স্কোর দাঁড় করায় ভারত। ৫২ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন বিরাট কোহলি। তার ইনিংসে ছিল ৭ চার আর ২ ছক্কা। আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে এটি কোহলির অধিনায়ক হিসেবে ১২ তম এবং সবমিলিয়ে ২৮ তম অর্ধশতক। আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে এখন সর্বোচ্চ অর্ধশতকের মালিক কোহলি।

অপর প্রান্তে অপরাজিত থাকা হার্দিক পান্ডিয়া ১৭ বল মোকাবেলা করে রান করেছেন ৩৯। তার ইনিংসে ৪ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কা। ইংলিশ বোলারদের মধ্যে পঞ্চাশের বেশি রান দিয়েছেন মার্ক উড আর ক্রিস জর্ডান। সবচেয়ে কম খরুচে বোলার আদিল রশিদের ইকোনমি রেট ৭.৭৫।

রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ভুবনেশ্বর কুমারের বলে বোল্ড হন ইংল্যান্ডের ওপেনার জেসন রয়। রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফিরে যান রয়। প্রথম ওভারে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন জস বাটলার আর ডেভিড মালান। তাদের ১৩০ রানের জুটিতে ম্যাচে ফিরে আসে ইংল্যান্ড। এ জুটিটাও ভাঙেন ভুবনেশ্বর কুমার। ২ চার আর ৪ ছক্কায় ৩৪ বলে ৫২ রান করা জস বাটলার ক্যাচ দেন হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে।

ইংল্যান্ডের রানের লাগামটাও কিছুটা টেনে ধরেন ভুবনেশ্বর। এরপর এক ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন পেসার শার্দুল ঠাকুর। ৭ বলে ৭ রান করে জনি বেয়ারস্টো ক্যাচ দেন সূর্যকুমার যাদবের হাতে। ঐ ওভারেই বোল্ড হন মালান। ৯ চার আর ২ ছক্কায় ৪৬ বলে ৬৮ রান করেন মালান। এ ইনিংস খেলার পথে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কম ইনিংসে এক হাজার রান স্পর্শ করার রেকর্ড গড়েছেন মালান।

মালানের বিদায়ের পর বাকিরা কেউ ঝড় তুলতে পারেননি। পরের ওভারেই অধিনায়ক ইয়ন মরগান লং অনে থাকা লোকেশ রাহুলের হাতে ক্যাচ দেন। বেন স্টোকস করেন ১২ বলে ১৪ আর ক্রিস জর্ডান করেন ১০ বলে ১১। শেষদিকে স্যাম কারান ৩ বলে ১৪ রানের একটা ছোট্ট ক্যামিও ইনিংস খেললে ১৮৮ রানে থামে ইংল্যান্ড।

চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে দুই মূল্যবান উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভুবনেশ্বর। এছাড়া শার্দুল তিনটি এবং হার্দিক পান্ডিয়া ও টি নাটারাজান একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ ভারত ২২৪/২, ২০ ওভার
কোহলি ৮০*, রোহিত ৬৪, হার্দিক ৩৯*
স্টোকস ১/২৬, আদিল ১/৩১

ইংল্যান্ড ১৮৮/৮, ২০ ওভার
মালান ৬৮, বাটলার ৫২, কারান ১৪*
শার্দুল ৩/৪৫, ভুবনেশ্বর ২/১৫, হার্দিক ১/৩৪